দার্জিলিং আসনে বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন দেবে মোর্চা

দার্জিলিং আসনে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন খুই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। নইলে এই আসনে কোনও দলের পক্ষেই জেতা সম্ভব নয়। বিষয়টি তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা মানতে না চাইলেও হাওয়া বুঝেছে বিজেপি। তাই গতবার যশবন্ত সিংকে প্রার্থী করার সময় মোর্চা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিল বিজেপি। সমর্থন পাওয়ায় বিপুল ভোটে জিতেছিলেন যশবন্ত সিং।
গত ৫ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে। প্রাক্তন ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়াকে দার্জিলিং কেন্দ্রে টিকিট দেওয়া হয়। এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিমল গুরুং, রোশন গিরি, প্রদীপ প্রধান প্রমুখ প্রথম সারির মোর্চা নেতারা। প্রদীপ প্রধান সরাসরি বিবৃতি দিয়ে বলেন, "ফুটবলার হিসাবে বাইচুং ভুটিয়াকে একশোবার সমর্থন করব আমরা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে নয়। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে সম্মান দিতেন, তা হলে রাজ্যসভায় পাঠাতেন। লোকসভা ভোটে দার্জিলিং আসন থেকে দাঁড়ানোয় গোহারা হারবেন বাইচুং ভুটিয়া।"
মোর্চা নেতাদের রাগের কারণ ছিল দু'টি। প্রথমত, বাইচুংকে প্রার্থী করার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতারা পরামর্শ করেননি তাঁদের সঙ্গে। দ্বিতীয়ত, প্রার্থী হওয়ার পর সমর্থন চেয়ে একবারও বাইচুং ফোন করেননি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে। তাঁদের এই ক্ষোভে ঘৃতাহুতি দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, "গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা কি পাহাড়ে শেষ কথা নাকি? ওরা কে, যে ওদের সঙ্গে কথা বলতে হবে?"
তৃণমূলের সঙ্গে মোর্চা নেতাদের দূরত্ব বেড়েছে দেখে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি। দার্জিলিং আসন ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি নেতারা ফোন করেন বিমল গুরুং, রোশন গিরিকে। তার পরই এদিন বৈঠকের পর ঠিক হয়, দার্জিলিং কেন্দ্রে সমর্থন করা হবে বিজেপি প্রার্থীকে।
অসমর্থিত সূত্রের খবর, দার্জিলিং থেকে বিজেপি টিকিটে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন বাপি লাহিড়ী। যদিও তিনি নিজে কিছু জানাতে চাননি। বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং জানান, ওই আসনে কারও নাম চূড়ান্ত হয়নি এখনও।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে গৌতমবাবু এদিন বলেন, পাহাড় ও সমতলে বিভেদ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। বাংলাকে অখণ্ড রেখে পাহাড়ের উন্নয়নের কাজ চলবে। জিটিএ (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-র সঙ্গে রাজ্য সরকারের কোনও বিরোধ নেই।












Click it and Unblock the Notifications