পাহাড় থেকে নেমে তরাইয়ে হিংসায় মত্ত মোর্চা, জ্বালিয়ে দেওয়া হল সরকারি অফিস-বাংলো
সর্বদল বৈঠকের দিনেই মোর্চা নেতৃত্ব জানিয়েছিল, কোন নেতা সামনে থেকে নেতৃত্ব না দেওয়ায় লাগাম ছাড়া আন্দোলন চলছে পাহাড়ে। কর্মী-সমর্থকদের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকছে না নেতৃত্বের। তারই জেরে অশান্তি বাড়ছে।
পাহাড়ে অশান্তির আন্দোলন জারি রাখতে মুখে এক, কাজে আরেক করছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। দু'দিন আগে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে মোর্চা নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিল, আর অশান্তি নয়, এবার গোর্খাল্যান্ড দাবিতে শান্তির পথে আন্দোলন করবেন তাঁরা। বসবেন অনশনে। কিন্তু কোথায় কী! ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পাহাড়। পাহাড়ের আগুনে জ্বলছে শুরু করল তরাইও। আগুন শুকনার সরকারি অফিস-বাংলোতেও।
অভিযোগের তির সেই মোর্চার দিকে। বৃহস্পতিবার ফের দফায় দফায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় পাহাড়ের বিভিন্ন সরকারি অফিসে। শুকনা ফাঁড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ল্যান্ড রেভিনিউ কালেক্টর অফিসে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে মোর্চা। তারপর একে একে আগুন জ্বালানো হয় ধত্রেয় বনবাংলো, কালিম্পংয়ে তামাং বোর্ডের চেয়ারম্যান সঞ্জয় মোক্তানের বাড়ি ও ম্যালের টুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টারে।

এছাড়া তিস্তা বাজারে সিকিমগামী ১০টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় মোর্চা সমর্থকরা। এমনকী পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। পানিঘাটায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয়। পর্যটনমন্ত্রীকে আশ্রয় নিতে হয় ব্যাংডুবি সেনা ছাউনিতে। পরে তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যান।
সবকটি ঘটনাতেই অভিযোগের তির মোর্চা সমর্থকদের দিকে। যদিও মোর্চা নেতৃত্বের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের যুক্তি দুষ্কৃতীরা এই আগুন লাগাচ্ছে। বরং মোর্চার তরফে আগুন নেভানো হয়। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন এই যুক্তি মানছে না।
সর্বদল বৈঠকের দিনেই মোর্চা নেতৃত্ব জানিয়েছিল, কোন নেতা সামনে থেকে নেতৃত্ব না দেওয়ায় লাগাম ছাড়া আন্দোলন চলছে পাহাড়ে। কর্মী-সমর্থকদের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকছে না নেতৃত্বের। তারই জেরে অশান্তি বাড়ছে। মোর্চা নেতৃত্ব হিংসাশ্রয়ী করতে চাইছে না আন্দোলনকে। কিন্তু মোর্চা সমর্থকরা তাণ্ডব চালিয়েই চলেছে।
পুলিশ-প্রশাসন মনে করছে, মোর্চা নেতৃত্ব মুখে শান্তির পথে আন্দোলন চালানোর কথা বলছে। আর সমর্থকদের হিংসা জারি রাখার ইন্ধন দিচ্ছে। আসলে পাহাড়ে আগুন জ্বালিয়ে রাখতেই চাইছে মোর্চা। সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে শান্তির বাণী ছড়িয়ে অন্য দলগুলিকে হাতে রাখতে চাইছেন বিমল গুরুংরা।
মোর্চা নেতৃত্বের দাবি, আমরা পাহাড়ে গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালাচ্ছি। দুষ্কৃতীরা আগুন লাগাচ্ছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি, আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করা হোক। মোর্চাকে দোষী করার একটা ষড়যন্ত্র চলছে বলে মোর্চা নেতৃত্ব দাবি করেন এদিন।












Click it and Unblock the Notifications