তৃণমূলের ওপরে স্নায়ুর চাপ বাড়াতে যুক্তির পর যুক্তি খাড়া, রাজ্যে এখনই উপনির্বাচনের বিরোধিতায় বিজেপি
রাজ্যের সাতটি আসনে উপনির্বাচন (by election) নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মতামত জানতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (election commission)। ৩০ অগাস্টের মধ্যে সেই মতামত জানানোর কথা। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে উপনির্বাচন সম
রাজ্যের সাতটি আসনে উপনির্বাচন (by election) নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মতামত জানতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (election commission)। ৩০ অগাস্টের মধ্যে সেই মতামত জানানোর কথা। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে উপনির্বাচন সম্ভব নয় বলে দাবির সমর্থনে বেশ কয়েকটি যুক্তি দিয়েছে বিজেপি (bjp)। অন্যদিকে তৃণমূলও (trinamool congress) উপনির্বাচন নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করতে চলেছে।

তৃণমূলের ওপরে স্নায়ুর চাপ
২ মে নির্বাচনের পল বেরোয়। তাতে নন্দীগ্রাম থেকে ভোটের লড়াইয়ে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত না হওয়ায় শপথ নেওয়ার ছয়মাস অর্থাৎ ৫ নভেম্বরের মধ্যে তাঁকে কোনও একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জেরে রাজ্যে সাত আসনের উপনির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে ৩০ অগাস্টের মধ্যে মতামত জানতে চেয়েছে।

উপনির্বাচনের দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
গত প্রায় চার মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকবার উপনির্বাচনের দাবি করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন হারের ভয়ে সাত আসনে বিজেপি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে। তিনি বলেছিলেন, রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ভবানীপুরের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা পুরসভার রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, উপনির্বাচন তো হবে একেকটি বিচ্ছিন্ন এলাকায়।

নির্বাচন কমিশনে দরবার করতে চলেছে তৃণমূল
৭ কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দাবি নিয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনে দরবার করেছে তৃণমূল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সপ্তাহেই তৃণমূল সাংসদদের এক প্রতিনিধিদল দিল্লিতে কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চলেছে। এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। সময় পেলেই ৫ জন সাংসদ যেতে পারেন কমিশনে। সঙ্গে তাঁরা সাত কেন্দ্রের করোনা সংক্রমণের রিপোর্টও নিয়ে যাচ্ছেন বলেই জানা গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি রাজ্যের সঙ্গে ওই সাত কেন্দ্রের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই কেন্দ্রগুলিতে দ্রুত উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করানো হোক।
এর আগে ১৫ জুলাই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে দরবার করেছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল। পরে ৬ অগাস্ট কমিশনের ওপরে চাপ বাড়াতে কমিশনের কলকাতার অপিসে গিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

বিরোধিতায় বিজেপি, রয়েছে যুক্তি
বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে। সেই যুক্তি সম্বলিত চিঠি রাজ্য নেতৃত্বের তরফে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেইসব যুক্তির মধ্যে রয়েছে
১) রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়
২) সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় রাজ্যের নির্দেশে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, বাসেও ৫০ শতাংশ লোক নিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩) রাজ্যে এখনও করোনা বিধি লাগু রয়েছে, বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলিতে কোনও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
৪) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে।
৫) করোনা পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের ১২২ টি পুরসভার নির্বাচন আটকে রাখা হয়েছে।
৬) বিজেপির মতে রাজ্যে সরকারের পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেখানে ৭ টি আসনের নির্বাচন না হলেও সরকারে সংকট তৈরি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, সেই কারণে নির্বাচনও এই সময়ে অপরিহার্য নয়।
৭) বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে অক্টোবর মাসের মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আসার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
৮) অক্টোবর মাস রাজ্যে সব থেকে বড় উৎসব ও পুজোর মাস।

বিজেপি নেতৃত্বের কটাক্ষ
বিজেপি নেতৃত্বের তরফে তৃণমূলের নির্বাচনের দাবিকে কটাক্ষ করা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, একদিকে রাজ্য সরকার বলছে করোনা বাড়তে পারে, সেই কারণে লোকাল ট্রেন টালানো যাবেন না, সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে তারা উপনির্বাচনের দাবি করতে পারে। রাজ্যে আটদফা নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসা তৃণমূল কীভাবে করোনা পরিস্থিতিতে ভোট চাইছেন, প্রশ্ন করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পদ বাঁচাতেই এই দাবি বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications