তৃণমূলকে সমর্থন করবে জিএনএলএফ, মোর্চা বলছে ঘিসিং বিশ্বাসঘাতক

ওই লিখিত বিবৃতিতে, গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট দার্জিলিং-এর সভাপতি বিবৃতির শেষে বাইচুর কে 'পাহাড়ি ভুটিয়া থিটো' (পাহাড়ি ভুটিয়া সম্প্রদায়) বলে ব্যাখ্যা করেছেন। জিএনএলএফ-এ তরফে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৪ এপ্রিল জিএনএলএফ-এ কেন্দ্রীয় কমিটি বৈঠকে বসে। এবং ঠিক করা হয়, জিএনএলএপ-এর সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ ভোট বাইচুং ভুটিয়াকে দেওয়া হবে। নির্বাচনে জয়ের জন্য জিএনএলএফ-এর তরফে বাইচুংকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে।
জিএনএলএফের পার্টি অফিসে শুক্রবার শীর্ষ নেতা বীরেন লামা বিবৃতি পড়ে শোনান। এদিকে ঘিসিংয়ের বাড়ির সামনে দলের অপর এক নেতা সেরিং দাহাল সাংবাদিকদের জানান, সুভাষ ঘিসিং যা বলছেন তা হয়তো জনতা এখনই বুঝতে পারবেন না। উনি গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আগেই বলেছিলন। মানুষ তার গুরুত্ব অনেক পরে বুঝছে। উনি অনেক আগে ষষ্ঠ তফসিলির কথা বলেছিলেন, এখন তার গুরুত্ব মানুষ বুঝছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণও মানুষ বুঝবেন, কিন্তু সময় লাগবে। দাহাল এও বলেন, বঙ্গভঙ্গের কোনও প্রশ্নই নেই।
জিএনএলএফ ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে একটা অশুভ আঁতাত তৈরি হয়েছে : বিমল গুরুং
ঘিসিংয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সুর চড়া করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং। শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি পোস্ট করে জানান, ঘিসিংয়ের এই সিদ্ধান্তে আমি খুব একটা অবাক হইনি। আমি আগেই জানিয়েছিলাম, জিএনএলএফ ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে একটা অশুভ আঁতাত তৈরি হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের বিজেপি প্রার্থী এসএস আলুওয়ালিয়াকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমর্থন করবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। ফলে পাহারের ছেলে হলেও বাইচুং তথা তৃণমূল কংগ্রেসও অস্বস্তিতে পড়েছিল। কিন্তু জিএনএলএফের সমর্থন মেলায় আলুওয়ালিয়াকে বাইচুং জোর টক্কর দিতে পারবেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিএনএলএফ-এর তিন প্রার্থী মোট ৪২,০০০ ভোট পেয়েছিলেন। তখন তৃণমূল কংগ্রেস এই অঞ্চলে কোনও ছাপই ফেলতে পারেনি। তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে জিএনএলএফ এই সংখ্যা বাড়াতে সমর্থ হবে বলেই মনে করছে নেতৃত্ব।
তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করার ঘিসিংয়ের এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসাবে দেখছে মোর্চা। বিমল গুরুংয়ের কথায়, যে মানুষটি গোর্খাল্যান্ডের দাবীতে আশির দশকের শেষে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, যার ফলে ১২০০ জন শহীদ হয়েছিলেন, তাঁর এবিষয়ে আর একটু আন্তরিক হওয়া উচিত ছিল। গোর্খাল্যান্ডের পক্ষে যে দল সেই দলকে সমর্থন না করে গোর্খাল্যান্ড বিরোদী দলকে সমর্থন করছেন ঘিষিং। এটা বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কী?












Click it and Unblock the Notifications