স্কুল খুলতেই ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ-অশান্তি, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ জিডি বিড়লা, অশোক হল স্কুল
স্কুল খুলতেই ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ-অশান্তি, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ জিডি বিড়লা, অশোক হল স্কুল
স্কুল খুলতেই শহরের নামি স্কুল গুলিতে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে তুমুল অশান্তি। গত কয়েকদিন ধরেই স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিেলন অভিভাবকরা। শেষে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল বন্ধের নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জিডি বিড়লা স্কুল এবং অশোক হল স্কুল।

বন্ধ হয়ে গেল জিডি বিড়লা সহ ৫ স্কুল
প্রায় ২ বছর পর খুলেছে স্কুল। তারমধ্যেই ফি বৃদ্ধি নিয়ে স্কুলে স্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরের নামী স্কুলগুলি অস্বাভাবিক হারে ফি বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। তারই প্রতিবাদে প্রতিনিয়ত স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অভিভাবকরা। বুধবার এই নিয়ে আদালতে মামলা হয়। তারপরেই বৃহস্পতিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয় শহরের অন্যতম নামী স্কুল জিডি বিড়লা। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুলটি। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মূলত আইন-শৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে এই স্কুল বন্ধের নির্দেশিকা।

বন্ধ অশোক হলও
শহরের আরেক নামি স্কুল অশোক হলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। সেক্ষেত্রেও স্কুল কর্তৃপক্ষ একই কারণ দেখিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অশোক হল। এই স্কুলেও ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন অভিভাবকরা। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে আসার পরেই ছাত্রীরা দেখেন বন্ধ রয়েছে স্কুলের গেট। সকাল ৬টার সময়েই নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল স্কুল।

বকেয়া ফি নিয়েই জটিলতা
আদালতের নির্দেশ মেনেই নাকি স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনই জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। করোনার পরিস্থিতির পর থেকেই স্কুলের ফি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছে শহরের একাধিক নামী স্কুল।
সোমবার থেকে স্কুল শুরু হলেও। প্রথম দিনেই জিডি বিড়লা স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি একাধিক ছাত্রীকে। অন্তত ১০০ জন পড়ুয়াকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। হাইকোর্টের নির্দেশ মত বকেয়া ফি না মেটানো পর্যন্ত তাঁদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যে ছাত্রীরা ৫০ শতাংশ ফি জমা দিয়েছে তাঁদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারপরেই বিক্ষোভ শুরু করেন অভিভাবকরা

কী বলেছে আদালত?
করোনা কালে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ও কেনও পুরো ফি নেওয়া হবে এই নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অভিভাবকরা। শহরের সব নামী স্কুলেই এই নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছিল। স্কুলের ফি বিতর্ক নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ৮০ শতাংশের বেশি ফি দেওয়া সত্ত্বেও কেন নতুন ক্লাসে তোলা হয়নি, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। জিডি বিড়লা, মহাদেবী বিড়লা, অ্যাডামাস সহ বেশ কিছু স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন অভিভাবকরা।
স্কুলের পক্ষ থেকে সেসময় দাবি করা হয়েছিল অভিভাবকরা যে ৮০ শতাংশ স্কুলের হিসেব দেখাচ্ছেন, তা স্কুলের হিসেবে অনেকটাই কম। তবে স্কুল থেকে কাউকে তার জন্য বের করে দেওয়া হয়নি। তারপরেই আদালত সকলকে স্কুলে নতুন ক্লাসে নেয়ার নির্দেশ দেয়। এবং আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে বাকি ২০ শতাংশ স্কুল ফি অভিভাবকদের দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।












Click it and Unblock the Notifications