নিরুত্তাপ ভোট গোসাবায়, দিনহাটা-শান্তিপুরকে ছাপিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ল খড়দহে
চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন হল বাংলায়। উত্তেজনা ছিল, ছিল বিক্ষিপ্ত অশান্তি। আদতে অবাধ নির্বাচনই হল বাংলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ছিল সবথেকে শান্তি, বাকি তিন কেন্দ্রে।
চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন হল বাংলায়। উত্তেজনা ছিল, ছিল বিক্ষিপ্ত অশান্তি। আদতে অবাধ নির্বাচনই হল বাংলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ছিল সবথেকে শান্তি, বাকি তিন কেন্দ্র- অর্থাৎ উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ, নদিয়ার শান্তিপুর ও কোচবিহারের দিনহাটায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়েছে। দিনভর তৃণমূল বনাম বিজেপির টক্কর দেখা গিয়েছে শেষোক্ত তিন কেন্দ্রে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় সে অর্থে অশান্তির খবর মেলেনি সকাল থেকে। দু-একটি জায়গায় ইভিএম সমস্যা হয়েছিল এই যা। তবে উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ নিয়ে উত্তেজনার পরাদ পরতে পরতে বেড়েছে। নির্বিঘ্ন ভোটদান দূর অস্ত, দফায় দফায় অশান্তি, জাল ভোটারের অভিযোগ, আবার সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়কের মাথা ফাটানো, বুথ জ্যাম, ছাপ্পার অভিযোগ ছিল ভুরিভুরি। বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছে শান্তিপুর ও দিনহাটা থেকেও।
রাজ্যের চার কেন্দ্রের মধ্যে সবথেকে বেশি ভোট পড়েচে নদিয়ার শান্তিপুরেষ। নির্বাচন কমিশনের দেয় হিসেবমতো বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শান্তিপুরে ভোট পড়েছে ৭৬.১৪ শতাংশ। নিশ্চিতভাবেই এই ভোটের হার একটু বাড়বে। ভোটদানের হারে এরপরেই রয়েছে গোসাবা। গোসাবায় ভোট পড়ছে ৭৫.৯১ শতাংশ। তারপর দিনহাটা। দিনহাটায় ভোট শতাংশ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৬৯.৯৭ শতাংশ। আর সবথেকে কম ভোট পড়ছে খড়দহে। খড়দহের উপনির্বাচনে ভোটদানের হার মাত্র ৬৩.৯০ শতাংশ।
উত্তরবঙ্গের মধ্যে শুধু ভোট ছিল কোচবিহারের দিনহাটায়। দিনহাটায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে ভোট হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহকে নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিজেপি দিনের শেষে উদয়ন গুহর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে একুশের নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ৫৭ ভোটে। ফলে দু-দলের কাছে এই উপনির্বাচন ছিল খুবই ক্লোজ ফাইট।
দক্ষিণবঙ্গ তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। তার মধ্যে খড়দহ ও গোসাবা ছিল তৃণমূলের জেতা আসন। গোসাবা নিয়ে নিরুত্তাপ ছিল এদিন। আর উত্তেজনার পারদ সবথেকে বেশি ছিল খড়দহে। তারপর শান্তিপুরে। খড়দহে তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা ফল ঘোষণার আগেই কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এবার এই কেন্দ্র লড়ছেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিপক্ষে বিজেপির জয় সাহা। বড় কোনও অশান্তি না হলেও ছোটোখাটো গন্ডগোল লেগেই ছিল এই কেন্দ্রে।
খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের মুড়াগাছায় গাড়ি থেকে নেমে ধাওয়া করে বিজেপি প্রার্থী জয় সাহা ভুয়ো ভোটারকে ধরে ফেলেন বলে অভিযোগ। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, ওই ভুয়ো ভোটারের কাছে ৩০টি ভোটার কার্ড পাওয়া গিয়েছে। গোটা বাংলায় এভাবেই ভোট করছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়।
খড়দহে এই জাল ভোটার ছাড়াও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের উপর হামলা। এই হামলার ঘটনায় মাথা ফেটেছে সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতার। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। খড়দহের মহিষপোতায় একদল তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি করে। সেই পাথরই তন্ময়বাবুর মাথার পিছনে লাগে। তাঁর মাথা ফেটে যায়। এই ঘটনরা তীব্র নিন্দা করেন তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও।
এর পরেও উত্তেজনা ছিল চরমে। শেষবেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি জেরে একুশের নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার ছেলে আক্রান্ত হন খড়দহে। বিজেপি প্রার্থী জয় সাহার নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশি জাল ভোটারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই উত্তেজনার পারদ চড়েছিল। তারপর অশান্তি জেরে আক্রান্তের ঘটনা। তেঘরিয়ায় অবৈধ জমায়েতের অভিযোগ করে তৃণমূল।
আর নদিয়ার শান্তিপুরের বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। ভোটের আগের দিন রাত থেকে উত্তেজনা ছিল শান্তিপুরের ফুলিয়ায়। বিজেপি এজেন্টের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শাসকদলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, বিজেপি সভাপতির মাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনই বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে শেষ হয় বাংলার চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রেখে চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন সংঘটিত হয়। দিনহাটায় ছিল ২৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোসাবায় মোতায়েন করা হয় ২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ১৪৪ ধারাও জারি ছিল গোসাবায়। আর শান্তিপুরে ২২ কোম্পানি ও খড়দহে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয়। আধা সামরিকবাহিনী থাকা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয় বহু জায়গায়।












Click it and Unblock the Notifications