এসআইআর শুনানিতে কাকলির পরিবারের চার সদস্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূল সাংসদের
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের চার জন সদস্যকে এসআইআর শুনানিতে হাজির হতে নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তলবের তালিকায় রয়েছেন তাঁর নবতিপর মা ইরা মিত্র, বোন ও দুই পুত্রও। বিষয়টিকে 'অকারণ হেনস্থা' বলে দাবি করেছেন বারাসতের সাংসদ।
শনিবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে ডাকা হচ্ছে সেই সব ভোটারদের, যাঁদের নাম রয়েছে তথাকথিত 'নো ম্যাপিং' তালিকায়। এনুমারেশন ফর্মে যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের যোগসূত্র দেখাতে পারেননি, তাঁদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নথি যাচাইয়ের সেই প্রক্রিয়াতেই কাকলির পরিবারের সদস্যদের হাজির হতে বলা হয়েছে।

কাকলির মা ও বোন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের ভোটার, অন্যদিকে তাঁর দুই পুত্র বিশ্বনাথ ও বৈদ্যনাথ কলকাতার ভোটার ও পেশায় চিকিৎসক। তবে ঠিক কোন কারণে তাঁদের এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তা নোটিসে স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কাকলি নিজেই।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "যাকে খুশি বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যদি এমনটা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কী, তা সহজেই বোঝা যায়।"
এ বিষয়ে রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ঘোষণা করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক নথি প্রকাশ্যে আনবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নো ম্যাপিং তালিকার বাইরেও বিপুল সংখ্যক ভোটার এসআইআর এর নজরে রয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারকে এনুমারেশন ফর্মের তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নামের বানান, বয়স, বাবা ও মায়ের নাম বা ঠিকানা সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণেই তাঁরা নজরদারিতে। নো ম্যাপিং তালিকার শুনানি শেষ হলে, ধাপে ধাপে তাঁদেরও ডাকা হতে পারে।
রাজ্যে এসআইআর শুনানির প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা নির্বাচন কমিশনের।












Click it and Unblock the Notifications