মুকুল চ্যালেঞ্জ ছুড়তেই সাহসী অনুগামীরা, জানেন কারা তৃণমূল ছাড়ল ইতিমধ্যেই
এতদিন যা হয়নি, মুকুল দল ছাড়়তেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে উত্তর দিনাজপুর- সর্বত্রই এক ছবি।
একদিন আগেই সরাসরি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন মুকুল রায়। তিনি তৃণমূলকে সাবধান করে বার্তা দিয়েছিলেন, 'ভাববেন না আমার সঙ্গে কেউ নেই। পঞ্চায়েতের সবক'টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার রয়েছে। বুথস্তর পর্যন্ত আমার লোক আছে।' মুকুলের সেই হুঙ্কার যে একেবারেই ফাঁকা আওয়াজ নয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশই।

এতদিন যা হয়নি, মুকুল দল ছাড়়তেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে উত্তর দিনাজপুর- সর্বত্রই এক ছবি। পুজোর পরই মুকুলের ছবি দিয়ে হোর্ডিং পড়েছিল উত্তর দিনাজপুরে। এবার 'নাগরিক বৃন্দে'র নামে হোর্ডিং পড়ল বর্ধমানে। বর্ধমানের পারবীয়হাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিংয়ের পাশেই মুকুল রায়ের হোর্ডিং।
মমতার বাংলায় এই ছবি আগে দেখেনি কেউ। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটাই প্রতীকী হয়ে উঠেছে। শুধু হোর্ডিংয়েই সীমাবদ্ধ নেই পরিস্থিতি, মুকুলের অনুগামীরা দল ছাড়তেও শুরু করেছেন। নিচু স্তর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল ও নৈহাটির তৃণমূল নেতা পার্থসারথি পাত্র দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, 'মুকুলদা যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই মাথা পেতে নেব। আমি তাঁর সঙ্গে আছি।' ক'দিন আগে একই কথার পুনরাবৃত্তি শোনা গিয়েছিল উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক শুভ্র রায়চৌধুরীর গলায়। তিনি জানিয়েছিলেন, 'দাদা যখন দলে নেই, আমারও থাকার মানে হয় না। মুকুলদাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূলে এসেছিলাম। তিনি দল ছাড়ছেন, তাই আমিও ইস্তফা দিয়েছি।'
তিনি আনুগত্য প্রকাশ করে জানান, 'মুকুলদা যে দলে থাকবেন। আমিও সেখানেই থাকব। মুকুলদাকে আমি শ্রদ্ধা করি, তিনি আমার কাছে বটবৃক্ষের মতো। স্বাভাবিকভাবেই আমি বটবৃক্ষের তলাতেই থাকব। একদিন মুকুলদার কথায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলাম। এখন মুকুলদা যেখানে যাবেন, আমিও তাঁর ছায়াসঙ্গী হব।' উত্তর জিনাজপুরের আর এক তৃণমূল নেতা নরোত্তম রায়ও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর অবস্থান।
এখনও মুকুল রায় তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেননি পুরোপুরি। তার আগেই দলে ভাঙন ধরে গিয়েছে। অনেক জেলায় জেলায় মুকুল অনুগামীরা দল ছাড়ছেন। অনেকে প্রকাশ্যে, অনেকে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন মুকুল রায়ের দিকে। মুকুল রায় কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। স্বভাবতই পরিস্থিতি যা মুকুল রায় আলাদা দল করলে, সেই দল বেশি ভারী হবে। যতটা না হবে বিজেপিতে যোগ দিলে।
দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ মুখিয়ে রয়েছেন মুকুল রায়ের নয়া রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের দিকে। মুকুল রায় রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন এই সপ্তাহেই। তারপরই স্পষ্ট হয়ে যাবে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। ২০ বছর ধরে একটা রাজনৈতিক দলের সংগঠন গড়েছেন তিলে তিলে। তৃণমূলের প্রতিটা ক্ষেত্র তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। একাংশ কর্মী যে তাঁর শিবিরে থাকবেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত তিনি। আর সেটাই মুকুল রায়ের বড় ভরসা।












Click it and Unblock the Notifications