ফিরে দেখা ২০১৯ : দলবদল করেও শিকে ছিঁড়ল না যাঁদের, লোকসভা-যুদ্ধে মানতে হল হার
লোকসভা নির্বাচনের আগেই জোর হাওয়া উঠেছিল দলবদলের। কে কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। দেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে সংসদে যাওয়ার টিকিট পেতে দলবদলের হিড়িক পড়েছিল।
লোকসভা নির্বাচনের আগেই জোর হাওয়া উঠেছিল দলবদলের। কে কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। দেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে সংসদে যাওয়ার টিকিট পেতে তাই দলবদলের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যেমন যোগ দিয়েছেন অনেকে। অনেকে আবার কংগ্রেস ছেড়েও তৃণমূলে এসেছেন। কিন্তু এসেও লাভ হয়নি বিশেষ। বর্ষশেষে একবার ফিরে দেখা।

মৌসম বেনজির নুর
লোকসভার আগেই তিনি দল ছেড়েছিলেন। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন গনিখান চৌধুরীর ভাগনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে টিকিটও দিয়েছিলেন। কিন্তু গড় রক্ষা করতে ব্যর্থ হন মৌসম। তাঁর কংগ্রেস ছেড়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ড্যাং ড্যাং করে এই আসনে জিতে যান বিজেপি প্রার্থী। ফলে সাংসদ হয়ে ফের দিল্লি যাওয়ার স্বপ্নে জল পড়ে যায় মৌসমের।

পরেশ অধিকারী
বামফ্রন্ট জমানার মন্ত্রী। দলবদল করে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তাঁকেই কোচবিহার থেকে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি জয় এনে দিতে পারেননি দলকে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিশীথ প্রামাণিক। পরেশ অধিকারীর মতো হেভিওয়েটকে হার মানতে হয় গেরুয়া ঝড়ের কাছে। সাংসদ হয়ে সংসদে যান নিশীথ প্রামাণিক।

অনুপম হাজরা
তৃণমূল ছেড়ে তিনি নাম লিখিয়েছিলেন বিজেপিতে। মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েই তিনি যাদবপুর থেকে বিজেপির টিকিট পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এই কেন্দ্রে হার মানতে হয় বিজেপিকে। তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী অনুপম হাজরাকে হারিয়ে সংসদে যান। এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বামপ্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র তাঁর জামানত রক্ষা হয়েছিল এই কেন্দ্রে।

অপূর্ব সরকার
অধীর চৌধুরী শিষ্য। তিনিই কি না কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তৃণমূল তাঁকেই প্রার্থী করেছিল গুরু অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে। দলবদল করে সংসদে যাওয়ার আশায় লড়াইয়ে নেমেছিলেন ঠিকই। কিন্তু অধীরের ক্যারিশ্মার কাছে পাত্তা পাননি। একক দক্ষতায় অধীর জয় ছিনিয়ে আনেন। হার মানতে হয় দলত্যাগী প্রার্থী অপূর্ব সরকারকে।

অমর সিং রাই
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছেড়ে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন অমর সিং রাই। দার্জিলিং থেকে প্রথমবার জয়ের আশায় মোর্চার প্রার্থীকে তৃণমূলের টিকিটে লড়িয়েও অবশ্য লাভ হয়নি। এই কেন্দ্র থেকে আনকোরা বিজেপি প্রার্থী রাজু সিং বিস্ত জয়ী হয়েছেন। ফের বিজেপির দিকেই গিয়েছে পাহাড়বাসী ও মোর্চার বৃহদংশের সমর্থন।

কানাইলাল আগরওয়াল
লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন কানাইলাল আগরওয়াল। তাঁকে রায়গঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই কেন্দ্রে চতুর্মুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসেন বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরী। কংগ্রেস-সিপিএম হেল পানি পায়নি। জয়ের খোঁজ পাননি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কানাইলাল আগরওয়াল।

মানস ভুইঁয়া
কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর মেদিনীপুর কেন্দ্রে টিকিট পেয়েছিলেন মানস ভুইঁয়া। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন দিলীপ ঘোষ। আশা জাগিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি মানস ভুঁইয়া। দিলীপ ঘোষের কাছে হেরে তিনি ব্যর্থদের দলে নাম লেখান। মেদিনীপুর থেকে জিতে সংসদে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

ভারতী ঘোষ
তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জঙ্গলমহলের মা বলে সম্বোধন করেছিলেন। সেই ভারতী ঘোষ মমতার দলে না মমতার প্রশাসনের অঙ্গ ছিলেন। তিনিই মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দেবের বিরুদ্ধে ঘাটাল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। কিন্তু জয়ের লক্ষ্য ছুঁতে পারেননি তিনি। দেবের কাছে তাঁকে হার মানতে হয়।

লক্ষ্মণ শেঠ
বিজেপি ছাড়ার পর তার কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে কম জল্পনা হয়নি। সেই লক্ষ্মণ শেঠ কংগ্রেসে যোগ দিয়ে প্রার্থীও হন তমলুক থেকে। এই কেন্দ্র থেকেই তিনি দীর্ঘদিন সংসদে সিপিএমের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু এবার শেষরক্ষা হয়নি। লক্ষ্মণ শেঠ লোকসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে চতুর্থস্থান লাভ করেন। বিজেপিকে হারিয়ে বিজয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী।

চন্দ্রকুমার বসু
নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু বিজেপিতে যোগ দিয়ে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট পেয়েছিলেন বিজেপির। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মালা রায়ের কাছে তিনি পরাজিত হন। বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেত সাংসদ যাওয়ার আশায় জল ঢেলে একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়।












Click it and Unblock the Notifications