মার্চে ডিএ বকেয়ার প্রথম কিস্তি! ঘোষণার পর নবান্নে জোর তৎপরতা
মহার্ঘ্য ভাতা তথা ডিএ বকেয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা এবার বাস্তবের পথে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকেন্দ্র নবান্নে শুরু হয়েছে তৎপরতা। কে কত টাকা পাবেন, তার খুঁটিনাটি হিসাব কষায় ব্যস্ত অর্থ দপ্তর।
রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করা হয়েছে, চলতি মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় প্রশাসন। নির্বাচন ঘোষণার আগেই এই ঘোষণা হওয়ায় সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে, ফলে এখন আর শুধু আশ্বাস নয় বাস্তবায়নের প্রস্তুতিই মূল লক্ষ্য।

সূত্রের খবর, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মেটানো হবে। এই সময়কালের মোট বকেয়ার অর্ধেক মার্চেই দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আর বাকি অংশ মেটানো হতে পারে পুজোর আগেই, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। ফলে মার্চ মাসেই কর্মীদের একাংশের হাতে বড় অঙ্কের টাকা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চম বেতন কমিশনের নিরিখে স্কেল ১ এর কর্মীদের ক্ষেত্রে বেসিক বেতন ৬,৬০০ টাকা থেকে ইনক্রিমেন্ট সহ ৭,০০০ টাকা ধরে হিসাব করা হচ্ছে। সেই হিসাবে চার বছরের মোট বকেয়া দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা, যার অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা মার্চেই মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ডিএ এর অঙ্ক নির্ভর করছে মূলত কর্মীর বেসিক বেতনের উপর। কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ এর ব্যবধান ধরে দীর্ঘ সময়ের হিসাব কষা হয়েছে। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পার্থক্য ধরে মোট বকেয়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে বেতন ভেদে বকেয়ার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বদলাচ্ছে, ৭ হাজার টাকা বেসিক হলে প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার টাকার বেশি, ১০ হাজার হলে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকারও বেশি, আর ১৫ হাজার টাকায় তা ছুঁতে পারে প্রায় ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।
এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তথা আইএফএমএস। কর্মীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকায় হিসাব নির্ভুল করা সহজ হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে তথ্য সহজলভ্য হওয়ায় ওই সময়কাল থেকেই বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই কর্মী ও পেনশন ভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই অর্থ জমা পড়তে পারে। ট্রেজারি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি বাকি বকেয়া ধাপে ধাপে মেটানোর কথাও জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে ডিএ বকেয়া পাওয়ার আশায় আশাবাদী রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। এখন নজর মার্চের সেই প্রথম কিস্তির দিকেই।












Click it and Unblock the Notifications