ফাঁসিদেওয়ায় রেল দুর্ঘটনায় প্রথম সাহায্যের হাত! সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর মমতার
সোমবার সকালে ফাঁসিদেওয়ায় কাঞ্জনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে ধাক্কা মারে মালগাড়ি। এই ঘটনায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনের দুটি কামরা একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একটি উঠে যায় মালগাড়ির ইঞ্জিনের ওপরে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন।
সোমবার সকাল পৌনে নটা নাগাদ হওয়া দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ এবং পরবর্তী ঘটনায় বিকট আওয়াজ ও খানিক কম্পনও যেন অনুভব করেছিলেন পাশের গ্রামের বাসিন্দাদের কেউ কেউ। তাঁরাই প্রথম ছুটে যান। আহতদের সরাতে নিয়ে যান বিছানার চাদর। বাড়ি থেকে শাড়িও নিয়ে যান তাঁরা।

- মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
সেই সময় কাউকে কাউকে হাত কিংবা পা কাটা অবস্থায়ও দেখেছেন তাঁরা। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার কাজে যুক্ত হওয়ার আগে বেশ কিছুক্ষণ তাঁরাই চালিয়েছেন উদ্ধার কাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শিলিগুড়ি সফরের সময় ট্রেন দুর্ঘটনার ত্রাণ কাজে স্থানীয়দের সাহায্যের প্রশংসা করেছেন। সাহায্যের পুরস্কার হিসেবে তাঁদেরকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশ গ্রামবাসীদের
অন্যদিকে স্থানীয় মানুষজন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এব্যাপারে স্থানীয়রা বলেছেন তাঁরা শুধু নিজেদের কাজ করেছেন। কোনও সরকারি চাকরি কিংবা প্রশংসা পাওয়ার জন্য এই কাজ তারা করেননি। তারপরেও সরকারি চাকরি পেলে সেটা এনেক বড় ব্যাপার, বলেছেন তাঁরা।
- স্থানীয়রাই জানান প্রশাসনকে
বকরিদের সকাল। নমাজ পড়ার পরে স্থানীয় কয়েকজনের কানে আসে বিকট শব্দ। সঙ্গে ভূমিকম্পের মতো কিছু একটা অনুভব করেন। তারপরেই আহতদের আর্তচিৎকার। সেই সময় স্থানীয়রাই পুলিশকে প্রথম খবর দিয়ে নিজেদের মতো করে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
এখানেই শেষ নয়, অ্যাম্বুন্যান্স ডেকে না পেয়ে, কয়েকজনকে নিজেরাই স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে অ্যাম্বুলেন্স এলে, সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও ট্রেনের কামরা থেকে মৃতদেহও বের করেন তাঁরা। স্থানীয়রা পুলিশের কাছে যাত্রীদের জিনিসপত্রও হস্তান্তর করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে রেলের তরফে মালগাড়ির চালককেই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। প্রায় ২৫ ঘন্টা পরে এদিন সকালের দিকে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলও শুরু হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications