পার্কিং ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চূড়ান্ত নাটক! কোনওমতেই মুখ খুললেন না ফিরহাদ
দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে শনিবার কথা বলতে দেখা যায় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। কিন্তু পার্কিং ফি নিয়ে প্রশ্ন করতেই চুপ!
কলকাতা পুরনিগমের তরফে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বর্ধিত মূল্য আর কার্যকর থাকছে না। পুরনো তালিকা অনুযায়ীই নেওয়া হবে পার্কিং ফি। সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে দিনভর নাটক চলে শুক্রবার।

কার নির্দেশে পার্কিং ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হল? কেনই বা দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এমন একটি বিষয়ে আচমকা কথা বললেন, সেব প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন ফিরহাদ। শনিবার সকালে পুরনিগমে যাননি তিনি। টক টু মেয়র কর্মসূচিতেও যোগ দেননি।
কলকাতার ৮২ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ যেখানে তিনি থাকেন, সেখানকার ক্লাবের দুয়ারে শিবির ক্যাম্পে গিয়ে পরিদর্শন করেন রাজ্যের মন্ত্রী। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দিল।
সপ্তাহখানেক আগে বাড়ানো পার্কিং ফি হঠাৎই কমিয়ে দেওয়া হয় শুক্রবার সন্ধ্যায়। শুক্রবার কুণাল ঘোষ দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না জানিয়েই নাকি ফি বাড়িয়ে দিয়েছে পুরনিগম। এভাবে মানুষের ওপর বোঝা বাড়িয়ে দেওয়াটা মেনে নিতে পারেননি মমতা। তেমনটাই দাবি করেন কুণাল।
তিনি আরও জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পার্কিং ফি-র ব্যাপারে জানিয়েছেন মমতাকে। তারপরই তিনি মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে।
শুক্রবার সেই সাংবাদিক বৈঠকের পর কার্যত নাটকীয় ঘটনাক্রম দেখা যায়। সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষের ওপর সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন ফিরহাদ। কেন দলের তরফে এমন একটি বিষয় সামনে আনা হল, কেন প্রশাসনিক ব্যাপারে কথা বললেন দলের মুখপাত্র, তা নিয়ে সরব হতে দেখা যায় ফিরহাদকে। মমতার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেয় তৃণমূলের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি টুইট করে পুরনিগমকে ধন্যবাদ জানানো হয় সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য। কিন্তু কে করল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার? তখনও তো পুরনিগমের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করছে বর্ধিত ভাড়ার তালিকা। বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ হয়নি। তারপর থেকেই এ বিষয়ে আর তেমন কথা বলতে শোনা যায়নি ফিরহাদ হাকিমকে।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে। ফিরহাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত জানতেন না মমতা? আবার প্রশ্ন উঠছে, পুরনিগমের সিদ্ধান্ত কি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো সত্যিই জরুরি ছিল? পার্কি ফি কমলে সাধারণের সুবিধা হবে ঠিক কথা। তবে এই ফি-বিতর্কে ঘাসফুলের আভ্যন্তরীণ কোনও জটিলতা সামনে চলে আসছে না তো?












Click it and Unblock the Notifications