পুজোর কথা ভেবেই জিএসটি ২.০ শুরুর দিন নির্ধারিত, উপকৃত হবেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝালেন নির্মলা
কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটির যে সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে তা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে দুর্গাপুজোর কথা ভেবেই। আজ কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
তাঁর কথায়, ২১ তারিখ মহালয়া। পিতৃপক্ষের শেষে দেবীপক্ষ শুরু হচ্ছে। নবরাত্রিও উদযাপিত হবে। সে কারণেই ২২ সেপ্টেম্বর বেছে নেওয়া হয়েছে। বাংলা বরাবর পথ দেখিয়েছে দেশকে। তাই আমি চাই আপনারা সকলে দোকানে দোকানে যান। মানুষকে বলুন কীভাবে এই জিএসটি সংস্কার (GST Reform) সকলের উপকার করবে।

উল্লেখ্য, জিএসটি কর কাঠামোয় থাকছে না ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশের স্ল্যাব। শুধু থাকছে ৫ ও ১৮ শতাংশ। নির্মলা জানান, ১২ শতাংশের কোনও স্ল্যাব থাকছে না বলে ওই স্ল্যাবের আওতায় থাকা ৯৯ শতাংশ জিনিস ৫ শতাংশের স্ল্যাবে চলে যাবে। শুধু ১ শতাংশ জিনিস ১৮ শতাংশের ক্যাটাগরিতে নিয়ে যাওয়া হবে। ২৮ শতাংশের স্ল্যাবও তুলে দেওয়া হচ্ছে। ২৮ শতাংশের আওতায় থাকা ৯০ শতাংশ জিনিস এবার নেমে আসছে ১৮ শতাংশে। শুধু ১০ শতাংশ জিনিস ৪০ শতাংশের আওতায় যাবে। সিন গুড জিনিসগুলি ৪০ শতাংশের এর আওতায় যাবে।
নির্মলা বলেন, পনির, দুগ্ধজাত জিনিসের উপর কর শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলার মানুষ পুজোর সময় মিষ্টি আরও বেশি করে খেতে পারবেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিমা এবং চিকিৎসা আরও সুলভ হবে। কৃষকদের রোজগার বাড়বে, কৃষির খরচ কমবে। স্পা, জিম এগুলির খরচ কমবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বহুভাবে এই সংস্কার কার্যকরী ফল দেবে। অন্যান্য পণ্যের দাম কমায় সার্বিকভাবে বাংলার মানুষের সুরাহা তো হবেই সেইসঙ্গে ১১টি বিশেষ জিনিস রয়েছে যা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জিনিস, সেগুলির ক্ষেত্রেও দাম কমবে।
নির্মলা জানিয়েছেন, শান্তিনিকেতনের চামড়ার জিনিসের দাম কমবে ফলে উপকৃত হবেন এর সঙ্গে যুক্ত বীরভূমের মানুষজন। বাঁকুড়ার টেরাকোটা শিল্পের জিএসটি কমায় কুমোর, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদেরও উপকার হবে। মাদুর কাঠি তৈরি করেন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ। এর ফলে পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু ব্যক্তি উপকৃত হবেন। পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ,দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডির মুখোশ, শোলার কাজ, নকশী কাঁথা, মালদার আমের বিভিন্ন পণ্য, দার্জিলিং চা, জুট ব্যাগেরও দাম কমবে।
আজ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ভাষা ভবনে নেক্সট জেন জিএসটি সংস্কার নিয়ে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নির্মলা বলেন, অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জিএসটি সংস্কারে কী কী বদলানো হয়েছে এবং তা ছাড়াও অন্যান্য সমস্ত সংস্কার নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। আলোচনার শুরুতেই তিনি উপস্থিত দর্শকদের হাতে একটি তথ্য তুলে দেওয়ার কথা জানান যেখানে ইউপিএ আমলে এবং বর্তমান বিজেপির সময়ে কর পরিকাঠামোর বিষয়ে তুলনামূলক আলোচনা রয়েছে। তিনি আরও একটি তথ্যের কথা বলেন, যেখানে বর্তমান জিএসটি সংস্কারের পর কোন কোন পণ্যের দাম কমেছে বা কীভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে সেই বিষয়ে যাতে দর্শকরা সম্যক ধারণা করতে পারেন।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, জিএসটি শুরুর সময় থেকে যে ফ্রেমওয়ার্কটি চলে আসছিল বিগত আট বছর ধরে আমরা সেটিকে ধরে রেখেছি এবং উন্নত করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ৮ মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাকে বলেন জিএসটি বিষয় নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে হবে। শুরুর দিক থেকে জিএসটির ক্ষেত্রে চারটি ধাপ ছিল। ৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৮ শতাংশ, এবং ২৮ শতাংশ। এই পরিকাঠামো ঠিক করা হয়েছিল বিভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন ট্যাক্স পর্যালোচনা করে যাতে দেশজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম সব জায়গাতে একই থাকে। প্রতিটি পণ্যের জন্যই দাম পর্যালোচনা করে তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিগত আট বছর ধরে এই কাঠামোতেই জিএসটি সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু সময় এসেছিল এটিকে পর্যালোচনা করে দেখার। মূলত পাঁচটি প্যারামিটারে বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ করা হয়েছে।
নির্মলা জানান, প্রথমত দেখা হয়েছিল এই নতুন জিএসটি কাঠামো গরিব এবং মধ্যবিত্তকে সুরাহা দেবে কিনা। দ্বিতীয়ত দেখা হয়েছিল এটি মধ্যবিত্তের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করতে পারছে কিনা, মধ্যবিত্তরা হলেন দেশের কর প্রদানকারী গোষ্ঠী কিন্তু একটি ছোট টিভি বা ছোট গাড়ির জায়গায় যদি একটি বড় টিভি বা গাড়ি তাঁদের কিনতে হয় তাহলে আরও বেশি ট্যাক্স দিতে হতো পূর্বতন কর পরিকাঠামোর জন্য। তৃতীয়ত দেখা হয়েছিল এটি কৃষকদের সাহায্য করবে কিনা। যে কোনও পণ্য যা কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের ক্ষেত্রে সহায়ক সে ধরনের পণ্যে জিএসটি কমানো হয়েছে। এ ছাড়া পণ্যের জিএসটি কমালে তা এমএসএমই সেক্টরের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে কিনা সেটাও দেখা হয়। পঞ্চম প্যারামিটারটি ঠিক করা হয়েছে ভারতকে আরও বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে।
নির্মলা তাঁর ভাষণে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। সত্যি কথা বলতে কি আর মাত্র ২২ বছর বাকি রয়েছে বিকশিত ভারত করার জন্য। আর তার আগে আমাদের অনেক কিছু করতে হবে। তাই খুব দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি পণ্য আরও বেশি করে ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ ভীষণ জরুরি। সেটাকে মাথায় রেখে আমরা রিভিউ করেছি। জিএসটি রেট ঠিক করার পাশাপাশি পণ্যগুলোকে কীভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে সেটা ছিল আমাদের পরবর্তী ভাবনা। বহু ক্ষেত্রেই বিশেষ কিছু পণ্যকে কোন ক্যাটাগরিতে রাখা হবে তা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। যেমন ধরুন পপকর্ন। এটিকে স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া হলেও চকোলেট এবং চিনি দেওয়ার মিষ্টি পপকর্নকেও নোনতা স্ন্যাক্স হিসেবে বিক্রি করা হতো। কাজেই কম জিএসটি পেত রাজ্য সরকারগুলি। নতুন জিএসটিতে লক্ষ্য ছিল এই ধরনের দ্বন্দ্ব দূর করা এবং কর পরিকাঠামোকে সহজ করা। আমরা Ease of Doing Business-এর কথা বলি। আগে একটি ব্যবসাকে রেজিস্ট্রেশন করতে অনেক দিন লেগে যেত। বর্তমানে তা তিনদিনেই হয়ে যাচ্ছে। নতুন পরিকাঠামোয় ৯০ শতাংশ রিফান্ড অটোমেটিক হয়ে যাবে। ১০ শতাংশ কেবলমাত্র রাখা হবে এটা দেখার জন্য কেউ মিথ্যা বলছে কিনা বা সঠিক ব্যক্তির কাছে রিফান্ড যাচ্ছে কিনা দেখার জন্য।
নির্মলা বলেন, বিজেপি রাজ্যগুলির পাশাপাশি অবিজেপি রাজ্যগুলি, এমনকী পশ্চিমবঙ্গ সরকারও জানিয়েছিল যদি নতুন জিএসটিতে রেট কমানো হয় বা জিএসটি কাঠামোয় বিভিন্ন স্ল্যাবে টাকার পরিমাণ কমানো হয়, বিমার শুল্ক কমানো হয় তাহলে তারা সেটিকে সমর্থন করবে। তারপরই জিএসটি কাউন্সিলের সঙ্গে মিটিং হয় এবং আমরা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হই। আমি কাউন্সিলের সকল সদস্য এবং রাজ্যগুলিকে ধন্যবাদ জানাই এই সংস্কারকে সমর্থন করার জন্য। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আগে কেউ ভাবেনি ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারের ক্ষেত্রে কর দিতে হবে না। কোনও ব্যক্তি যদি মাসে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগার করেন তাহলে তাঁকে কোনও ট্যাক্স দিতে হবে না। কর্পোরেট ইনকাম ট্যাক্সও আমাদের দেশে সবচেয়ে কম। আমরা পুরোনো ইনকাম ট্যাক্স আইন এনেছি। ২০২৪ নির্বাচনের পর আমরা ইনকাম ট্যাক্স সংস্কার করেছি, কর পরিকাঠামোর পরিবর্তন করেছি এবং বর্তমানে জিএসটি সংস্কার করা হচ্ছে। জিএসটি এমন একটি কর যা সব ব্যক্তিকেই দিতে হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে আমরা যে সব পণ্য ব্যবহার করি সবাই জিএসটি-র আওতায় রয়েছে। কাজেই এই নতুন কাঠামোতে উপকৃত হবেন ধনী, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, নারী, পুরুষ- সকলেই।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications