এক্সিট পোল: কেন্দ্রের সম্ভাব্য ফল নয়, মমতাকে ভাবাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের ভবিষ্যৎ
তিনি বার বার দাবি করে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস এবারে রাজ্যের বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশটি আসনেই জিতবে।
তিনি বার বার দাবি করে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস এবারে রাজ্যের বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশটি আসনেই জিতবে। কিন্তু রবিবার, ১৯ মে, এবারের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম দফা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে এক্সিট পোলের ফলাফল ঘোষণার হিড়িক পড়ে, তাতে তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুশির থেকে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণই বেশি। কারণ, বেশিরভাগ বুথ-ফেরত সমীক্ষার মতে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহত্তম দল হলেও বিজেপি এবারে রাজ্যে অভূতপূর্ব হারে শক্তি বাড়াতে পারে। এবিপি-নিয়েলসেন-এর সমীক্ষা যেখানে তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবারে হতে পারে ২৪ এবং বিজেপির ১৬, সেখানে টাইমস নাও-ভি এম আর-এর মতে তৃণমূলের পক্ষে এবারে ফল যেতে পারে ২৮-১১। আরেকটি চ্যানেল রিপাবলিক টিভি এবং সি ভোটারের সমীক্ষা বলছে তৃণমূলের পক্ষে ফলাফল যেতে পারে ২৯-১১।

এক্সিট পোল মমতা মানেন না, কারণ তিনি উদ্বিগ্ন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই এক্সিট পোলকে সরাসরি মোদীর "তোষামোদকারী জাতীয় চ্যানেল"গুলির গুজব বলে দাবি করেছেন। তিনি এও বলেন যে প্রতিপক্ষ আসলে এই গুজবের মাধ্যমে ভোটবাক্সগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং সমস্ত বিরোধীপক্ষকে তিনি একসঙ্গে থাকার পরামর্শ দেন। একটি বাংলা চ্যানেলকে মমতা বলেন যে তিনি এই এক্সিট পোলগুলির বিশ্বাসযোগ্যতাকে মানেন না এবং অভিযোগ তোলেন যে এই সমীক্ষাগুলির মাধ্যমে বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় ফিরছে চাউর করে আসলে বিরোধীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, তৃণমূল নেত্রী এটাও দাবি করেন যে এখন কৃত্রিম উপায়ে বাজারকে চাঙ্গা করার চেষ্টা হবে বিজেপির পক্ষপাতিত্ব করে।
স্বভূমিতে জমি খোয়ানোর আশঙ্কা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফেরার ইতিবাচক সম্ভাবনার খবরটি যতটা না বড়, তার চেয়ে অধিক বড় হচ্ছে নিজের রাজ্যের তাঁর জমি খোয়ানোর আশঙ্কা। এবারের নির্বাচনে মমতা তাঁর নিজের রাজ্যের রাজনীতিকে একটি জাতীয় অভিমুখ দিয়ে বিজেপিকে ঢিট করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি দেখা যায় যে সে তো হলই না, উল্টে জাতীয় নির্বাচনে তৃণমূলকে ধাক্কা দিল রাজ্যের ইস্যু (যেমন পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসা বা তৃণমূলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব যার ফলে দলে ভাঙন), তাহলে তা নেত্রীর কাছে এক বড় মনস্তাত্বিক ধাক্কা।
বিজেপি যদি ভালো ফল করে এবারে, মমতার কাছে ২০২১ বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে
বিজেপি যদি ১৫-২০টি আসন জেতে পশ্চিমবঙ্গে এবারে, তবে তা তাদেরকে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেও অনেকটা উদ্বুদ্ধ করবে। বেশ কিছু লোকসভা আসনের অন্তর্গত বিধানসভা ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে থাকবে আর সেটা মমতার কাছে মোটেই সুখবর হবে না। যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট মমতার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে তাঁকে ব্যর্থ প্রশাসক হিসেবে অভিযুক্ত করে, তাদেরকে ফেরানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কাছছাড়া করাও নেত্রীর পক্ষে কার্যত অসম্ভব হওয়ার ফলে এক কঠিন ভারসাম্যরক্ষার খেলায় তাঁকে নামতে হবে। বিজেপি এই সুযোগটিই খুঁজবে।
রাজ্যে বাড়বে হানাহানিও
পশ্চিমবঙ্গের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই পরিস্থিতি যদিও খুব সুখকর হবে না। যদি তৃণমূল ও বিজেপি দু'টি দলের শক্তিই যদি প্রায় সমানে সমানে এসে ঠেকে, তাহলে কী পরিমাণ হিংসার সম্মুখীন যে রাজ্য হতে চলেছে তা সহজেই অনুমেয়। আর রাজনৈতিক আবহাওয়া যদি তেতে উঠতে থাকে, বাড়তে থাকে সংঘর্ষ, তাহলে আগামী দিনগুলি যে ভয়ঙ্কর তা বুঝতে অসুবিধে হয় না।
মমতাদেবী এও জানেন যে যদি বিজেপি এবারে বেশ গুছিয়ে নেয় তাদের পশ্চিমবঙ্গের মিশন, সেটা হবে তাঁর নিজের তৃণমূলের স্খলনের বিনিময়েই। বেশ কিছু নেতা ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এবারের ভোটে লড়েছেন। আর এই ট্র্যাডিশন চলতে থাকলে তৃণমূলের ভোট মেশিনারি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে; আখেরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন মমতাই। এবারের নির্বাচনের ফলাফল যদি মমতার অনুকূলে না যায়, তবে দু'বছরের মধ্যে হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনে অঘটন যে ঘটবেই না, তা জোর গলায় বলা মুশকিল।












Click it and Unblock the Notifications