বাংলা বিজয়ই লক্ষ্য, তাও দিশাহীন পদক্ষেপ কেন বিজেপির!

বাংলা বিজয়ই লক্ষ্য, তাও দিশাহীন পদক্ষেপ কেন বিজেপির!

ভোট ঘাড়ের ওপর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশ করে উঠতে পারেনি বিজেপি। প্রার্থী হওয়ার লোকের অভাব নেই। গুচ্ছ গুচ্ছ ইচ্ছেপত্র জমা পড়েছে বিজেপির রাজ্য কমিটির কাছে। তা নিয়ে তিন স্তর, চার স্তর, পাঁচ স্তর বাছাই হয়েছে। তারপর সেই তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য গিয়েছে হাইকমান্ডের কাছে। সেখানে রাজ্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজনাথ সিং, অমিত শাহ এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। যা সচরাচর দেখা যায় না। তারপরও এই দু'টি দফার সব আসনের প্রার্থী ঠিক করা সম্ভব হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ দখল পাখির চোখ হলেও ক্ষমতার দিক থেকে রাজ্য পার্টি যে ততটা ক্ষমতাশালী নয় তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই প্রার্থী হওয়ার গুচ্ছ গুচ্ছ আবেদনপত্র ফেলে দিয়ে নিজেদের বাছাই করা প্রার্থীদের তালিকায় রাখতে হচ্ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। সেই তালিকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আছেন, আছেন সাংসদরা। দলবদলু বিধায়কদের বহু ক্ষেত্রে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে অবশ্য রাজ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ কম নেই। কোথাও কোথাও তা তুমুল আকার নিয়েছে। কেন এই দিশাহীন পদক্ষেপ! নাকি এর পেছনে কোনও পরিকল্পিত স্ট্র্যাটেজি আছে নরেন্দ্র মোদিদের?

স্থানীয় প্রার্থীদের ওপর ভরসা না রেখে মাঠে মন্ত্রী, সাংসদরা

স্থানীয় প্রার্থীদের ওপর ভরসা না রেখে মাঠে মন্ত্রী, সাংসদরা

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোটের জন্য একজন রাজ্যসভার ও তিনজন লোকসভার সাংসদকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তার মধ্যে একজন আবার মন্ত্রীও। বাবুল সুপ্রিয়। বাবুলকে প্রার্থী করা হয়েছে টালিগঞ্জ আসনে। রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তকে প্রার্থী করা হয়েছে তারকেশ্বরে। লোকসভার আর দুই সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও লকেট চট্টোপাধ্যায় তাদের লোকসভা আসনের মধ্যে থাকা একটি বিধানসভা আসনে প্রার্থী হয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে কোচবিহার আসনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। এবার তাঁকে আবার দিনহাটা বিধানসভা আসনের প্রার্থী করে পাঠানো হয়েছে। লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন তাঁর লোকসভা আসনের অন্তর্গত চুঁচুড়া আসনে। এঁরা হেরে গেলে কোনও সমস্যা নেই। জিতলে সাংসদ পদ ছেড়ে দিতে হবে। যেমন তমলুকের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রামে জিতিয়ে আনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দুকে লোকসভার সাংসদ করে পাঠিয়েছিলেন। এই দু'দফায় চারজন সাংসদকে প্রার্থী করলেও বাকি চার দফায় আরও কয়েকজন সাংসদের বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকে মনে করছে নরেন্দ্র মোদি এমন একটা চাল খেলে এখানকার ভোটারদের মনে একটা ধারণা তৈরি করতে চাইছেন যে তাঁরা ক্ষমতায় আসবেন এবং এলে এঁরা রাজ্যের মন্ত্রী হবেন।

দলবদলুদের সবাইকে প্রার্থী নয়, যাঁদের করা হচ্ছে তাঁদের কঠিন লড়াই জিতে আসতে হবে

দলবদলুদের সবাইকে প্রার্থী নয়, যাঁদের করা হচ্ছে তাঁদের কঠিন লড়াই জিতে আসতে হবে

গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতে যাঁরা বিধায়ক হয়েছিলেন এবং পরে মন্ত্রী হয়েছেন কেউ কেউ, তাঁরা এবার তৃণমূলে জায়গা না পেয়ে দলবদল করে বিজেপির ঝান্ডা ধরেছেন। কেউ কেউ আগেই তৃণমূল থেকে আর সুযোগ পাবেন না জেনে চলে গিয়েছেন, আবার কেউ কেউ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সেই তালিকায় নিজেদের নাম না দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছেড়ে বিজেপিতে পা রেখেছেন। সবাইকে প্রার্থী করেনি বিজেপি। করবেও না। কিন্তু যাঁদের কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদেরকে নিজের জায়গাতেই প্রার্থী করা হয়েছে। যেমন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ডোমজুড়ে, প্রবীর ঘোষাল উত্তরপাড়ায়, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে সিঙ্গুরে প্রার্থী করা হয়েছে। যদিও বিজেপির নীতি ৭৫ বছরের বেশি বয়সী কাউকে প্রার্থী করা হবে না। কিন্তু ৮৯ বছর বয়সের বৃদ্ধ মাস্টারমশাইকে করা হয়েছে। তৃণমূলের তালিকা প্রকাশের পর সেই তালিকায় নিজের নাম না দেখে উনি বেরিয়ে এসে বিজেপিতে যোগ দেন। হয়তো মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে এমনই চুক্তি হয়েছে। এইরকম দলবদলু আরও অনেকেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদেরও কঠিন লড়াই জিতে আসতে হবে।

রুপোলি পর্দার তারকাদের প্রার্থী কেন

রুপোলি পর্দার তারকাদের প্রার্থী কেন

সাধারণ প্রার্থীর বদলে বিজেপি অনেক জায়গায় রুপোলি পর্দার তারকাদের প্রার্থী করে বাজিমাত করতে চাইছে। তারকা প্রার্থী তৃণমূলেও অনেক আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত এই ধারাটা এ রাজ্যে বেশি করে চালু করেছেন। এঁদের অনেকেরই নিজস্ব আকর্ষণ রয়েছে। তবে তা নির্ভর করে পর্দায় সেই তারকার আকর্ষণ কেমন তার ওপরে। যেমন দেবের আকর্ষণের সঙ্গে নিশ্চয়ই হিরণ চট্টোপাধ্যায় বা যশ দাশগুপ্তর তুলনা করা যাবে না। এই দু'দফায় বেশ কয়েকজনকে মাঠে নামানো হয়েছে। যাঁদের মধ্যে আছেন অঞ্জনা বসু, পায়েল সরকার, যশ দাশগুপ্ত। শোনা যাচ্ছে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ও নাকি প্রার্থী হবেন। এঁরা জিতে এলে বিজেপির ঝুলিতে ক'টা সিট বাড়বে, কিন্তু হেরে গেলে লোকসান নেই!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+