‘ইলেক্টোরাল বন্ডে ১৬০০ কোটি টাকা আছে, যা সাদা টাকা, দিন চাকরিহারাদের’: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশনকেই (SSC) দায়ী করেছেন।
আর এই সবের মাঝেই আরও একবার জোরালো হল সারদা, রোজভ্যালি প্রসঙ্গ। এদিন, মুখ্যমন্ত্রীর, ৭ এপ্রিল চাকরিহারাদের সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "৭ তারিখ কী কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রী? আর কী বলবেন উনি? তৃণমূলের ইলেকটোরাল বন্ডে ১৬০০ কোটি টাকা আছে, যা সাদা টাকা। চাকরিহারাদের টাকা দিতে হবে"।

বিরোধী দলনেতা এর সাথেই বলেন, "সারদা-রোজভ্যালি কেলেঙ্কারির সময় চিটফান্ডের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের রিলিফ ফান্ড থেকে বেতন দিয়েছিলেন। আপনি সেখানে জড়িয়ে ছিলেন, তাই তাঁদেরকে টাকা দিয়েছিলেন। তাহলে এবার ১৯ হাজার যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকের বেতনের ব্যবস্থাও করুন। ওদেরও টাকা দিয়ে দিন"।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা পৃথক করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু রাজ্য সরকার ও কমিশন তা করেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়ের জন্য বিজেপি-বামকে দায়ী করলেও, শুভেন্দু বলছেন, "এই দুর্নীতির সূত্রপাত হয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পরেশ অধিকারীর মেয়েকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সময় থেকেই"।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা চাকরিহারাদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাম-বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যু যে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে সব কিছুর মধ্যে ফের একবার যেন শিরোনামে উঠে এল সেই সারদা, রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ড।












Click it and Unblock the Notifications