নির্বাচনে রিগিং উন্মোচিত সত্য: কীভাবে অনুপ্রবেশকারীরা ভোট হাইজ্যাক করে বিরোধীদের হারাচ্ছে
পশ্চিমবঙ্গে দশকের পর দশক ধরে অবাধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক, জনসংখ্যাগত, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক গভীর পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন দুর্বল সীমান্ত, অর্থনৈতিকভাবে উচ্ছেদের মাধ্যমে পরিবর্তন এনেছে। এখন এগুলি এমন সমস্ত প্রভাব ফেলছে যা বাংলার পরিচয় এবং শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একটি শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক যাদের হাতে জনমত নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চলে যাচ্ছে, হিন্দুদের পৈতৃক ভিটে থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে, জনসংখ্যাগত চাপে দাঙ্গা হচ্ছে, মৌলবাদী ভাবনার বিকাশ ঘটছে এবং অস্তিত্ব রক্ষার এক যুদ্ধে সমাজের একটি অংশকে নামতে হয়েছে- এগুলিই এই লেখায় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিণতি: এমন ভোটব্যাঙ্ক যা জনমত নিয়ন্ত্রণ করে
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে, যেখানে সামান্য ব্যবধানে হার-জিত নির্ধারিত হয়, সেখানে বাংলাদেশি মুসলমানরা এক প্রভাবশালী নির্বাচনী শক্তি হিসাবে উঠে এসেছে। এই ভোটব্যাঙ্ক জোট ও নীতি উভয়কেই নতুন রূপ দিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ৩০% মুসলিম, যা সংখ্যার বিচারে প্রায় ২.২৫ কোটি। এর মধ্যে ১০২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলমানদের সংখ্যা অনেক। এবং ৭৪টি কেন্দ্রে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার। এই জনসংখ্যাগত প্রভাব, ভুয়ো পরিচয়ে ভোটাধিকার প্রাপ্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলস্বরূপ সরকারে টিকে থাকতে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দল তাই তোষণের পথে চলতে বাধ্য হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে। এরা এখন শুধু ভোটব্যাঙ্কই নয়, মাঠে নেমে পেশিশক্তি দেখানোর কাজও করে।

কলকাতার রাজনৈতিক বিশ্লেষক অভীক সেন এই অনুপ্রবেশকারীদের ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, "বাংলার মুসলিমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করে কারণ শাসক দল তাদের তোষণ করে এবং তারা জানে যে যতক্ষণ তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকবে, ততক্ষণ তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। আর বাংলাদেশি মুসলিমদের হাতে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই।" এই সুরক্ষাকবচ তাদেরকে অন্য রাজ্যে চলা নির্বাসনের হুমকি থেকে রক্ষা করে চলেছে। আর সেজন্যই উপায় না দেখে অভূতপূর্ব আনুগত্য তৈরি হয়েছে শাসক দলের প্রতি।

ভোটের আগে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিযায়ী শ্রমিক, যারা অধিকাংশই বাংলাদেশি মুসলমান, তাদের রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে। তাদের জন্য ট্রেনের টিকিট কাটা, বাসের ব্যবস্থা করা এবং নগদ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। রাজ্যে পৌঁছেই অনেকেই শাসক দলের গুন্ডা বাহিনীর সদস্য হিসাবে কাজ করছে। তারা বিরোধীদের ভয় দেখাচ্ছে। অ্যামস্টারডামের ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন ইনস্টিটিউটের সঞ্জীব গুপ্তার অনুমান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বাংলার ৩.৩৪ কোটি পরিযায়ী শ্রমিকের ৭৫-৮০% মুসলমান। এর মধ্যে এমন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে যারা প্রথমে ভারতে প্রবেশের জন্য সীমান্ত পেরিয়েছে এবং পরে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে। ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবেশ মোহান্তি এই ধারণাকে সমর্থন করে বলেন, "তারা অবৈধভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে এবং শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি পেতে স্বল্প সময়ের জন্য বাংলায় থাকে। এরপর এই লোকেরাই কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যায়।"

নদিয়ায় কয়েকমাস আগে হওয়া কালীগঞ্জ উপনির্বাচন এর এক মস্ত উদাহরণ। এই আসনে ৫৮.৫% মুসলিম ভোটার ছিল। এবং তৃণমূলের প্রার্থী আলিফা আহমেদ ৫৫.১৫% ভোট পেয়ে বিজেপির আশিস ঘোষকে পরাজিত করেছেন। তৃণমূল এই জয়কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি জনগণের সমর্থন হিসেবে উদযাপন করলেও, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মোক্ষম তথ্য তুলে ধরে বলেছেন, "তৃণমূল বুঝতে পেরেছে যে বিজেপি তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি... তাই তারা কংগ্রেসের প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে বিজেপির ভোট কাটতে চেষ্টা করেছে।" কংগ্রেস-বাম জোট ১৫.২১% ভোট পায়, যা বিরোধী দলের শক্তিকে ভেঙে দিয়েছে। লক্ষণীয়ভাবে, ১০৯টি হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ বুথের মধ্যে ১০৮টিতে বিজেপি প্রায় ৭৩% ভোট পেয়েছে। ফলে জনসংখ্যার পরিবর্তনের আঁচে যে হিন্দুরাও উদ্বিগ্ন তা ভোটের প্রবণতা দেখেই বোঝা গিয়েছে।

এবছর নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের কর্মকাণ্ডে যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রাতের ঘুম উড়তে চলেছে তার আগাম আঁচ পাওয়া গিয়েছে। এর লক্ষ্য ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী অনাবাসী ভোটারদের বাদ দেওয়া। সরকারি তথ্যে বাংলায় ২১.৬৭ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যানবিদ অনিরুদ্ধ বসু মনে করেন যে কয়েক দশকে প্রকৃত সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। মুসলিম-প্রধান মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হলে, ২০২১ সালে তৃণমূলের সামান্য ব্যবধানে জেতা ৪৫-৫০টি আসন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এটিকে ভোটাধিকার হরণ বলে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন। সুকান্ত মজুমদার এর পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, "বর্তমান ঠিকানা মাপকাঠি হওয়া উচিত... যারা অন্য জায়গায় থাকেন এবং কাজ করেন, তাদের নাম বাদ দেওয়াকে আমরা স্বাগত জানাব।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তোষণের এই ট্র্যাডিশন কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের আমলেও ছিল। কিন্তু তৃণমূলের আমলে এটি আরও বেড়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য, বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক সমস্যা এবং হিন্দুদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে মোকাবিলা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই ভোটব্যাঙ্ক শাসক দলকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে, কার্পেটের তলায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে বৃহত্তর সামাজিক সমস্যাগুলিকে।
জনসংখ্যায় ভারসাম্যের অভাব: হিন্দুদের পৈতৃক ভিটে থেকে উচ্ছেদ
নির্বাচনী লড়াইয়ের বাইরে এই বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। বিশেষত সীমান্বতীত এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যার ধীরে ধীরে অবলুপ্তি ঘটছে। এটি মূলত অনুপ্রবেশ এবং পরিকল্পিত চাপের কারণেই ঘটছে। পরিসংখ্যন বলছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ১৯৭০-এর দশকে হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ৬৮% ছিল। যা আজ কমে ৩২%-এ এসে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫১ সালে কালীগঞ্জে ৫৮% হিন্দুর বাস ছিল। যা ২০১১ সালে ৪১.৩৬% এ নেমে আসে। এবং ২০২৫ সালের হিসাবে এই সংখ্যা ৩৯% এর নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ হল, অবৈধ অভিবাসন এবং অসম প্রজনন হার।

অনেকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এই ঘরছাড়া হওয়ার চিত্র তুলে ধরে। বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালিতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদেরকে শেখ শাহজাহানের মতো ব্যক্তিরা তৃণমূলের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। ওই অঞ্চলের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণপদ মণ্ডল জানিয়েছেন, "রোহিঙ্গারা প্রায় সাত-আট বছর আগে এখানে আসতে শুরু করে। তৃণমূল নেতারা তাদের আশ্রয়, খাবার এবং পোশাক সরবরাহ করেছে।" এই রোহিঙ্গারা শুরু থেকেই অপরাধপ্রবণ। তারা জমি দখল করে, নারীদের হয়রানি করে এবং হিন্দুদের ভয় দেখাতে শুরু করে। হিরণ দাস সন্দেশখালি ছেড়ে কলকাতায় পালিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, "প্রথম থেকেই রোহিঙ্গারা এক উপদ্রব। ওরা হিন্দু মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত। আর তৃণমূল নেতারা সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিত।"
স্থানীয়রা এটিকে "ল্যান্ড জিহাদ" বলে অভিহিত করেছেন। বাদুড়িয়ার কাছাকাছি বসবাসকারী ৭০ বছর বয়সী শক্তিপদ দাস ১৯৮০-এর দশকে বৃত্তিপাড়া থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। স্মৃতিচারণ করে জানালেন, "মুসলিমরা দলে দলে আসতে শুরু করল। তারা আমাদের উৎসবে আপত্তি করত। অবশেষে, আমরা আমাদের জমি বিক্রি করে চলে চলে এলাম।" ৫৪ বছর বয়সী বিমল চন্দ্র দাস কাইজুরিতে একই ধরনের হুমকির মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বলপূর্বক তিনি ঘরছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন। রঘুনাথপুরের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা সৌমিত্র প্রামাণিক জানিয়েছেন, "এখানে মুসলিমরা খুব আগ্রাসী হয়ে উঠেছে... এটি তাদের মৌলবাদী হওয়ার লক্ষণ।"

এভাবেই বাংলার ৩.৩৪ কোটি পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যাকে আরও বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক কারণগুলি প্রধান হলেও, কিছু হিন্দু নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। কেউ অসম, ওড়িশার মতো রাজ্য বেছে নিচ্ছেন। ওড়িশার সম্বলপুরে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমরা, যারা দুই দশক আগে শ্রমিক হিসেবে এসেছিল, এখন সেখানে জনসংখ্যার হিসাবে তারা ৯ শতাংশ। দুই বছর আগে রথযাত্রার সময় গোলমালে যাদের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ।
পরিবেশের ভয়াবহতা এই অনুপ্রবেশকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে নিঃসন্দেহে। বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এই শরণার্থীদের ৪০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত পার করতে বাধ্য করেছে। দুর্ভাগ্য এর মাত্র ৮০%-ই কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। বাকিরা উন্মুক্ত। আর সেখান দিয়েই রোহিঙ্গা এবং অন্যান্যরা অবাধে সীমান্ত পার করে চলে আসছে। এভাবেই নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলি সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হয়েই থেকে গিয়েছে। এর ফলেই বাংলায় হিন্দুদের নানাদিক থেকে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।

পরিণতি দাঙ্গা: জনসংখ্যার চাপের বিস্ফোরক ক্ষেত্র
এই জনসংখ্যার ভারসাম্যের অভাব বাংলাকে অস্থির এলাকায় পরিণত করেছে। এখানে জনসংখ্যার চাপ দাঙ্গার রূপ নেয়, এবং তার সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের যোগ প্রমাণিত। সেন্টার ফর স্টাডি অফ সোসাইটি অ্যান্ড সেকুলারিজম (CSSS) অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক ঘটনা ৮৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ৫৯টি ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে উৎসব-সম্পর্কিত সংঘর্ষে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেয়েছে।
এক সংবাদ প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের বাদুরিয়া সংঘর্ষ, যা একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে শুরু হয়েছিল, বসিরহাটে ব্যাপক বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। পরিবারগুলিকে ঘরছাড়া হতে হয় এবং বিরোধ বিরাট আকার নেয়। মৌলবাদী প্রভাব এই ধরনের ঘটনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। বাদুড়িয়ায় মাদ্রাসাগুলি বিদ্বেষ প্রচার করেছিল। লস্কর যোগে ২০২৩ সালে তানিয়া পারভীনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বসিরহাট কলেজের একজন প্রাক্তন অধ্যাপক সতর্ক করে বলেছেন, "বাদুড়িয়ার অধিকাংশ মুসলিম তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠায়। সেখানে মৌলবাদী সালাফি ধর্মগুরুরা শুধুই ঘৃণা প্রচার করেন।"
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সালের হাওড়ায় রাম নবমীর সময় হিংসার ঘটনার তদন্তকারীরা "পূর্বপরিকল্পিত, পরিকল্পিত" বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে মিছিলের উপর ছাদ থেকে আক্রমণ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ আইন বিরোধী বিক্ষোভ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নেয়। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তদন্তে বাংলাদেশি মৌলবাদীদের জড়িত থাকার কথাই উঠে এসেছে। এনডিটিভি সূত্রেও বলা হয়েছে, "প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি মৌলবাদীদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত রয়েছে।" কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী কল্লোল কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, "হিন্দুদের উপর ভয়ঙ্কর আক্রমণের ফলে সারা রাজ্যের হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।"

প্রকাশ্য ঘোষণা: ইসলামিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন
ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝেই একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য ভীতিকে বাড়িয়ে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, কলকাতায় একটি ইফতার পার্টিতে, তৃণমূলের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন: অমুসলিমরা অভিশপ্ত মানুষ। নিশ্চিত জন্নতের জন্য তিনি "ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়ার" পক্ষে সওয়াল করেন। বিজেপি এটির সমালোচনা করলেও হাকিম নিজের বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেননি।
এর আগেও ২০১৬ সালে ফিরহাদ হাকিম একজন পাকিস্তানি সাংবাদিকের কাছে গার্ডেন রিচকে "মিনি-পাকিস্তান" বলেছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুর্শিদাবাদে তিনি মুসলিমদেরকে "সংখ্যাগরিষ্ঠ" হওয়ার আবেদন জানান। ২০২৫-এও তিনি অবৈধ পরিযায়ীদের ধরপাকড় প্রসঙ্গে ঘুরিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

এই বক্তব্যগুলি মুর্শিদাবাদ এবং মালদার মাদ্রাসাগুলিতে যে আদর্শ প্রচার করা হয় তার ভাবনাকে প্রতিফলিত করে। ২০২৫-এর এপ্রিলে ডেকান হেরাল্ডের একটি তদন্তে দেখা গিয়েছে, তৃণমূল সমর্থিত বাংলাদেশি মৌলবাদীরা সীমান্তপার নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে ওয়াকফ সম্পর্কিত হিংসা উস্কে দিয়েছে।
১৯৪৬ সালের কলকাতা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই পরিস্থিতির মিল রয়েছে। ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোটের উপর ভর করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্য, এই পরিবেশকে আরও উৎসাহিত করেছে। তৃণমূলেরই এক নেতা স্বীকার করেছেন: "ফিরহাদ ভাই যা বলেন, অনেকেই তা ভাবেন, কিন্তু বলতে সাহস করেন না। এটি বিজেপির হিন্দুত্ব ভাবনার বিরুদ্ধে আমাদের ঢাল।"
ধুলিয়ান থেকে করা এক্স পোস্টে বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে রোহিঙ্গারা তাদের নিজস্ব আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। বাস্তুহারা দোকানদার দেবন হালদার লিখেছেন: "আমাদের মন্দিরগুলি এরপর ওদের টার্গেট; ওরা ইতিমধ্যে জমি চিহ্নিত করে রেখেছে। এটি দেশান্তর নয়; এটি হল হরণ করা।" এই ঘটনাগুলি একটি পরিবর্তনকে চিত্রিত করে চলেছে। এবং এটা সত্যি যে বাংলায় বহুত্ববাদ হুমকির মুখে।
অস্তিত্বের হুমকি: পরিচয়, মর্যাদা এবং বেঁচে থাকার লড়াই
বাঙালি হিন্দু দুর্গা থেকে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এই মৌলবাদী বিপদ তাদের মূল পরিচয়ে আঘাত করছে। মুর্শিদাবাদের গলিগুলিতে মন্দির-মূর্তি ভাঙা, দেওয়ালে "কাফের" লেখা, রোহিঙ্গারা ভয় দেখাচ্ছে, স্থানীয়দের বহিরাগত বলছে। ২০২৫-এর এপ্রিলে ধুলিয়ানের সংঘর্ষে চারশোর বেশি হিন্দু পরিবার নিয়ে বাড়িছাড়া হয়ে মালদায় চলে গিয়েছিল।

২০১১ সালে ২৭% মুসলিম, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫% এ পৌঁছতে পারে। ২.৪ প্রজনন হার (হিন্দুদের হার ১.৮) এবং ৯৬৩ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমানা দিয়ে ১৫% অবৈধ অনুপ্রবেশবড় বিপদ ডেকে আনছে। মুর্শিদাবাদ (৬৬% মুসলিম) এবং মালদা (৫১%) হল আগ্নেয়গিরির মতো, এখানে দুর্গাপুজোও পুলিশ পাহারায় করতে হচ্ছে।
২০২৫ এর মার্চে তদানীন্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় সতর্ক করেছিলেন। তাঁর মতে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন জাতীয়তাবাদকে বিপন্ন করছে। বিশেষ করে তিনি বাংলার কথা উল্লেখ করেই একথা বলেছিলেন। উত্তর দিনাজপুরে লাভ জিহাদ মেয়েদের প্রলুব্ধ করছে; কোচবিহারে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ইতিহাসবিদ অমিয় বসু বলেন, "বাংলার হিন্দুরা নিজেদের জন্মভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে। যদি আমরা এটিকে উপেক্ষা করি, আমরা আমাদের সন্তানদেরও একটি ভাগাভাগি উপহার দেব - মানচিত্রে নয়, বরং ভয়ের মাধ্যমে।" মুর্শিদাবাদের একজন এক্স ব্যবহারকারী সেই কথাকেই যেন প্রতিধ্বনিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, "আমরা আমাদের নিজেদের মাটিতেই উদ্বাস্তু। বাংলা জ্বলছে।"
আর্থ-সামাজিকভাবে অনুপ্রবেশকারীরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছে, হিন্দুদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করছে। মুর্শিদাবাদে ২০২৫ সালের ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন-এর একটি রিপোর্ট সম্পূর্ণভাবে "সরকারি অব্যবস্থা"-র কথা উল্লেখ করেছে। তৃণমূল কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পর কথা বলে বুক ফোলালেও কলকাতা হাইকোর্টের দাঙ্গা পরবর্তী পর্যবেক্ষণে মৌলবাদের হুমকির কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জলঙ্গির একটি ভাঙা মন্দিরের পুরোহিত বলেছেন, "আমরা দুর্ভিক্ষ এবং দেশভাগ থেকে বেঁচেছি, কিন্তু এই ধীরগতির নিষ্কাশন? এ যেন শরীরকে মারার আগে আত্মাকে মেরে ফেলছে।"
উপসংহার: সতর্কতার আহ্বান
পশ্চিমবঙ্গের বিপদের নানান দিক রয়েছে। একদিকে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত, তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কের হিসবেনিকেশ, বাংলাদেশের অস্থিরতা- সঙ্গে বিভক্ত সমাজ এবং দুর্বল জাতীয় ঐক্য। অসমের এক বাসিন্দা সতর্ক করে বলেছেন, "আমাদের থেকে শিখুন। কম জন্মহার এবং খোলা সীমান্ত স্বর্গকে নরকে পরিণত করেছে।"
প্রতিকার হল নিশ্ছিদ্র সীমান্ত, সিএএ-র মাধ্যমে ফেরত পাঠানো, নথি পরীক্ষা; অসমের উচ্ছেদ এবং চরমপন্থা বিরোধী জোটের অনুকরণ, সঙ্গে ঢাকার সহযোগিতা। এর জন্য রাজনীতিবিদেরা কট্টরপন্থীদের সামলাক, অন্যদিকে নাগরিক সমাজও সচেতন হোক। বস্তূত, বাংলা এক অদ্ভূত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। উত্তরাধিকারীদের হাতে কী থাকবে? ২০২৬ এর নির্বাচন এর ফয়সালা করতে পারবে। কিন্তু পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করতে হবে।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications