২০২১-এর বাংলা-অসমের বিধানসভা নির্বাচনেই বড় ইস্যু সিএবি, পরীক্ষা জনতার আদালতে
অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে সংসদে। এই বিলই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের শীর্ষ নির্বাচনী-ইস্যু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে।
অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে সংসদে। এই বিলই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের শীর্ষ নির্বাচনী-ইস্যু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে। উল্লেখ্য, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ক্ষমতা দখল করতে চাইছে আর অসমে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে নামছে। তার আগে হাতিয়ার এই সিএবি ও এনআরসি।

অমুসলিমদে্র নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য বিল
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনানুগভাবে একদল অবৈধ অভিবাসীকে ভারতের নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি দেবে। ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত বা পালিয়ে এসেছে, তাঁদেরকে নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য এই বিল আনা হয়েছে।

তিন দেশ থেকে আসা অমুসলিমরাই আবেদনযোগ্য
কিন্তু ওই তিন দেশ থেকে আসা অমুসলিমরাই শুধু ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। শরণার্থী হিসেবে ধরা হবে অমুসলিম সম্প্রদায়ের অধিবাসীদের। সমালোচকরা এই নতুন আইনকে মুসলমানদের প্রান্তিক করে দেওয়ার একটি চক্রান্ত হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

মুসলিমদের প্রতি অমিত শাহের আশ্বাস
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে সরকারের পক্ষের সাংসদরা উভয় সভাতেই আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতীয় মুসলমানদের মর্যাদায় আঘাত করবে না। যারা ওই তিন দেশ থেকে এসেছেন তাঁদের জন্য কড়া হবে এই বিল।

বাংলা-অসমের ভোটে সিএবি ইস্যু
তবে বিরোধী দলগুলির প্রত্যেক সংসদ সদস্যই সিএবি-কে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডা হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই বিল মুসলমানদের প্রান্তিককরণের চেষ্টা বলে জানিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ সকল সদস্যরা। ফলে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় ২৭-৩০ শতাংশ মুসলমান কী অবস্থান নেয়, তার উপর নির্ভর করবে আসন্ন ভোটের ফল। একইভাবে অসমেও মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ মুসলিম।

দুই রাজ্যেই ফের ধর্মীয় মেরুরণের তাস
এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে দুই রাজ্যেই ফের ধর্মীয় মেরুরণের তাস ফেলে দিল বিজেপি। মুসলিম বনাম অমুসলিম বিতর্ক ফের প্রকট হয়ে উঠবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে। বাদ যাবে না বাংলা-অসমও। আসন্ন নির্বাচনেই বাংলা ও অসমে ধর্মীয় মেরুকরণের মোড়কে ভোট হতে পারে।

বিগত নির্বাচনে অসম-বাংলার মুসলিম ভো
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে অসমে কংগ্রেস ও বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ ৭৮ শতাংশ মুসলিম ভোট পেয়েছিল। বাংলায় টিএমসি, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস ৯৯ শতাংশ মুসলিম ভোট পেয়েছিল। উভয় রাজ্যেই বিজেপির মুসলিম ভোটের যৎসামান্য অংশ পেয়েছিল।

অসমে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা ভোট মেরুরণে
তবুও বিজেপি ২০১৬ সালে অসমে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে। ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পায়। অবৈধ অভিবাসীদের ইস্যুটি ছিল এই বড় মেরুকরণের কারণ। বাংলাতেও ভোটে উন্নতি করে বিজেপি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে একই সময়ে বাংলা এবং অসমে ভোট হয়েছিল।

২০১৯-এ বাংলায় প্রভাব বিস্তার বিজেপির
তবে ২০১৯-এ বিজেপি বাংলায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। তৃণমূল মাত্র ২২টি আসনে জিততে সমর্থ হয়। বিজেপি ১৮টি লোকসভা আসনে জয়লাভ করে তুলনায় ভালো ফল করে। কারণ বিগত লোকসভায় মাত্র দুটি আসন লাভ করেছিল বিজেপি। সেখানে থেকে বেড়ে ১৮টিতে পৌঁছে যায় বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications