স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে রাজ্যে! মুখ্যসচিবকে শিক্ষা দফতরের প্রস্তাবে জল্পনা
স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে রাজ্যে! মুখ্যসচিবকে শিক্ষা দফতরের প্রস্তাবে জল্পনা
করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখরা সুপারিশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে স্কুল-কলেজসহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছিলেন করোনা বিধির আওতায়। এবার করোনার আবহেই শিক্ষা দফতরের তরফে স্কুল খোলা নিয়ে মুখ্যসচিবের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হল।

করোনার বাড়বাড়ন্তে নতুন বছরের সূচনাতেই নানা ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ হয়েছিল। কিন্তু হালে সেই সমস্ত ক্ষেত্রে নিয়ম শিখিল হয়েছে। কিন্তু স্কুল-কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এখনও লাগু রয়েছে করোনা বিধি। ফলে পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে। এই অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠেছে, অবিলন্বে খোলা হোক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। শুরু হোক পঠনপাঠন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুল-কলেজসহ যাবতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খোলার দাবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ফেসবুক-টুইটার-হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে আলোচনা যদি ২০০ জন আমন্ত্রিত নিয়ে বিয়ে বাড়ি হতে পারে, শপিংমল-পার্ক খুলতে পারে, মেলা-উৎসব হতে পারে, তাহলে কেন স্কুল খুলতে পারে না। কেন ফের পঠনপাঠন শুরু হতে পারে না।
এই আঙ্গিকেই স্কুল শিক্ষা দফতর এবার নড়চড়ে বসল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবি ওঠার পরই স্কুল খোলা নিয়ে মুখ্যসচিবকে প্রস্তাব দিল শিক্ষা দফতর। মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী সেই প্রস্তাব পেয়ে জানিয়েছেন, শীঘ্রই এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচিব ও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবে রাজ্য সরকার। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার খতিয়ে দেখা দরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি।
মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, সব দিক বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে এ ব্যাপারে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যায় কি না, খুললে কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সম্যক জেনেবুঝেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না সরকার। কেননা সবার আগে জীবন।
কিন্তু প্রশ্ন এখানেই যে, স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে শুধু জীবনের প্রশ্ন, অন্য ক্ষেত্রে নয় কেন? এই পরিস্থিতিতে সমস্ত মেলাতেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কোনও বিধি মানা হচ্ছে না। যত বিধি কি স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাই দাবি উঠেছ, অবিলম্বে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের আবার শ্রেণিকক্ষে পড়াশোর পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, নতুন বছরের শুরুতেই করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার কারমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়-সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজ্যরে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমস্তরকম পঠনপাঠন বন্ধ হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ৫০ শতাংশকর্মীর স্কুল-কলেজে আসার অনুমতি ছিল।












Click it and Unblock the Notifications