আইপ্যাক অভিযান নিয়ে চাঞ্চল্য, দিল্লিতে পৌঁছল ইডির বিশদ রিপোর্ট, মুখ্যমন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপ' নিয়েও উল্লেখ
কলকাতায় বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন করে তাপ বেড়েছে কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্কে। সল্টলেকের সেক্টর ভি তে আইপ্যাকের দপ্তর ও লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার যে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট একদিনের মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির সদর দপ্তরে। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি 'জোর করে কেড়ে নেওয়া' হয়েছিল ও সেই অভিযোগও নথিভুক্ত হয়েছে রিপোর্টে।
ইডি সূত্রে জানা যায়, তল্লাশির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরাসরি জানতে চেয়েছিল। সেই নির্দেশেই তল্লাশিতে উপস্থিত আধিকারিকদের বয়ান ও ঘটনাক্রম সাজিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তৃত রিপোর্ট। তা দিল্লি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চস্তরেও পাঠানো হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট দশটি জায়গায় অভিযান চলছিল। কলকাতার দুটি জায়গায় তদন্তে 'প্রশাসনিক বাধা' সৃষ্টি হয়েছে বলেই সংস্থার অভিযোগ। অভিযোগের মূল কেন্দ্র মূল্যবান ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্তের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ঘটনাস্থলে এসে হস্তক্ষেপ করেছেন। ইডির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী তা উপেক্ষা করেন ও সংস্থার এক আধিকারিকের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নেন। প্রায় দশ মিনিট পর তিনি ঘটনাস্থল ছাড়েন।
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, সকাল থেকেই তাঁরা বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলেও ইডি পরিচয়পত্র বা পরোয়ানা দেখাতে চায়নি, বরং উল্টে পুলিশকেই বাধা দেওয়া হয়। এরপরই পুলিশ কমিশনার ও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনা ঘিরে এখন আইনি সংঘাতও তীব্র। তৃণমূল ও ইডি উভয় পক্ষই পৃথকভাবে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে। দুই মামলার যৌথ শুনানি আপাতত ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন, তল্লাশি থেকে নথি পর্যন্ত, তদন্তের পরত খুলতেই কি আরও মুখোমুখি সংঘাত? না কি এই ঘটনার রাজনৈতিক রেশ থাকবে দিল্লি থেকে কলকাতা পর্যন্ত?












Click it and Unblock the Notifications