'ক্ষমতার অপব্যবহার'! তল্লাশির মাঝেই নথি সরানোর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, হাইকোর্টে মামলা ইডি-র
I-PAC (Indian Political Action Committee)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ঘিরে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ যে, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করতে গিয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইডি। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেছে। জানা গিয়েছে যে, আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত এদিন সকালে। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার সূত্র ধরে I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। আর ঠিক তার পরেই ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
ইডি আধিকারিকরা যখন প্রতীক জৈনের বাড়ির ভিতরে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হন। তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ঘটনা এই রাজ্যে আগে কখনও দেখা যায়নি।
প্রায় ১৫ মিনিট ধরে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঢোকার সময় তাঁর হাতে কিছুই ছিল না। কিন্তু বেরোনোর সময় তাঁর হাতে দেখা যায় একটি সবুজ ফাইল।
বাড়ি থেকে বেরোনোর পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ ছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, ইডি আসলে তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে চাইছিল। মমতার দাবি যে, প্রতীক জৈন দলের আইটি এবং পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাড়ি থেকে হার্ডডিস্ক, প্রার্থীদের তালিকা, দলের কৌশল এবং স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযানের পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পাল্টা ব্যাখ্যা দেয় ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার বিভিন্ন সূত্র মারফত জানানো হয় যে, সম্পূর্ণ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল। ইডির দাবি যে, এটি বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত। সেই মামলায় পশ্চিমবঙ্গের ছ'টি এবং দিল্লির চারটি জায়গা মিলিয়ে মোট ১০টি স্থানে তল্লাশি চলছিল।
ইডির অভিযোগ অনুসারে, তল্লাশির সময়ই সাংবিধানিক পদের প্রভাব খাটিয়ে দু'টি জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করেছে ইডি। সেখানে বলা হয়েছে যে, আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। বিবৃতিতে ইডি দাবি করেছে যে, অনুপ মাজি নামের এক ব্যক্তি এই কয়লা পাচার চক্র চালাতেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়লা চুরি করে বেআইনি ভাবে সেগুলি বাইরে পাঠানো হত।
ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, তল্লাশি শান্তিপূর্ণ ভাবেই চলছিল। কিন্তু সেই সময় হঠাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তারপর জোর করে নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নিয়ে চলে যান।
এই ঘটনার জেরে রাজ্য এবং কেন্দ্রের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আদালতের রায় কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক শিবির।












Click it and Unblock the Notifications