ED Attacked In Sandeshkhali: সন্দেশখালি নিয়ে মমতা নীরব! লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিকে লোপ্পা হাফভলি তৃণমূলের?
ED Attacked In Sandeshkhali: রেশন দুর্নীতির তদন্তে সন্দেশখালিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন ইডি আধিকারিকরা। হামলা, হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও।
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য তথা দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি-সহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলি তৃণমূলকে নিশানা করেছে। আক্রান্ত ইডি আধিকারিকদের দেখতে ছুটে গিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এদিন একাধিকবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরব হয়েছেন। রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন। এদিন রাতে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর এজলাস থেকেই রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি, সিবিআইকে একযোগে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই তদন্তে গিয়ে অফিসাররা আক্রান্ত হয়েছেন।
দুর্নীতি হয়ে না থাকলে রাজ্য সরকারকে তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়। এদিনের ঘটনায় দেশের কাছে বাংলাকে লজ্জিত করল বলেও উপলব্ধি তাঁর। যদিও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে বিজেপি নেতা বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা। বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের কথায় যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো, রাজ্য পুলিশকে আগাম কোনও বার্তা না দিয়েই এদিনের অভিযানে গিয়েছিল ইডি। নবান্ন সূত্রকে উল্লেখ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ঘটনার কথা জানতে পেরেই পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তর থেকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যদিও ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণের ঘটনার নিন্দা বিরোধীদের তরফে করা হলেও শাসক দল মুখ বাঁচানোর রাস্তা খুঁজছে। অন্য রাজ্যে গিয়ে সিআইডি আধিকারিকদের আটক হওয়া, নিগ্রহের উদাহরণ তুলে ধরে বিজেপিকে নিশানা করাতেই ফোকাস করেছে তৃণমূল।
অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা। রাজ্য পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়াতেও এদিনের ঘটনা নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অনেকেই দাবি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া পদক্ষেপের।
তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকেই মনে করছেন শাহজাহান শেখ ও তাঁর অনুগামীরা এদিন যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন তাতে আখেরে তৃণমূলের বিড়ম্বনাই বাড়ল। এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকেই। প্রশ্ন জাগতেই পারে, কোনও সত্যকে চাপা দিতেই কি তদন্তে বাধাদানের প্রয়াস?
তৃণমূলের নেতারা যখন মুখরক্ষার উপায় খুঁজতে দিশেহারা, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিবৃতিই কিন্তু গোটা ঘটনাকে অন্য মাত্রা দিতে পারতো। তৃণমূলের একাংশের দাবি, মমতার কথা বিশ্বাস করেন বাংলার সিংহভাগ মানুষ। সেই ফ্যাক্টর কাজে লাগিয়েই দুধ আর জল আলাদা করে দিয়ে গোটা ঘটনা উপস্থাপিত করতে পারতেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা এদিনের ঘটনা নিয়ে সন্দেহের মেঘ আরও ঘন করে দিচ্ছে বলে অভিমত তৃণমূলের একাংশের। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে কলকাতা প্রেস ক্লাবের নীরবতাকে খোঁচা দিয়েছেন শুভেন্দুও। রাজ্য সরকার বা তৃণমূলের তরফে সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দাসূচক বিবৃতিও দেওয়া হয়নি। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, লোকসভা ভোটের আগে এই ফাউল করে কি বিজেপিকেই লোপ্পা হাফভলি দিয়ে দিল তৃণমূল?












Click it and Unblock the Notifications