চন্দ্রনাথকে হেফাজতে চাইল ইডি, মন্ত্রীর পুজো কি কাটবে কারাগারেই? স্পষ্ট হবে মঙ্গলে
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগ দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে হেফাজতে চাইল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবে ব্যাঙ্কশালের বিশেষ আদালত।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে এদিন চন্দ্রনাথের জামিনের বিরোধিতা করা হয়। ইডি আদালতে জানায় মন্ত্রীর বাড়ি থেকে ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধারের কথাও।

শুনানি চলাকালীন আজ ইডির আইনজীবীর কাছে আদালত জানতে চায়, চার্জশিট দাখিলের আগে যখন নানা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল তাহলে বয়ান নথিবদ্ধ করার ১১ মাস পর কেন চার্জশিট দেওয়া হলো? ইডির আইনজীবী বলেন, তল্লাশি ও বয়ান নথিবদ্ধ করার মধ্যে পঞ্চম চার্জশিট জমা পড়েছে। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন আধিকারিকরা।
ইডি আদালতকে জানিয়েছে, গত বছর চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে নগদ ৪১ লক্ষ টাকা ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীরা কোনও খামতি রাখতে চাননি। সে কারণে আরও কিছু তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছিল। সে কারণে তখন চন্দ্রনাথ সিনহাকে হেফাজতে নেওয়া হয়নি। এখন তাঁকে সাতদিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আর্জি মঞ্জুর করা হোক।
আজ আদালত থেকে বেরনোর সময় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ বলেন, গতকাল থেকে অনেক কিছু বলা হচ্ছে। সকলেই আদালত কক্ষে ছিলেন, কী হয়েছে সব দেখেছেন, শুনেছেন। বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
ইডির আইনজীবীদের দাবি, চন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে যে টাকা ও নথি উদ্ধার হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন চাষ ও ফলন থেকে ওই টাকা পেয়েছেন তিনি। যদিও বয়ান রেকর্ডের সময় টাকার উৎস-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেননি। আয়কর জমার সময়েও একাধিক টাকার উৎস বা লেনদেনের কথা গোপন রেখেছিলেন। তিনি প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালী। ইডি আদালতকে আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি মুরারইয়ের জমি আধিকারিকের দফতর থেকে কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কৃষিজমির সঙ্গে আয়ের সঙ্গতি নেই বলেই দাবি ইডির।
তদন্তের প্রয়োজনে চাওয়া হলেও নথি দিতে মন্ত্রী গড়িমসি করেছেন বলে অভিযোগ। যদিও চার্জশিট জমা পড়ার পরেই তড়িঘড়ি তা জমা করা হয়েছে। কৃষি ও রিয়াল এস্টেট থেকে টাকা আসার যে কথা মন্ত্রী বলেছেন তা সন্দেহজনক বলে মনে করছে ইডি। টাকার উৎস দেখাতে পারেননি। এ ছাড়াও কিছু লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ ইডির কাছে রয়েছে। সে কারণেই মন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন।
চন্দ্রনাথের আইনজীবীরা আগেই আদালতকে জানিয়েছিলেন, জুলাই মাসে মন্ত্রীকে তলবের পর আইনজীবীরা গিয়েছিলেন। ৪ অগাস্ট ফের ডাকা হলে আইনজীবী ইডির তদন্তকারীদের জানান, ৭ অগাস্ট নথি জমা করা হবে। তবে সেই সময় তদন্তকারী আধিকারিক ছিলেন না। ৬ অগাস্ট চার্জশিট দেওয়া হয়। চন্দ্রনাথকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদনের বিরোধিতা করে তাঁর আইনজীবী বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় অন্য কোনও শর্ত দেওয়া হোক। আদালত বললে তদন্তে সহযোগিতা করতে ইডির কাছে যাবেন মন্ত্রী। এই আবহে সকলেরই নজর মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিকে। দ্বিতীয়াতেই স্পষ্ট হবে মন্ত্রীকে পুজো এবার কারাগারে কাটাতে হবে কিনা।












Click it and Unblock the Notifications