মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রচারে মানতে হবে বিধি, রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে কড়া নির্দেশিকা কমিশনের
নির্বাচন কমিশনের (election connission) তরফে এদিন পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) দুটি কেন্দ্রের নির্বাচন এবং একটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে বেশ কিছু কড়া উপায় অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে
নির্বাচন কমিশনের (election connission) তরফে এদিন পশ্চিমবঙ্গের (west bengal) দুটি কেন্দ্রের নির্বাচন এবং একটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে বেশ কিছু কড়া উপায় অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের করোনা বিধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এইসব বিধি মেনে চলতে হবে।

মনোনয়ন জমার সময়
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে , মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগে এবং পরে কোনও সভা করা যাবে না। রিটার্নিং অফিসারের অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে কেবল মাত্র তিনটি গাড়ি ঢুকতে পারবে। মিছিল করে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে না।

প্রচারের সময়
১) প্রচার নিয়েও বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও হলের মধ্যে সভা করা হলে ৩০ শতাংশ উপস্থিতি কিংবা ২০০ জন, যেটা কম হবে, ততজন সেখানে থাকতে পারবেন। একটি রেজিস্টার সেখানে রাখতে হবে, কতজন উপস্থিত থাকলেন, তা নির্বারন করতে।
২) ৫০% উপস্থিতি নিয়ে বাইরের সভা করা যাবে। সেখানে এক হাজার জনের উপস্থিতিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ৫০% কিংবা ১ হাজার জন যেটা কম হবে, তাই নিয়ে সভা করতে হবে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখবে পুলিশ। ঘেরা জায়গায় কতজন উপস্থিত হলে, তা নজরদারি করতে হবে। আর এই জায়গা ঘিরতে যে খরচ হবে, তা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে।
৩) উপনির্বাচনে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে ২০ জন স্টার ক্যাম্পেনার এবং রাজ্যদলের ক্ষেত্রে ১০ জন স্টার ক্যাম্পেনার থাকতে পারবেন।
৪) কোনও রোড শো করা যাবে না। মোটর, বাইক, সাইকেল, কোনও মিছিলই করা যাবে না, জানিয়েছে কমিশন।
৫) জায়গায় নিরিখে করোনা বিধি মেনে সর্বাচ্চ ৫০ জনকে নিয়ে পথসভা করা যাবে।
৬) বাড়িতে বাড়িতে প্রচারের ক্ষেত্রে ৫ জনের বেশি সদস্য সমর্থককে রাখা যাবে না।
৭) ভিডিও ভ্যানেও যে প্রচার করা হয়, সেক্ষেত্রেও ৫০ জনের বেশি কাউকে রাখা যাবে না।
৮) একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০ টি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। সেইসব গাড়িতে ৫০ শতাংশের বেশি দলীয় নেতা-কর্মী থাকতে পারবেন না।

নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং গণনার দিন
নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে ভোটের দিনের ৭২ ঘন্টা আগে। ভোটের দিন সর্বোচ্চ দুটি গাড়িতে ৩ জন করে যেতে পারবেন। এছাড়াও ওইদিন নির্বাচন কমিশনের বাকি বিধি মেনে চলতে হবে। আর গণনার দিনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেবে কমিশন। মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

ভোটের ডিউটিতে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের দুটো ভ্যাকসিন লাগবেই
- নির্বাচন কমিষশনের তরফে বলা হয়েছে, ভোটের কাজে যেসব কর্মী থাকবেন, তাঁদেরকে যেমন মাস্ক, স্যানিটাইজার, ফেসশিল্ড, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে, ঠিক তেমনই বাকি সব করোনা বিধি মেনে চলতে হবে। যাঁরা নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবেন, তাঁদের সবাইকে দুটি করে ভ্যাকসিন নিতেই হবে আগে থেকেই। এই তালিকায় যেমন নির্বাচনী আধিকারিক এবং প্রার্থীদের রাখা হয়েছে, ঠিক তেমনই নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এবং গাড়ির চালকদেরও রাখা হয়েছে। এব্যাপারে মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে নজরদারি করতে হবে। যদি কোন রাজনৈতিক দল প্রচারের বিদি লঙ্ঘন করে, তাহলে সেই প্রার্থী এবং দলকে মিছিল-মিটিং করার জন্য আর কোনও অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর যদি কোনও স্টার ক্যাম্পেনার এই বিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে তাঁকে প্রচারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
- প্রত্যেক পোলিং স্টেশনে কোভিড নোডাল অফিসার হিসেবে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে রাখতে হবে।
- মুখ্যসচিব এবং ডিজি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাক এবং পুলিশ সুপারকে নজর রাখতে হবে, যাতে নির্বাচনের আগে ও পরে কোনও সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।
- বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে যেসব নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা নজরে রেখে দরকারে কমিশনের তরফ থেকে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেননা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে করোনা বিধি মেনে চলার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications