ইতিহাসের হাতছানি বাঁকুড়ার রাইপুরের রাজ পরিবারের দেবী মহামায়ার পুজোয়
সেই সব দিন আজ আর নেই। নেই রাজা, নেই রাজত্ব। পড়ে আছে শুধু রাজ পরিবারের তকমা। হারিয়ে গিয়েছে আলোর রোশনাই। বাঁকুড়ার রাইপুরের রাজ পরিবারের দেবী মহামায়ার পুজো শুরু হল এইভাবেই
সেই সব দিন আজ আর নেই। নেই রাজা, নেই রাজত্ব। পড়ে আছে শুধু রাজ পরিবারের তকমা। হারিয়ে গিয়েছে আলোর রোশনাই। বাঁকুড়ার রাইপুরের রাজ পরিবারের দেবী মহামায়ার পুজো শুরু হল এইভাবেই।

ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে ৩২১ বছরের প্রাচীন রাজ পরিবারের দুর্গোৎসব।
একপাশে বয়ে চলেছে কাঁসাই নদী। অন্যপারে মা মহামায়ার মন্দির। ইঁট খসে যাওয়া জীর্ণ শীর্ণ রাজবাড়ির দেওয়ালে কান পাতলে আজও শোনা যায় ইতিহাসের মর্মকথা, অস্ত্রের ঝনঝনানি। চোয়াড় বিদ্রোহের ইতিহাস থরে থরে সাজানো এখানকার মাটিতে। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায় মল্লরাজার অধীনস্থ ছিল রাইপুর। বিষ্ণুপুরের রাজা বীর সিংহের ভাই ধরম সিংহ রাজত্ব করতে রাইপুরে আসেন সপ্তদশ শতাব্দীতে। কথিত আছে তাঁর রাজত্বকালে রাজা ধরম সিংহের পুত্র রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ স্বপ্নাদেশ পান দেবী মহামায়ার। তৎক্ষণাৎ তিনি মা মহামায়াকে একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে একটি খড়ের চালা তৈরি করে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সিংহের দুই পুত্র দুর্জন সিংহ ও ফতে সিংহ- এর কাহিনী সবারই জানা। এই দুই ভাই ছিলেন চোয়াড় বিদ্রোহের নায়ক। ব্রিটিশ শাসক ও সৈন্যবাহিনীর কাছে এই দুই ভাই ছিলেন ত্রাস । রাজা দুর্জন সিংহের জমিদারি ছিল সাতাশটি মৌজা নিয়ে। তারমধ্যে অন্যতম এই রাইপুর। কথিত আছে রাজা দুর্জন সিংহের রাজত্বের সময় কাল পর্যন্ত এই মা মহামায়ার মন্দিরে দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে 'নরবলি' হত। পরবর্তীকালে ছাগবলি চালু হয়। এখানেও চালু রয়েছে রাজপরিবারের সেই নিয়ম। ছাগবলির পর সেই ছাগটিকে রাজবাড়ির অন্দরমহলে নিয়ে গিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার নিয়ম আজও চালু রয়েছে।

সপ্তমী থেকে বিজয়া, রীতি মেনে মহা ধূমধামে পালিত হয় পুজো। তোপধ্বনির চল রয়েছে ঐতিহ্য মেনেই। আজও বলিদানে ব্যবহার করা হয় রাজা দুর্জন সিংহের ব্যবহৃত তরোবারি । সবমিলিয়ে ইতিহাসের হাতছানি রাইপুরের রাজ পরিবারের দেবী মহামায়ার প্রাচীন এই দুর্গাপুজোয়।












Click it and Unblock the Notifications