Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

মহালয়ায় জমজমাট কুমোরটুলি ঘাট, ঢাকিদের জন্য অভিনব ভাবনার সাক্ষী তন্ময়-গোকুল

বাংলা, বাঙালির সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপুজো। পুজোর আমেজটাই অসম্পূর্ণ থাকে ঢাকের বাদ্যি ছাড়া। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যশিল্পী ঢাকিরা প্রতিটি প্যান্ডেলকে প্রাণ দেন তাঁদের ঢাকের তালে।

এতে মিশে আছে প্রত্যেক বাঙালির আবেগ। অথচ তাঁদের শিল্পের প্রাপ্য স্বীকৃতি সচরাচর মেলে না। পুজোর জন্য রাজ্য সরকার অনুদান বাড়ালেও ঢাকিদের জন্য বরাদ্দ বাড়ে না। সেটা যেমন আক্ষেপের, তেমনই ভিনরাজ্যে গিয়ে হেনস্থার শিকার হওয়া আশঙ্কায় অনেকেই সংশয়ে যাবেন, নাকি যাবেন না, সেই ব্যাপারে। এখনও অনেক ঢাকিই আছেন যাঁরা এখনও পুজোমণ্ডপে আদৌ ঢাক বাজানোর সুযোগ পাবেন কিনা তা নিয়ে।

-

ঢাকিদের কথা চিন্তা করে অভিনব উদ্যোগ নিল আইটিসি সানরাইজ। শুরু হলো 'সানরাইজ ঢাকি উৎসব'। ঢাকিদের সম্মান জানানো, সেই সঙ্গে বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁদের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই এই পদক্ষেপ। মহালয়ার সকালে কুমোরটুলি ঘাটে আয়োজিত হলো অভিনব সানরাইজ ঢাকি উৎসব। শতাধিক ঢাকি একই সময়ে ঢাক বাজিয়ে মানুষকে মাতিয়ে তুললেন ঢাকের বোলে।

এই অসামান্য আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পারকাশন শিল্পী তন্ময় বোস, সঙ্গে পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত গোকুল ঢাকি। তাঁদের হাত ধরে উন্মোচিত হলো সানরাইজের জন্য বিশেষভাবে রচিত দুর্গাপুজার সুর-যা বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

কুমোরটুলি ঘাটের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল অভূতপূর্ব। ঢাকের বাদ্য গঙ্গার তীর জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। স্থানটির প্রতীকী অর্থও ছিল গভীর। কুমোরটুলিতেই মাতৃমূর্তি গড়ে ওঠে। মহালয়ার দিনে যেখানে সম্পন্ন হয় তর্পণ ও চক্ষুদান। সব মা দুর্গার আগমনের প্রতীক। এই ভক্তি ও শিল্পের আবহে ঢাকের সমবেত ছন্দ হয়ে উঠল এক সম্মিলিত শ্রদ্ধাঞ্জলি, যা জানান দিল, ঢাকই বাঁচিয়ে রাখে পুজোর আসল প্রাণস্পন্দন।

আইটিসি স্পাইসেস-এর বিজনেস হেড, পীযূষ মিশ্র বললেন, "দুর্গাপুজা শুধুমাত্র উৎসব নয়, এটা বাঙালির এক আবেগ। ঢাকি উৎসবের মাধ্যমে সানরাইজ চায় ঢাকিদের সম্মানিত করতে। যাঁরা এই উৎসবের আসল পরিবেশ গড়ে তোলেন। অনেক শিল্পীর একত্র পরিবেশনা একটি অসাধারণ মুহূর্ত তৈরি করল। এই পরিবেশনা আবারও প্রমাণ করল, সানরাইজ কীভাবে বাংলার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা ও সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আর ঢাকের ছন্দকে পরিণত করছে মর্যাদার প্রতীকে।"

তন্ময় বোস বললেন, "এই ঢাকি উৎসবের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। এতজন ঢাকিকে একসঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। সবচেয়ে আনন্দের বিষয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পীরা অবশেষে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান পেলেন। তৈরি হলো এমন এক মুহূর্ত যা বাংলার পুজোর প্রাণকে উদযাপন করছে।"

পদ্মশ্রী গোকুল ঢাকি বলেন, "আমাদের ঢাকিদের কাছে পুজোই জীবন। আমাদের শিল্পকে এমন পরিসরে, এতটা বৃহৎ প্রেক্ষাপটে সম্মান জানানো হয়েছে-এ এক অবর্ণনীয় আনন্দ। ঢাকের ছন্দই বাংলার সংস্কৃতির আসল স্পন্দন হয়ে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে, এই উদ্যোগ যেন সেই বার্তাই দিল।"

গত কয়েক বছর ধরে সানরাইজ ধারাবাহিকভাবে এমন সব উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাংলার সাংস্কৃতিক গৌরব উদযাপন করে। যেমন-বাংলার প্রথম মহিলা পুরোহিতকে দিয়ে দুর্গাপূজা আয়োজন, কিংবা 'দুর্গতিনাশিনী' ক্যাম্পেনের মাধ্যমে মহিলাদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া। এ বছর ঢাকি উৎসব সেই পথকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+