কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে এক অজানা ইতিহাস
কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পরিচিত রাজরাজেশ্বরী হিসেবে।
কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পরিচিত রাজরাজেশ্বরী হিসেবে। রাজরাজেশ্বরীর এখানে যুদ্ধবেশ। টকটকে লাল শাড়ি। গায়ে বর্ম। হাতে অস্ত্র। দেবী ঘোটকাকৃতি সিংহের ওপর আসীন।

অন্যান্য প্রতিমার মতোই দেবী দশভুজা। তবে, দুই হাত সামনে। পেছনে আটটি ছোট হাত। একচালা প্রতিমার পিছনে অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছটা। তাতে আঁকা দশমহাবিদ্যা ।
মহালয়ার পর দিন থেকেই শুরু হয় পুজো। এদিন থেকেই শুরু হয় হোম। তা চলে নবমী পর্যন্ত। নবমী নিশিতে গঙ্গা জল, মধু, ঘি, কলা, পানের আহুতি দিয়ে হোমের আগুন নেভানো হয়।
রাজরাজেশ্বরী পাটে আসীন হন বোধনের সময়ে। তাকে বেহারাদের কাঁধে চড়িয়ে আনা হয়। এই পুজোর জাঁকজমক ও ঐতিহ্য আজও টেক্কা দিতে পারে যে কোনও সাবেক দুর্গা পুজোকে।
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল সন্ধিপুজো । সন্ধিপুজোর সময়ে ধোয়ায় ঢেকে যায় দেবীর মুখ । প্রচলিত বিশ্বাস, সেই সময়ে মা আসেন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে।
বর্তমান রাণী অমৃতা রায় জানিয়েছেন যে অষ্টমীর পুজোর মতোই এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল দশমীর দিন সিদুর খেলা। আশেপাশের অনেক মহিলা এই সিদুর খেলাতে অংশগ্রহণ করেন।
কৃষ্ণচন্দ্র মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরকে সাহায্য করেন প্রতাপাদিত্যকে হারাতে। তারপরে কৃষ্ণচন্দ্রকে কৃষ্ণনগরের রাজা করেন জাহাঙ্গীর। আগে এখানে অন্নপূর্ণার পুজো হতো। দুর্গাপুজোতে হতো ছাগবলি। এখন অবশ্য শুধু মাত্র আখ ও চালকুমড়োর বলি হয়। আগে দশমীর দিন ওঠানো হতো নীলকণ্ঠ পাখি। এখন সেটাও বন্ধ। তবে তাতে পুজোর জাঁক কমেনি বলে জানান বর্তমান রাজা সৌমিশচন্দ্র রায়। রাজরাজেশ্বরী পুজো দেখতে আসেন বহু মানুষ।
কলকাতা থেকে সরাসরি বাস আছে কৃষ্ণনগর আসার জন্য। এছাড়াও শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে করে আসা যায় কৃষ্ণনগর। তারপরে টোটো রিকশা নিয়ে রাজবাড়ি। এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ হল সরপুরিয়া। রাজরাজেশ্বরী পুজো দেখতে এসে তার স্বাদের আস্বাদন করতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications