ইচ্ছামতীর বুকে ম্লান হওয়া বিসর্জনের সুর ফিরে পেতে নয়া উদ্যোগ তৃণমূল সরকারের

বিগত কয়েক বছর ধরে ম্লান হয়ে গিয়েছে ইচ্ছামতীর বুকে দুই বাংলার মিলনের সুর।

বিগত কয়েক বছর ধরে ম্লান হয়ে গিয়েছে ইচ্ছামতীর বুকে দুই বাংলার মিলনের সুর। ভাসান উপলক্ষে দীর্ঘ ২৫০- ৩০০ বছরের ঐতিহ্য আজ ইতিহাস। একটা সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে ইছামতীর ভাসানে মিলেমিশে একাকার হয়ে এসেছে দু'বাংলা। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সেই মিলনের সুর ম্লান হয়ে গিয়েছে ইচ্ছামতীর জলে। এবার সেই হারানো সুর ফিরে পেতে অভিনব উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।

ইচ্ছামতীর বুকে ম্লান হওয়া বিসর্জনের সুর ফিরে পেতে নয়া উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

ইছামতীর বুকে দুই বাংলার দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেখানোর আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। আপাতত প্যাকেজের খুঁটিনাটি ও পরিকাঠামোগত নানা দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিনব পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।

শুধুমাত্র ভাসান দেখানোই নয়, প্যাকেজের মধ্যে থাকছে ইছামতির বুকে বসে জলযোগের আয়োজনও। এর পাশাপাশি থাকছে দশমীতে গঙ্গায় অত্যাধুনিক জলযানে বিসর্জন দেখার সুযোগও। পরিকল্পনা মতো এই বিসর্জনের প্যাকেজটি ঘোষনা না করলে দর্শনার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেলবে বলেই আশাবাদী পরিবহন দপ্তরের কর্তারা।

পরিবহণ দপ্তরের একটি সূত্রের খবর, দর্শনার্থীদের কলকাতা থেকে ভলভো বাসে নিয়ে যাওয়া হবে হাসনাবাদে। বাস ছাড়বে ধর্মতলা থেকে বেলা ১১টা নাগাদ। দর্শনার্থীরা বাসে হাসনাবাদে পৌঁছবেন দুপুরে। বাসে অল্প কিছু জলযোগের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বাস থেকে নামিয়ে দর্শনার্থীদের তোলা হবে ইছামতীতে নোঙর করে থাকা জলযানে। নদীপথে দর্শনার্থীদের নিয়ে যাওয়া হবে টাকি।

জলযানেই দর্শনার্থীদের দেওয়া হবে দুপুরের খাবার। দর্শনার্থীরা জলপথে টাকি পৌঁছবেন বিকেল তিনটে নাগাদ। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত জলযানে থেকে দুই বাংলার ভাসান দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা। তারপর ফের জলযানেই তাঁদের ফিরিয়ে আনা হবে হাসনাবাদে। সেখান থেকে ফের বাসে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হবে দর্শনার্থীদের। দপ্তর সূত্রের খবর, ইছামতীতে বিসর্জন দেখানোর প্যাকেজের মূল্য জনপ্রতি দু'হাজার টাকা রাখা হতে পারে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৫০- ৩০০ বছর ধরে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে ইছামতী নদীতে ভাসান উপলক্ষে মিলেমিশে একাকার হয়ে এসেছে দু'বাংলা। ভাসান উপলক্ষে বছরের এই একটা দিন একত্রিত হতে পারত একপারে টাকি, হাসনাবাদ, বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ আর ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বেশ কয়েকটা জায়গার মানুষ। বাংলাদেশের ঘলঘলে, শ্রীপুর, পারুলিয়ার মতো গ্রাম ছাড়াও এই ভাসানে অংশ নিতেন ঢাকা থেকে আসা মানুষও। পরস্পরকে উপহার দেওয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠত এক অনাবিল সৌহার্দ্যের পরিধি।

২০১১ পর্যন্ত এইভাবেই মিলেমিশে গেছে দুই বাংলা। কিন্তু ২০১১-য় প্রশাসনের শিথিলতায় প্রচুর অনুপ্রবেশ ঘটে ভারত সীমান্তে। এবং ওই সালেই ইছামতীর ভাসান দেখতে এসে নদীতে নৌকা উল্টে মৃত্যু হয় সুজয় দাস নামে যাদবপুরের এক গবেষকের। অনুপ্রবেশের জেরেই চুরি ডাকাতির ঘটনা বেড়েছিল বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন টাকির বাসিন্দাদের। যার ফলস্বরূপ ২০১২ থেকে সীমান্তে কড়াকড়ি বেড়ে যায়। পরে বন্ধ হয়ে যায় বিসর্জন পর্ব।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+