সীমান্তরক্ষীদের নজরদারি সত্ত্বেও ইছামতীর বিসর্জনের জলতরঙ্গে একাকার দুই বাংলা
উত্তর ২৪ পরগনা, ১২ অক্টোবর : বিসর্জনের জলতরঙ্গে ধুয়েমুছে সাফ দুই বাংলার বিভেদরেখা। আগের মতো আর দুই বাংলার মানুষ এখন একসঙ্গে বিজয়ার উৎসবে মাততে পারেন না। কিন্তু তাঁদের আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় আজও। তাই এপার বাংলার বিসর্জনের দিনে ওপার বাংলার মানুষ ভিড় জমান ইছামতীর ওপারে। আর ওপার বাংলার বিসর্জনেও এপার বাংলায় উপস্থিতি থাকে তাৎপর্যপূর্ণ। মাঝে বয়ে চলেছে ইছামতী।
এপারে বাংলার উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ। ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা। মায়ের বিসর্জন লগ্নে কাছাকাছি দুই বাংলা। প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে ইছামতীর পাড়ে ভিড় দুই বাংলার মানুষেরই। নৌকায় চড়ে বিসর্জন দেখলেন অনেকে। তবে এবার ওপার বাংলার মানুষের ইছামতীতে নামা নিষেধ ছিল। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে দুই বাংলার মানুষের আবেগ।

ভৌগলিক গণ্ডি দিয়ে কি রোখা যায় আবেগ। মঙ্গলবারই সব প্রশ্নের উত্তর একপ্রস্থ দিয়েছে ইছামতী। নদীর জল কাছে এনে দিয়েছে দুই বাংলাকে। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে দুর্গাপুজোর বিসর্জনের এই রেওয়াজ, তা কি এক নিয়মে বেঁধে রাখা যায়?
মঙ্গলবার টাকি ও বসিরহাটের ইছামতীতে নিরঞ্জন ছিল এপার বাংলার প্রতিমার। দর্শক ছিল ওপারের মানুষ।
বিসর্জনেরই লগ্নেই মিলেমিশে একাকার সীমান্ত-পারের আবেগ৷ বিএসএফ, বিডিআর-এর কড়া নজরদারি সত্ত্বেও বিসর্জনের জলতরঙ্গে একাকার দুই বাংলার মন৷ মনের মিলনে নজরদারি চালায় কার সাধ্যি!
২০১১ সাল পর্যন্ত এই দিনটি ছিল দুই বাংলার মানুষের মিলেমিশে এক হয়ে যাওয়ার দিন৷ এই বিশেষ দিনটিতে দুই বাংলার মানুষ একত্র হতে পারতেন।
কিন্তু ২০১১ সালে প্রচুর বাংলাদেশি নাগরিক এই সুযোগে ভারতে ঢুকে যায় বলে অভিযোগ ওঠে৷ তারপর থেকেই দুই বাংলার মানুষ এখন একসঙ্গে বিজয়া পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাই একসঙ্গে দুই বাংলার প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য আর দেখা যায় না।












Click it and Unblock the Notifications