শুভেন্দুর গুরুত্ব বৃদ্ধিতেই কি মুকুলের বিজেপি-ত্যাগ! নেপথ্য কারণের খোঁজে রাজনৈতিক মহল
শুভেন্দুর গুরুত্ব বৃদ্ধিতেই কি মুকুলের বিজেপি-ত্যাগ! নেপথ্য কারণের খোঁজে রাজনৈতিক মহল
মুকুল রায় ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপরই বিজেপির বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছিল বাংলায়। ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তার প্রভাব স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু ২০২১-এর আগে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিতেই মুকুলের উপর থেকে ফোকাস কমিয়ে দেয় বিজেপি। সেই কারণেই কি শেষে বিজেপি থেকে মুখ ফেরাতে হল মুকুলকে, রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন।

মুকুলের থেকে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছিলেন শুভেন্দু
মুকুল রায়কে দলে নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে তৃণমূল ভাঙিয়ে আনতে তৎপর হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তিন বছরের চেষ্টা অবশেষে সফল হয় ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে। ২০২০-র ডিসেম্বরে শুভেন্দু তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় বিজেপির চোখে মুকুলের থেকে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করেন শুভেন্দু।

জায়গা ছেড়ে দিতে জানতে হয়! জল্পনা বাড়িয়েছিলেন মুকুল
শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের পর মুকুল রায় প্রকাশ্য মঞ্চেই বলেছিলেন, জায়গা ছেড়ে দিতে জানতে হয়। কোন সময় জায়গা ছাড়তে হয় তা সবাই জানে না, কিন্তু আমি জানি। তাঁর এই জায়গা ছাড়ার বার্তা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। পারতপক্ষে মুকুলের এই বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞ মহলের মনে হয়েছিল, বিজেপিতে তিনি গুরুত্বের জায়গাটা শুভেন্দুকে ছেড়ে দিয়েছেন।

মুকুল চেয়েছিলেন দায়িত্ব ও গুরুত্ব, কোনোটাই পাননি
তারপর থেকেই মুকুল রায়কে সেভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। তাঁকে নির্বাচনে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল কৃষ্ণনগরে, যা তিনি হতে চাননি। তাঁকে পদ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, তাও তিনি চাননি। চেয়েছিলেন দায়িত্ব ও গুরুত্ব। দুটোই তিনি পাননি। তাই বিজেপিতে নিষ্ক্রিয় মুকুলের মন খারাপ ছিল জয়ের পরও!

মুকুলের শুভেন্দুর মতো অত খারাপ নয়, যখন বলেন মমতা
এরই মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে বসেন, মুকুল বেচারকে কৃষ্ণনগরে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বেচারা মুকুল! তারপরই তিনি বলেন, মুকুলের শুভেন্দুর মতো অত খারাপ নয়। তখন থেকেই জল্পনার জাল বোনা শুরু হয়েছিল। রাজনৈতিক মহল মনে করেছিল, মুকুল রায় বিধানসভা ভোটের পর ফিরতে পারেন তৃণমূলে। শেষে দেখা গেল মুকুল ভোটে জেতার পরও ফিরে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

কিছু কিছু সময় নীরব থাকতে হয়, বিধানসভায় বলেছিলেন মুকল
আর কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে ভোটে জেতার পর মুকুল রায় প্রথমবার বিধানসভায় পা দিয়েই বলেছিলেন- কিছু কিছু সময় নীরব থাকতে হয়। সময় হলেও তিনি মুখ খুলবেন। মৌনী থেকেও তিনি অনেক কথা বলে দিয়েছিলেন সেদিন। সেই জল্পনার শুরু। তারপর বিজেপিতে শুভেন্দুর গুরুত্ব বাড়লেও তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

মুকুল রায় নন, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী
মুকুল রায় সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীকে। মুকুলের হাত ধরে শক্তিশালী হয়েও বিজেপি তাঁকে না গুরুত্ব দিয়ে ভরসা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর উপর। তাঁকে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করানোও হয়েছিল বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানান মুকুল রায়। মোট কথা শুভেন্দুর বাড়বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁর গুরুত্ব লোপেই তাঁর বিজেপি ছাড়া বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications