বাংলায় শুধু মমতার কেন্দ্রে কেন উপনির্বাচন! মুখ্যসচিবের ‘চিঠি’তেই কি মান্যতা কমিশনের
তৃণমূলের লাগাতার দাবির পর অবশেষে নির্বাচন কমিশন বাংলার মাত্র একটি কেন্দ্রে উপনির্বাচনির দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
তৃণমূলের লাগাতার দাবির পর অবশেষে নির্বাচন কমিশন বাংলার মাত্র একটি কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। কেন শুধু মমতা বন্যো্ পাধ্যায়ের কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণা করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি ও সিপিএম। রাজনৈতিক মহলও নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে হতচকিত। কেন এমন সিদ্ধান্ত কমিশনের, তা নিয়ে ময়নাতদন্ত শুরু করেছে সবপক্ষ।

শুধু কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রেই উপনির্বাচন, প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশন বাংলার মোট তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন ঘোষণা করেছে। দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন, একটি বিধানসবা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে নির্বাচনের সময় ভোট স্থগিত হয়ে গিয়েছিল প্রার্থীর মৃত্যুতে। ফলে দুই কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন হবে। আর একটিমাত্র কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে, তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর। শুধু কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রেই উপনির্বাচন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে ইতিমধ্যেই।

তৃণমূলের তদ্বির, চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন
তৃণমূল লাগাতার তদ্বির করে যাচ্ছিল উপনির্বাচন নিয়ে। করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যে ভোট করার পরিবেশও রয়েছে কি না, তা জানতে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধী সমস্ত দলকে মতামত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। সেইমতো রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলই চিঠির জবাবে রাজ্যে উপনির্বাচন সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে নিজ নিজ মত ব্যক্ত করেছিল।

ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন জরুরি, চিঠি মুখ্যসচিবের
এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করেই জানানো হয়েছে, ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন জরুরি। তাই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী চিঠি দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনকে। তিনি চিঠিতে সংবিধানের ১৬৪(৪) ধারার উল্লেখ করে লেখেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতো উপনির্বাচন এক আসনে
এরপরই নির্বাচন কমিশন দুটি কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। ভবানীপুরে নির্বাচন ঘোষণা করে সাংবিধানিক সংকট মেটানোর রাস্তা দেখাল কমিশন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণামতো উপনির্বাচন হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। ভোটের ফলপ্রকাশ ৩ অক্টোবর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরে উপনির্বাচন হবে, একইদিনে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও সামসেরগঞ্জে সাধারণ নির্বাচন হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিধায়ক না হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে
ভারতের সংবিধান মোতাবেক শপথ গ্রহণের ছ-মাসের মধ্যে বিধায়ক হয়ে আসতে হবে কোনও নন-এমএলএ মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীকে। সেইমতো ৫ নভেম্বরের মধ্যে বিধায়ক হয়ে আসতে হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিধায়ক না হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন। তাই তাঁকে ছ-মাসের মধ্যে বিধায়ক হয়ে আসতে হবে। তা না হলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী কঠোর সমালোচনা করেন মুখ্যসচিবের চিঠির
বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ সম্ভাবনাকেই কি সংবিধান সংকট বলা হয়েছে। কোনও মুখ্যসচিব এই পরিস্থিতিকে সংবিধানিক সংকট বলতে পারেন না, নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও লিখতে পারেন না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কঠোর সমালোচনা করেন মুখ্যসচিবের এই চিঠির। এবং এটাকে তিনি ইস্যু করবেন বলেও জানান।

তৃণমূলকে প্রাইভেট লিমিটিড কোম্পানি বলে ব্যাখ্যা
তবে সংবিধানের নিয়মে মমতা বন্দ্য্যোপাধ্যায়কে ছ-মাসের মধ্যে জিতে না আসতে পারলে সরতে হত। তাহলে একটা অস্থিরতা তৈরি হত রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে অন্য কাউকে বসাতে হত। এই বিষয়টি উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে প্রাইভেট লিমিটিড কোম্পানি বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এই দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কারও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অধিকার নেই।

ভিন্ন কোনও কেন্দ্র থেকে জিতে আসা ছাড়া উপায় নেই মমতার
শনিবার নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেওয়ায় সেই চিন্তা দূর হল মমতার। ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হবেন। সেই কারণে মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ২১ মে বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন। এবার ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেখানে স্বল্প ব্যবধানে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ভিন্ন কোনও কেন্দ্র থেকে জিতে আসা ছাড়া উপায় ছিল না তাঁর।

মমতার কেন্দ্রে উপনির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলের অভিমত
শুভেন্দুর পাশাপাশি, দিলীপ ঘোষও প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। শুধু মমতার কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন প্রভাবিত কিনা প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ আর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের গোপন বোঝাপড়াতেই শুধু ভবানীপুরে ভোট হচ্ছে। তা না হলে বেছে বেছে কেন মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রেই ভোট হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ফের প্রমাণ করল তৃণমূল-বিজেপি সেটিং তত্ত্ব মিথ্যা নয়। তবে ভোট সময়ে হচ্ছে, তা হোক। কিন্তু পুরভোট নিয়ে কেন মাথাব্যথা নেই শাসকের সেই প্রশ্ন তুলে দেন সুজন।












Click it and Unblock the Notifications