ডাক্তার ধর্মঘট তো মিটল, কিন্তু এখন থেকে কি প্রতিটি সমস্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে হবে?

অবশেষে সোমবার, ১৭ জুন, এক সপ্তাহ স্বাস্থ্য পরিষেবায় চলা বিভ্রাটের অবসান ঘটল। জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন প্রশাসনিক মুখ্য কার্য্যালয় নবান্নতে।

অবশেষে সোমবার, ১৭ জুন, এক সপ্তাহ স্বাস্থ্য পরিষেবায় চলা বিভ্রাটের অবসান ঘটল। জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন প্রশাসনিক মুখ্য কার্য্যালয় নবান্নতে। সেই বৈঠকে অন্যান্য বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং পুলিশ কর্তারাও ছিলেন। বিকেলের দিকে শুরু হওয়া এই বৈঠকের লাইভ টেলিকাস্টও করা হয় যা রাজ্যের অন্যত্র প্রতিবাদে সামিল হওয়া ডাক্তাররাও দেখেন। এবং সেখানে মমতা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরেই ধর্মঘটী ডাক্তাররা কাজে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন।

সব ভালো যার শেষ ভালো।

ডাক্তার ধর্মঘট তো মিটল, কিন্তু এখন থেকে কি প্রতিটি সমস্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে হবে?

অনড় জুনিয়র ডাক্তারদের গোঁ-এর সামনে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নমনীয় হলেন তা প্রশংসার্হ। গত সপ্তাহে এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি সরাসরি হুমকি দেওয়ার পরেই অবস্থার অবনতি ঘটার পরে এ মমতার এক বড় পরিবর্তন। আশা করা যায়, রাজ্যপাটের অন্যান্য নানা সমস্যা সামলাতেও মমতা এমন মাথা ঠান্ডা করেই এগোবেন।

সর্বক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কাজ হওয়ানোর সংস্কৃতি কি ঠিক?

কিন্তু স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সঙ্কট এড়ানো গেলেও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। এবং সেটি উদ্বেগজনকও। প্রশ্নটি হলো রাজ্যের প্রশাসনিক নানা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কি তাহলে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সকাশে সমস্যার সমাধান করতে হবে রাজ্যবাসীকে? পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনে তো সমস্যা কম নেই। এর আগেও দেখা গিয়েছে স্কুলের বেতন বাড়ানোর বিরুদ্ধেও মুখ্যমন্ত্রীকেই ব্যাট নিয়ে মাঠে নামতে। প্রশাসনিক বা পুলিশের ক্ষেত্রে বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারেও একাধিকবার দেখা গিয়েছে মমতাকে সরাসরি দরবারে বসতে। পুলিশ-নেতা-আধিকারিক ধরে ধরে "অমুক জায়গায় ওটা হয়নি কেন" বা "তমুক কাজের এতো দেরি কেন" জিজ্ঞেস করতে। ধমক দিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি, কয়েক দিন আগে টলিউডে বেতন সংক্রান্ত একটি সঙ্কট দেখা দিলেও সেই মুখ্যমন্ত্রীকেই কোমর বেঁধে নামতে হয়।

আশঙ্কা জাগে, যেই রাজ্যে সামান্য প্রশাসনের কাজ নিশ্চিত করতে অহরহ মুখ্যমন্ত্রীকে নামতে হয়, ছোটখাটো ব্যাপারে তাঁকেই মাথা ঘামাতে হয়, তাহলে শাসনযন্ত্রের অস্তিত্ব এবং কার্যকারিতা কী? দেশের অন্যান্য রাজ্যে তো এমন অবস্থা চোখে পড়ে না যেখানে সব ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। একটা চালু ব্যবস্থা না থাকলে সেই প্রশাসনের আয়ু কতটুকু?

মমতা তো আর রাস্তায় নেমে আইন লাগু করবেন না

মমতা এদিন নিজেই বলেন যে সব কিছু তাঁর পক্ষে দেখা সম্ভব নয়, যেটা সর্বৈব সত্যি। তিনি আদেশ দিতে পারেন, ফাইলে সই করতে পারেন, কিন্তু রাস্তায় গিয়ে আইনের শাসন যাতে বলবৎ হয়, সেটাকে তো সুনিশ্চিত করতে হবে তাঁর আমলা-আধিকারিকদের। আইন লাগু করার ক্ষেত্রে শক্ত হওয়ার কথা যে মুখ্যমন্ত্রী আগেও বলেছেন সেটাও তিনি আরেকবার জানান এদিন। তাহলেও কেন আজ এই অবস্থা চিকিৎসা ক্ষেত্রে? রাজনৈতিক দলের জুলুমবাজি নিয়ে একজন জুনিয়র ডাক্তার অভিযোগ করলে মমতা বলেন তিনি তাঁর সঙ্গে একমত। তাহলে কি সর্বক্ষেত্রে চূড়ান্ত রাজনীতিকরণকে বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসনের সর্বময় কর্ত্রীও?

বিষয়টি ভাবায়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+