মুকুল-শোভনরা বিজেপিতে থেকেও কি তৃণমূলের সুবিধা করে যাচ্ছেন! বাড়ছে জল্পনা
একজন ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, অন্যজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বযাত্রার সঙ্গী। এই দু’জনই এখন তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে বিজেপিতে পাড়ি জমিয়েছেন।
একজন ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, অন্যজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বযাত্রার সঙ্গী। এই দু'জনই এখন তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে বিজেপিতে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু দু'জনকে নিয়ে বিজেপি বিব্রত বোধ করছে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের মহাসংগ্রামের আগে। তাতেই প্রশ্ন উঠেছে ওঁরা কি তৃণমূলের সুবিধে করে দিচ্ছেন।

পদ না দিলেও মুকুলকে গুরুত্ব বিজেপির, তবু...
মুকুল রায় নয় নয় করে আড়াই বছরেরও বেশি সময় বিজেপিতে চলে এসেছেন। বিজেপি তাঁকে পদ না দিলেও গুরুত্ব দেয় না বলা যাবে না। তাঁকে মাথায় রেখেই দু-দু'টি নির্বাচন লড়েছে বিজেপি। বিজেপিকে সাফল্যের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছেন তিনিই। তবু যেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটু অন্যরকম সুর বাজছে বিজেপির অন্দরে।

বিজেপিতে যোগদানের পরও অজ্ঞাতবাসে শোভন
আর শোভন চট্টোপাধ্যায় এক বছর হল বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত যোগদান আর সংবর্ধনা মঞ্চ- এই দুই ক্ষেত্র ছাড়া তাঁকে বিজেপির কোনও সভা-সমাবেশ বা মঞ্চে দেখা যায় না। বিজেপিতে যোগদানের আগে তিনি যেমন অজ্ঞাতবাসে ছিলেন, বিজেপিতে যোগ দিয়েও তাঁর অজ্ঞাতবাস কাটল না এখনও। এখনও তিনি নিস্ক্রিয়।

তৃণমূলীদের নিয়ে তেমন সুখে নেই বিজেপি
তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে এখন চর্চা চলছে যে, ভোট তো আর মাস আটেক দূরে, তৃণমূলীদের নিয়ে তেমন সুখে নেই বিজেপি। শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রায় প্রথম থেকেই জটিলতায় পড়তে হয়েছে বিজেপিকে। এখনও চেষ্টা করে তাঁকে সক্রিয় করানো যায়নি। কলকাতা পুরসভার মুখ করার পরিকল্পনাও বিজেপির বারে বারে ধাক্কা খেয়েছে।

মুকুল রায়কে নিয়ে হালে বিস্তর সমস্যায় বিজেপি
আর মুকুল রায়কে নিয়ে হালে বিস্তর সমস্যায় পড়েছে বিজেপি। যদিও বিজেপির দাবি মুকুল রায়ের তৃণমূল-যোগ বা বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি নিয়ে অপপ্রচার চলছে। মুকুল রায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কালিমালিপ্ত করতেই এসব চক্রান্ত বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ। তবু জল্পনার শেষ নেই।

মুকুল বিজেপিতেই থাকবেন, বলতে হল ফলাও করে
করোনা লকডাউন পিরিয়ডে মুকুল রায়ের নিস্ক্রিয়তা, তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক-জল্পনা, দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক এবং পদ নিয়ে বিতর্ক, টুইটার থেকে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া, শেষমেশ দিল্লিতে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা নিয়ে বিতর্কের ফলে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়। তারপর মুকুল রায়কে বলতে হয়, তিনি বিজেপিতেই আছেন বিজেপিতেই থাকবেন।

দিলীপের সঙ্গে মুকুলের বনিবনা হচ্ছে না বলেই
এখানেই শেষ নয়, মুকুল রায়কে নিয়ে বিতর্কে নাম জড়িয়ে যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। দিলীপের সঙ্গে মুকুলের বনিবনা হচ্ছে না বলেই মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন বলে রটে যায় খবর। যদিও সেসবই তৃণমূলের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। এই ব্যাপারে তিনি মুকুল রায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মুকুল রায়কে নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সরব একাংশ
আবার জল্পনার শেষ এখানেই নয়, মুকুল রায়কে নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিলীপ ঘোষ-সহ বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপিরই একাংশ। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে নয়া কমিটিতে সুযোগ পেয়েও অর্জুন সিংরা দাবি করেন, তাঁরা নামেই পদাধিকারী, কিন্তু বিজেপি চলে দু-একজনের অঙ্গুলিহেলনেই।

বিজেপির কাছে কি সমস্যা প্রাক্তন তৃণমূলীরা
এখন রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অন্দরে এই ক্ষোভ-বিক্ষোভই তৃণমূলের কাছে অক্সিজেন হয়ে উঠতে পারে। বিজেপি এবার পাখির চোখ করেছে বাংলা বিজয়কে। তৃণমূলও বিজেপিকে আটকাতে মরিয়া। দু-দলের আসন্ন মহাসংগ্রামের আগে বিজেপির কাছে কি সমস্যা হয়ে উঠতে শুরু করেছেন প্রাক্তন তৃণমূলীরা, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications