দিলীপই পরিবর্তনে চেয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বে, কারণ ব্যাখ্যা করলেন নিজেই
দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন। মেয়াদ ফুরনোর তিনমাস আগেই তাঁকে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদে বসানো হয়েছে। রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে ড. সুকান্ত মজুমদারকে।
দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন। মেয়াদ ফুরনোর তিনমাস আগেই তাঁকে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদে বসানো হয়েছে। রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে ড. সুকান্ত মজুমদারকে। বঙ্গ বিজেপির এই রদবদলের প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ ঘোষ বলেন, তিনিই চেয়েছিলেন এই পরিবর্তন। কেন চেয়েছিলেন তাঁর ব্যাখ্যাও তিনি দিলেন এদিন।

বঙ্গ বিজেপির সদ্য প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে তাদের পার্টি এগোচ্ছে। তাই আগে যে ভূমিকায় ছিল বিজেপি, এখন সেই ভূমিকায় নেই। এখন আমরা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। সেই ভূমিকা আমরা পালন করছি। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করার জন্য সমস্ত জায়গাতেই নতুন মুখ আনা প্রয়োজন। সেই কাজটাই শুরু হয়েছে বিজেপিতে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, শুধু তো পরিবর্তনের কথা মুখে বললেই হয় না। পরিবর্তন দরকার নেতৃত্বেও। আমি ৬ বছর রাজ্যে বিজেপির সভাপতি পদে ছিলাম। দলকে আমার সবথেকে ভালোটাই দিয়েছি। এখন ৬ বছর রাজ্য সভাপতি থাকার ভিত্তিতে দল যে দায়িত্ব দেবে, সেই দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করব।
দিলীপ ঘোষ এদিন দাবি করেন, তাঁর সময়েই বিজেপি সবথেকে বেশি সাফল্য পেয়েছে। ২০১৫ সালে তিনি যখন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন বিজেপিকে দূরবীন নিয়ে দেখতে হত বাংলায়। এটা ঠিক যে সেটা ছিল বিজেপির উত্থানের সময়। কারণ এক বছর আগেই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। তখনই রাজ্যে রাহুল সিনহাকে সরিয়ে সভাপতি হন দিলীপ ঘোষ।
বিজেপিতে একজন তিন বছর করে দু-দফায় সভাপতি থাকতে পারেন। সেই মেয়াদ সম্পূর্ণ হতে চলেছিল দিলীপ ঘোষের। ২০১৫ থেকে ধরলে ২০২১-এর ডিসেম্বরে শেষ হত তাঁর মেয়াদ। কিন্তু সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে গেল তাঁর বিজেপি সভাপতি পদের জার্নি। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে বাবুলের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়াই কি ত্বরাণ্বিত করল দিলীপের অপসারণকে।
বাবুল সুপ্রিয়-র সঙ্গে প্রথম থেকেই দ্বন্দ্ব লেগে ছিল দিলীপ ঘোষের। ছ-বছর ধরেই উভয়ের মধ্যে নানা বাকবিতণ্ডা হয়েছে। শেষে বাবুলকে সরে যেতে হয়েছে তৃণমূলে। আর দিলীপ ঘোষের অপসারণ হয়েছে রাজ্যসভাপতির পদ থেকে। উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষ যখন রাজ্য সভাপতি হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিলেন, তখন বিজেপির একমাত্র সাংসদ ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। আর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া।
সেই থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষের জমানায় ২০১৯-এ প্রভূত সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। বিজেপি ২ থেকে বেড়ে ২০১৯-এর লোকসভায় ১৮ জন সাংসদ পেয়েছে। তার আগে ২০১৮ সালে বাংলরা পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রান্তিক জেলাগুলিতে ভালো ফল করেছে বিজেপি। এই জোড়া সাফল্যকে পাথেয় করে ২০২১-এর নির্বাচনে লড়াইয়ের রসদ পেয়েছিলেন দিলীপ ঘোষরা। কিন্তু সেই রসদ দিয়ে শিখরে পৌঁছতে পারেনি বিজেপি। ৭৭-এই আটকে যেতে হয়েছে। এটা সাফল্য না ব্যর্থতা তার উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই দিলীপ ঘোষকে সরে যেতে হয়েছে। নতুনকে ছেড়ে দিতে হয়েছে জায়গা।












Click it and Unblock the Notifications