সুকান্তের উল্টো পথে হাঁটছেন দিলীপ, তৃণমূল সরকার ফেলা নিয়ে ভিন্নমত বিজেপিতে
পঞ্চায়েত ভোট রিগিং-সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তৃণমূল সরকারের পতনের মেয়াদ বেঁধে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী শান্তনু ঠাকর। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে সদ্য অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে আসা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন যেকোনও দিন পড়ে যেতে পারে রাজ্যের তৃণমূল সরকার।
সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে কাটতেই ভিন্ন সুর শোনা গেল বিজেপির অন্দরেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পতন নিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ ভিন্ন মত পোষণ করলেন। এমনকী শুভেন্দু অধিকারী সুর বদল করলে দিলীপ ঘোষের সুরেই সুর মেলালেন।

শান্তনু ঠাকুর ও সুকান্ত মজুমদারের কথায় যখন মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও হর্ষ-ট্রেডিংয়ের গন্ধ পাওয়া যেতে শুরু করেছে, তখনই উল্টো সুর তুললেন দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীরা। শান্তনু-সুকান্তের উল্টো পথে হেঁটে দিলীপ ঘোষ সোজাসাপ্টা বলে দিলেন, মানুষের ভোটে জেতা সরকার ফেলে দেওয়াও গণতন্ত্র বিরোধী।
দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষের জনমতে সরকার তৈরি হয়েছে। মানুষ ভোট দিয়ে যে সরকার গঠন করেছে, তা ফেলে দেওয়া মানুষ ভালোভাবে নেবে না। আর আমার তো জানা নেই, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ৩৫৫ বা ৩৫৬ জারি করেছে কি না। বাংলায় তো ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা জারি করেনি।
পূর্বসূরি দিলীপ ঘোষের এই কথার প্রত্যুত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, দিলীপদা কী বলেছে জানা নেই। আমি শুনিনি উনি কী বলেছেন। তবে উনি যেটা বলে থাকতে পারেন, সেটা ওনার মত। সেটা পার্টির মত নয়। ফলে রাজ্যে সরকার ফেলা নিয়ে যে বিজেপির অন্দরেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দিলীপ ঘেষের কথার সুরেই সুর মিলিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুবেন্দু অধিকারী। তিনিই সম্প্রতি ৩৫৫ ধারা জারি নিয়ে সরব হয়েছিল। সেই তিনিই সুর বদল করে এদিন বলেন, পিছনের দরজা দিয়ে ঘুরপথে সরকার দখল করতে চাই না। ভোটে জিতে গণতান্ত্রিক পথে সরকার গঠনই আমাদের লক্ষ্য।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বেহাল। প্রাক নির্বাচন পর্ব থেকে নির্বাচনোত্তর পর্বে রাজ্যের প্রশাসনিক অক্ষমতা চোখের সামনে দেখছি। তার জন্য ৩৫৫ ধারা চেয়েছি। কিন্তু ৩৫৬ চাইছি না। কারণ আমরা রাষ্ট্রপতি শাসন করে সরকার দখল করতে চাই না। চাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ ভোটে জিতে সরকার গঠন করতে।
আর এই সরকার ফেলার অপচেষ্টা প্রসঙ্গে বিজেপিকে একহাত নেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপি এখন সরকার ফেলার ডেডলাইন দিচ্ছে। আগেও ডিসেম্বর ডেডলাইন দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। এখন আবার সুকান্ত-শান্তনুরা ৫-৬ মাসের গল্প তৈরি করছে। আসলে বিজেপি তো ক্যালেন্ডার রাজনীতি করছে।












Click it and Unblock the Notifications