আদালতও কি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, সিঙ্গল বনাম ডিভিশন বেঞ্চের লড়াইয়ে প্রশ্ন দিলীপের
আদালতও কি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, সিঙ্গল বনাম ডিভিশন বেঞ্চের লড়াইয়ে প্রশ্ন দিলীপের
এসএসসি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই জেরা করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। আবার পরক্ষণেই ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। এরপর বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের আদালত নিয়ে মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে স্বস্তি ফিরেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, স্বস্তি ফিরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারেরও। এরপর দিলীপ ঘোষ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আদালতও দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে বাংলার মানুষ মনে করছে। এই কথায় দিলীপ ঘোষ বোঝাতে চেয়েছেন, আদালতের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই জেরার মুখোমুখি হওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, আমি জানি না আদালত দোষীদের সাজা দাবে না তাদের আড়াল করবে। সিঙ্গল বেঞ্চ এক রায় দেয় তো পরক্ষণেই ডিভিশন বেঞ্চ বিপরীত রায় দেয়। এভাবে পরস্পরবিরোধী নির্দেশ জারি হচ্ছে। আদতে কিছুই এগোচ্ছে না তদন্ত।
সিঙ্গল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে রায় নিয়ে, তার সমাধানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের আদালতও দুর্নীতি তেকে দূরে নয়। তা এই সিঙ্গল বেঞ্চ বনাম ডিভিশন বেঞ্চের লড়াইয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। বিচারব্যবস্থায় এ ধরনের ঘটনা আদৌ অভিপ্রেত নয়।
এদিন এসএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় মঙ্গলবার হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ রায় দেয়, এদিন বিকেলের মধ্যেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দিতে হবে। তিনি তাঁর রায়ে এমনও নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় সিবিআই দফতরের পরিবর্তে এসএসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন না। আবার সিবিআই প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে গ্রেফতারও করতে পারে।
কিন্তু এরপর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে। সিঙ্গর বেঞ্চের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার ফের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানায় আদালত। অর্থাৎ তদন্ত প্রক্রিয়া পরবর্তী রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ জারির পরই আন্দোলিত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই ঘটনায় আদালতের রায়ের পর বিরোধীরা অক্সিজেন পায়। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর ফের হতাশ হয়ে পড়েন। দিলীপের ঘোষের কথায় উঠে আসে সেই হতাশা।












Click it and Unblock the Notifications