মেজাজটাই তো আসল রাজা, শুভেন্দু 'রাজা' নয়! ভরা জনসভায় বোঝালেন দিলীপ
মেজাজটাই তো আসল রাজা, শুভেন্দু রাজা নয়! ভরা জনসভায় বোঝালেন দিলীপ
বিজেপিতে যোগদানের পর প্রথম জনসভা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে সেই জনসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বুঝিয়েই দিলেন, তিনিই 'রাজা'। শুভেন্দু 'রাজা' নন। মঞ্চে উপস্থিতি আর হাবভাবে তিনি বোঝালেন রাজ্য বিজেপির পয়লা নম্বর তিনিই।

বড্ড বেমানান লেগেছে দিলীপের পাশে শুভেন্দুকে!
শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর দিলীপ ঘোষের সঙ্গে প্রথম আবির্ভূত হলেন পূর্বস্থলীর সভায়। সেখানে দিলীপ ঘোষের জন্য বরাদ্দ ছিল বিশাল সিংহাসন, সেখানে লেখা দিলীপ ঘোষ। আর পাশেই শুভেন্দু ছিলেন সাধারণ চেয়ারে। শুভেন্দু শাসকদলের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন, তারপর বড্ড বেমানান লেগেছে ওই ছবি।

মুকুলের যোগদানের পর দিলীপ বলছিলেন ‘বড় নেতা’
শুধু মঞ্চে উভয়ের উপস্থিতিই নয়, দিলীপ ঘোষ হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপিতে তিনিই প্রধান। তাঁর বক্তব্যেও তা প্রকাশ পেয়েছে। মুকুল রায় যোগদানের পর দিলীপ ঘোষ বলছিলেন ‘বড় নেতা' এসে গিয়েছেন, বিজেপি এবার ‘ফার্স্ট বয়' হবে! মুকুল রায়ও বলেছিলেন ‘সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অমিত শাহ সর্বাধিনায়ক, বাংলায় আমার ‘ক্যাপ্টেন' দিলীপ ঘোষ।'

শুভেন্দু বাড়ির ছেলে, দিলীপের কাছে বাংলার যুব নেতা!
মুকুল যেমন বলেছিলেন, বাংলায় দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে আমি কাজ করব। শুভেন্দুও সেই বরতাই দিয়েছেন। কিন্তু শুভেন্দুকে বড় নেতা বলে মান্যতা দেননি। বরং বলেছেন, শুভেন্দু বাড়ির ছেলে। বাংলার যুব নেতা। তাঁর ওপেনিং ব্যাটিং দারুন উপভোগ করলাম। মুকুলকে উচ্চাসন দিলেও প্রারম্ভিক পর্বে শুভেন্দুকে সেই জায়গা ছাড়তে নারাজ দিলীপ।

মুকুলের মতো সিনিয়র নেতার পর্যায়ে ফেললেন না শুভেন্দুকে
পূর্বস্থলীর জনসভা কিন্তু সেই বার্তাই দিয়ে গেল। কেননা দিলীপ ঘোষের জন্য বিশাল সিংহাসন হলেও, শুভেন্দুকে বসতে হয়েছে সাধারণ চেয়ারে। শুভেন্দুকে ‘শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মী' হিসেবেই দেখিয়েছে পূর্বস্থলীর সভা। দিলীপ তাঁকে দিয়েছে বাংলার যুবনেতার আসন। মুকুলের মতো তাঁকে সিনিয়র নেতার পর্যায়ে ফেলেননি তিনি।

মুকুলের মতো নেতৃত্বহীনতা মানবেন তো দাদার অনুগামীরা!
এখন দেখার শুভেন্দু কতখানি গুরুত্ব পান বিজেপিতে। শুভেন্দু যদি বিজেপিতে কম গুরুত্ব পেয়ে থাকেন ভবিষ্যতে দাদার অনুগামীরা যে সরব হবেন না তা কেউ বলতে পারেন না। শুভেন্দু বলছেন তিনি তোলাবাজ ভাইপোর হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু মুকুল রায়ের মতো দীর্ঘদিন তাঁর নেতৃত্বহীনতা মানবেন তো দাদার অনুগামীরা! প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলেই!

এমএলএ টিকিটের দরকার নেই, তৃণমূলকে হারাবই!
শুভেন্দু এদিন বলেন, কোনও এমএলএ টিকিটের দরকার নেই। সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। যখন যেখানে বলবেন সেখানে জনসভা করতে প্রস্তুত। তৃণমূলকে হারাবই হারাব, আমরা জিতবই। সোনার বাংলা গড়ব আমরা, পরিবর্তনের পরিবর্তন চাই। ফের পরিবর্তনের পরিবর্তন ডাক দিয়েই জয় শ্রীরাম ধ্বনিও তোলেন নন্দীগ্রামের মুক্তিসূর্যের নায়ক।












Click it and Unblock the Notifications