কালীঘাটের কাকুর পরে কে? সুজয় ভদ্রের গ্রেফতারি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলীপ ঘোষের
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে কালীঘাটের কাকুর গ্রেফতারির পর তপ্ত রাজনৈতিক মহল। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বুধবার বলেছেন,' কাকু হল। জেঠু হল। এবার হয়তো পিসির সময় আসছে। ভাইপোও আছে। ক্লু খোঁজা হচ্ছিল। কান টানলে মাথা আসে। কান টানাটানি শেষ। এবার হয়তো মাথা আসবে।'
গতকাল ১২ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার করা হয় নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জড়িত কালীঘাটের কাকু সুজয় ভদ্রকে। কুন্তল ঘোষ নাকি তাঁকে টাকা পৌঁছে দিয়ে আসতেন। সেই সূত্র ধরেই কালীঘাটের কাকু সুজয় ভদ্রকে বেশ কয়েকবার জেরা করে ইডি-সিবিআই। নিজাম প্যালেসে তলব করেও একাধিকবার জেরা করা হয়েছিল তাঁকে।

গতকাল সকালেই ইডির দফতরে তলব করা হয়েছিল সুজয় ভদ্রকে। প্রায় ১২ ঘণ্টা জেরার পর রাত ১১টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। সুজয় ভদ্র জেরায় অসহযোগিতা করছিলেন বলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় তদন্তকারীরা। কালীঘাটের কাকুর মোবাইলে একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নম্বর।

সুডয় ভদ্রর গ্রেফতারির পরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ । তিনি বলেছেন, 'পার্থ মন্ত্রী ছিলেন। নিজের মতো একটা চ্যানেল তৈরি করেছিলেন। সেখানে কিছু লোক ছিল। কিন্তু এখন যারা ধরা পড়ছে, তারা হচ্ছে ডাইরেক্ট পার্টির লোক। পার্থর সঙ্গে দলের তেমন সম্পর্ক ছিল না। লেনদেন হলে সেটা আলাদা ব্যাপার। বাকি যারা ধরা পরেছে, তারাই আসল কিং পিন। এরা হ্যান্ডলার। এরাই লোক টেনে আনত। এরাই টাকা তুলত। টাকা বিনিয়োগ করত। টাকা পৌছে দিত। তথ্য খোঁজা হচ্ছিল। সেই তথ্য সিবিআই ইডির হাতে এসেছে। আমার মনে হয় এবার রাস্তা পুরোপুরি খুলে যাবে।'
'কাকু যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, সেই কোম্পানির জন্যই জড়িয়ে গেলেন? সেই কোম্পানির নাম অনেক আগেই এসেছে। নামেই কোম্পানি। টাকার লেনদেন হত। সেখানে যারা কর্মী, তারাই হ্যান্ডলার। সেই প্রমাণ গুলো একে একে সামনে আসছে। অনেক দিন ধরে খেলিয়ে এবার মাছ তুলছে সিবিআই। আমি করিনি। কিন্তু উনি আমার নামে চমকেছেন। আমার বাড়িতে ঘেরাও করিয়েছেন। হয়তো টাকাও দিয়েছেন।'
কুড়মিদের নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন 'যারা আমার বাড়িতে এসেছিল, তারা পুরুলিয়া থেকে বাসে এসেছিল। কুড়মিরা ওনার কথা শোনেনি বলে হয়তো তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখে বলছে বিজেপি করেছে। শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কুড়মিদের। এভাবে জঙ্গলমহলের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। এর ফল ওরা পাবে।'
বায়রন বিশ্বাসের দলবদল নিেয় বলেছেন, 'আমি ওকে চিনি। ও একসময় বিজেপি করতে চেয়েছিল। আমি বারন করেছিলাম। বলেছিলাম, তুমি ব্যবসায়ী বাড়ির ছেলে। বিজেপি করলে তোমার ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে। তুমি যেহেতু সংখ্যালঘু, তোমাকে স্বীকৃতি দেবে না। কয়েক বছর আগের কথা। কংগ্রেস ওকে পেতে প্রচুর টাকা খরচ করেছে। ও রাজনীতির লোক নয়। তাকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সমাজ তৃণমূলকে একটা শিক্ষা দিয়েছে। কংগ্রেস সিপিএমের কিছুই ছিল না। এখনও নেই। ল্যাংটার নেই বাটপাড়ের ভয়। কিন্তু সংখ্যালঘু সমাজ তৃণমূলকে যে শিক্ষা দিতে চাইছিল, তারাও এখন ধোঁকা খেয়ে গেলেন।'












Click it and Unblock the Notifications