বঙ্গভঙ্গের অবস্থান ঠিক করতে পারছেন না দিলীপ! বারবার সুর বদলে ফাঁপরে বিজেপি
বঙ্গভঙ্গের অবস্থান ঠিক করতে পারছেন না দিলীপ! বারবার সুর বদলে ফাঁপরে বিজেপি
বিজেপির রাজ্য সভাপতি তিনি। তাঁর কথা মানে দলেরই কথা ধরে নেয় রাজনৈতিক মহল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিজের কথায় দৃঢ় প্রত্যয় দেখাতে পারলেন না বঙ্গ বিজেপির সভাপতি। বঙ্গভঙ্গ ইস্যুতে তিনি ক্ষণে ক্ষণে মত বদল করছেন। একবার এদিকে তো পরেরবার অন্যদিকে। ফলে তাঁর বিবৃতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে।

বঙ্গভঙ্গের দাবি তুলে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী! সুর বদল দিলীপেরও
আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্যের দাবি করেছিলেন। তারপর দলের লাইন মেনে তিনি বিরোধিতা করেছিলেন জন বার্লার মন্তব্যের। বলেছিলেন, ওটা ওঁনার ব্যক্তিগত মত। দল বঙ্গভঙ্গ চায় না। দলের অবস্থান নড়চড় হবে না। কিন্তু সেই জন বার্লা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদে উন্নীত হতেই সুর বদলে ফেলেছিলেন দিলীপ ঘোষ।

উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল আলাদা হলে দায় মমতার!
শনিবার কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পৃথক উত্তরবঙ্গ ও পৃথক জঙ্গলমহলের পক্ষে সায় দেন। জন বার্লা ও সৌমিত্র খাঁ যে দাবি তুলেছিলেন, সেই দাবিকেই মান্যতা দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, আজ যদি উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল আলাদা হতে চায় তার সমস্ত দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

কেউ মানুষের কথা বললেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হচ্ছে
দিলীপ ঘোষ উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার শহিদ সম্মান যাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাঁকে পাশে বসিয়ে কার্যত তাঁর সমর্থনে বক্তব্য রাখলেন। তিনি বলেন, কেউ মানুষের কথা বললেই তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হচ্ছে। তাঁর এই কথায় সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার প্রতি পূর্ণ সমর্থমন জ্ঞাপন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দুই বিতর্কিত সাংসদের সমর্থনে দিলীপ ঘোষের বয়ান
বঙ্গভঙ্গ ইস্যুতে বিজেপির দুই সাংসদ বিতর্ক বাড়িয়েছিলেন। এদিন সেই দুই বিতর্কিত সাংসদের সমর্থনে তিনি উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন। উত্তরবঙ্গের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে বিবৃতি দেন দিলীপ ঘোষ। জঙ্গলমহলের মানুষেরও জীবিকা নির্বাহ নিয়ে তিনি রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগে পৃথক রাজ্যের দাবিকে উসকে দেন।

৩৬ ঘণ্টায় সুর বদলে গেলন দিলীপ ঘোষের কণ্ঠে
সোমবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চায়ে পে চর্চায় তিনি ফের সুর বদলে ফেললেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন বঙ্গভঙ্গের কথা তিনি মোটেও বলেননি। আমি বলতে চেয়েছি, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের মানুষ বিগত ৭০-৭৫ বছর ধরে বঞ্চিত। তাঁরা এখনও চাকরির জন্য অন্য রাজ্যে যাচ্ছেন, চিকিৎসার জন্য বাইকে যাচ্ছেন। তাঁরা ভাবছেন এভাবে থাকলে কোনও উন্নতি হবে না। তাই তাঁরা আলাদা হতে চাইছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের কথা তুলে ধরেছেন মাত্র।

বঙ্গভঙ্গ : দলে কলকে না পেয়ে সুর বদল দিলীপ ঘোষের
দিলীপ ঘোষ বঙ্গভঙ্গ ইস্যুতে জন বার্লা ও সৌমিত্র খাঁকে সমর্থন করার পর দলীয় নেতৃত্বকে পাশে পাননি। একধার থেকে সবাই তাঁর সমালোচনা করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তারপরই তিনি সুর বদল করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শনিবার দিলীপ ঘোষ বঙ্গভঙ্গ ইস্যুতে সুর চড়ানোর পর রাহুল সিনহা থেকে শুরু করে লকেট চট্টোপাধ্যায় এমনকী সায়ন্তন বসুও দিলীপ ঘোষের উল্টো সুরে কথা বলেন।

দিলীপ ঘোষের সমর্থনের পর বঙ্গভঙ্গ ইস্যু অন্য মাত্রা পায়
মাস খানেক আগে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ পৃথক উত্তরবঙ্গ চেয়ে সওয়াল করেন। এমনকী তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও দাবি জানান। আর তার অদ্যাবধি পরে বিজেপির আর এক সাংসদ সৌমিত্র খাঁ পৃথক জঙ্গলমহল বা রাঢ়বঙ্গের দাবি তোলেন। তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। শনিবার দিলীপ ঘোষের সমর্থনের পর তা অন্য মাত্রা পায়।

বাংলা ভাগ নিয়ে দিলীপের মন্তব্যের বিরোধিতা রাহুল-লকেটের
এরপর রাহুল সিনহা ও লকেট চট্টোপাধ্যায় রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, বাংলা কখনও ভাগ হবে না। বাংলা ভাগ নিয়ে পার্টির কোনও নীতি নেই। আমরা বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে। যাঁরা বাংলাভাগকে সমর্থন করছেন বা বিবৃতি দিচ্ছেন বাংলা ভাগের সমর্থনে, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত অভিমত, দলের অবস্থান তা নয়।

শ্যামাপ্রসাদের তৈরি করা বাউন্ডারির বাইরে যাবে না বিজেপি
শুধু রাহুল-লকেটই নন, বাংলা বিভাজনের সঙ্গে সহমত নন সায়ন্তন বসুও। দলের রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু বঙ্গভঙ্গ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেন। দলের মতও তিনি জাহির করেন। সায়ন্তন বসু পরিষ্কার বলে দেন, পশ্চিমবঙ্গকে কোনভাবেইও বিভাজন করা হবে না। বঙ্গভঙ্গ চান না তিনি, বঙ্গভঙ্গ চায় না বিজেপি। কারণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা গড়ে দিয়ে গিয়েছেন, তাঁর তৈরি করা বাউন্ডারির বাইরে আমরা যাব না। কেউ দাবি তুলতে পারেন, কিন্তু আমাদের পার্টি লাইনই হল বঙ্গের বর্তমান সীমানা রক্ষা করা। বিজেপি সেটাই করে যাবে।












Click it and Unblock the Notifications