দিলীপ ঘোষ সাংগঠনিক পদ হারালেন, ২৪-এর ভবিষ্যৎ বুমেরাং হবে না তো বিজেপির
বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল পদচ্যুত হলেন দিলীপ ঘোষ। নামের পাশে এতদিন সর্বভারতীয় সহসভাপতি লেখা হচ্ছিল, সেই তকমাটাও এখন আর রইল না। কিন্তু কেন দিলীপ ঘোষের মতো সংগঠকের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হল? সাংগঠনিক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলার বুকে বুমেরাং হবে না তো? সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে।
বিজেপির সফলতম রাজ্য সভাপতি ধরা হয় তাঁকে। দিলীপ ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাংলায় উত্থান হয়েছিল বিজেপির। ২০১৮-র নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপি তাক লাগিয়ে দেওয়া ফল করেছিল। ২ থেকে লাফিয়ে ১৮ সাংসদে পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপি। তারপরই শুরু হয়েছিল ২০২১-এ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা।

২০২১-এও দিলীপের নেতৃত্বে বাংলায় নির্বাচনের লড়েছিল বিজেপি। 'আব কি বার, ২০০ পার'- এই স্লোগান তুললেও বিজেপির পরিবর্তনের স্বপ্ন ধাক্কা খায় ঠিকই, কিন্তু তিনজন বিধায়ক থেকে বেড়ে ৭৭ জন বিধায়ককে নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়ে দাঁড়ানো কিন্তু সংখ্যার বিচারে ব্যর্থতা বলা যায় না।
দিলীপ ঘোষের সময়ে ১৮ জন সাংসদ ও ৭৭ জন বিধায়ক পেয়েছে বিজেপি। এহেন রাজ্য সভাপতিকে একুশের ব্যর্থতার তকমা সেঁটে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পদ থেকে। দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল তরুণ তুর্কি সুকান্ত মজুমদারকে। আর দিলীপ ঘোষ পেয়েছিলেন সর্বভারতীয় সহসভাপতির পদ।
নামে বড়ো হলেও আদতে গুরুত্বহীন বা অকাজের পদ হল সর্বভারতীয় সহসভাপতি। এখন সেই পদটি থেকেও দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে দেওয়া হল। ভবিষ্যতে তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে সর্বভারতীয় সহসভাপতির গালভরা পদটি চলে যাওয়ায় যে বিজেপির একাংশ ধাক্কা খাবে তা বলাই যায়!
এমনিতেই বিজেপির আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকট। আদি-নব্যের মধ্যে তৎকালদের একটা অংশও রয়েছে। কোন্দল লেগেই রয়েছে। আদিরা গুরুত্ব না পাওয়ায় অনেকে বসে গিয়েছেন বলে প্রায়শই শোনা যায়। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস তথা সঙ্ঘের প্রচারক দিলীপ ঘোষকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া আদি বিজেপিকে ধাক্কা দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বছর ঘুরলেই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। তার আগে দিলীপ ঘোশের মতো দক্ষ সংগঠককে পদচ্যুত করা তাই বুমেরাং হতে পারে বিজেপির। বিজেপি যদি মনে করে একদিকে সুকান্ত, অন্যদিকে শুভেন্দুর উপর ভরসা করেই ভোট বৈতরণী পার হয়ে যাবে, তা কিন্তু সমীচিন হবে না। কারণ বিজেপিতে লাল মাটির দিলীপ ঘোষেরও দরকার ছিল।

বিজেপিতে রাহুল সিনহা যেমন পদহীন রয়ে গিয়েছেন, দিলীপ ঘোষেরও অবস্থা তেমনটাই হল। তিনি এখন শুধুই সাংসদ। সাংসদ হিসেবে এখন তাঁর উপর কীভাবে সংগঠন ও প্রচারের ভরা দেবে বিজেপি, সেটাও প্রশ্নের। তিনি এই মুহূর্তে সংগঠনের কেউ নন।
আগে রাজ্য সংগঠনে না হলেএ সর্বভারতীয় যে পোস্ট ছিল দিলীপ ঘোষের, তাতে তিনি গুরুত্ব পেতেন। এখন সেটাও রইল না। দিলীপ অনুগামীরা তা কেমনভাবে নেবেন, তার উপর নির্ভর করবে বিজেপির ভাগ্য। দিলীপকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া বিজেপির ভোটব্যাঙ্কেও আঘাত নেমে আসতে পারে, আদিরা মুখ ঘোরাতে পারে আবারও, সেই সম্ভাবনা থেকেই যায়!












Click it and Unblock the Notifications