'দিদিকে বলো': কাটমানি ইস্যুতে যখন গ্রামবাংলা উত্তাল, তখন এই বিকেন্দ্রীকরণের কৌশল কাজে দেবে তো?
দু হাজার একুশের দিকে লক্ষ্য রেখে ঝাঁপালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার, ২৯ জুলাই, নজরুল মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ঘোষণা করলেন এক বিরাট জনসংযোগ কর্মসূচি।
দু হাজার একুশের দিকে লক্ষ্য রেখে ঝাঁপালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার, ২৯ জুলাই, নজরুল মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ঘোষণা করলেন এক বিরাট জনসংযোগ কর্মসূচি। এই মারফত আগামী ১০০ দিনেই দলের এক হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে পৌঁছতে হবে ১০,০০০-এরও বেশি গ্রামে; রাত কাটাতে হবে সেখানে। যদিও মুখে মমতা বলেছেন যে এই পরিকল্পনার সঙ্গে নির্বাচনের কোনও যোগ নেই কিন্তু রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির চাপেই যে তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিশাল কর্মসূচি নিয়েছে, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।

মানুষের সঙ্গে নেতারা সময় কাটাবেন
মমতার এই কর্মসূচির নাম 'দিদিকে বলো'। তৃণমূলস্তরের নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং দলনেত্রী তাঁদের সবাইকে বিশদে অবহিত করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনামাফিক, তৃণমূলের নেতারা গ্রামগঞ্জে গিয়ে সেখানকার মানুষের কথা শুনবেন, তাঁদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করবেন, এমনকি রাতও কাটাবেন। দলের নেতারা পরে ফিরে মমতাকে রিপোর্ট দেবেন। জনতা যাতে সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছে যেতে পারে নিজেদের অভিযোগ নিয়ে, তার জন্যেও মমতা একটি দূরাভাস নম্বর দিয়েছেন -- ৯১৩৭০৯১৩৭০। পাশাপাশি, ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডট দিদিকে বলো ডট কম নামে একটি ওয়েবসাইটের কথাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন জানিয়েছেন। কিছুদিন আগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে একটি হেল্পলাইন চালু করেছেন। অর্থাৎ, জনবিচ্ছিন্নতার কথা আন্দাজ করতে পেরে এবারে তৃণমূল নেতৃত্ব ঝাঁপিয়েছে হারানো জমি উদ্ধারের জন্যে।

মমতার এই রাজনৈতিক পন্থা অভিনব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির স্টাইলে এই কর্মসূচি এক অভিনব উদ্যোগ। এযাবৎ তৃণমূলের সবচেয়ে বড় 'পাবলিক রিলেশন্স' করার হাতিয়ার ছিলেন মমতা নিজেই। রাজনীতিতে যেভাবে তাঁর উত্থান, তাতে কোনওদিন জনসংযোগ নিয়ে তাঁকে আলাদা করে চেষ্টা করতে হয়নি। এক সময়ে জনবিচ্ছিন্ন বামেদের মমতা তাঁর জনসংযোগের জোরেই উৎখাত করেছেন বলা যায়। সিঙ্গুর-নন্দগ্রামের আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠতে তাঁকে কোনও উপদেষ্টার সাহায্য নিতে হয়নি।

ক্ষমতায় আসার আট বছরে মমতাকে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে
কিন্তু ক্ষমতায় আসার মাত্র আট বছরের মধ্যে তাঁকে এখন কৌশলী হতে হচ্ছে জনসংযোগকে জোরদার করতে। তিন বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে যে তরাজ্যের ২৯৪টি আসনে তিনিই প্রার্থী। নির্বাচনের সময়ে নারদ কেলেঙ্কারি ঘটার পরেও একা লড়ে তিনি দলের জন্যে ২০০-র বেশি আসন জিতে দেখিয়ে দেন। কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভায় বড় ধাক্কা খেয়ে মমতাকে এখন দু'পা পিছোতে হচ্ছে। হয়তো তিনি সেটা তাঁর উপদেষ্টাদের কথায় করছেন। কিন্তু কাটমানি বিতর্কে যখন রাজ্যের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ উত্তাল, তখন গ্রামে গিয়ে 'দিদিকে বলো' কর্মসূচির রূপায়ণ ফলপ্রসূ হবে তো?












Click it and Unblock the Notifications