মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই কি মন্ত্রিসভায় থাকলেন বনগাঁর শান্তনু ঠাকুর ?
নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় বার জায়গা হল শান্তনু ঠাকুরের। গতকাল রবিবার শান্তনু ঠাকুর শপথবাক্য পাঠ করেছেন রাইসিনা হিলে। তিনি কোন দফতর পাবেন? সেটি জানার জন্য কালবিলম্ব অপেক্ষা।
গতবার কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। তবে দ্বিতীয় বার মন্ত্রিসভায় রদবদ করার পরে তাঁর সুযোগ হয়। এ বারে প্রথম থেকেই তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন। এর কি কোনও বিশেষ কারণ রয়েছে? মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

বাংলায় মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির পক্ষে রয়েছে। একথা কার্যত পরিষ্কার। তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে রাখতে সক্ষম। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারেনি। গেরুয়া শিবিরের দিকেই এবারও মতুয়ারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সন্তান শান্তনু ঠাকুর। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তিনি মতুয়াদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন শান্তনু। বড় ভোটের ব্যবধানেই এবার জয় পেয়েছেন তিনি। পাশের রাণাঘাট লোকসভাও কেন্দ্র বিজেপি দিকে রাখতে পেরেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের লক্ষ্য নিয়েই কি এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি? প্রশ্ন উঠছে।
বনগাঁ, রাণাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিধানসভাগুলিতে বিজেপির যথেষ্ট প্রভাব বেশি। একতরফা ভাবে ২০২১ সালে এই সব বিধানসভা গুলিতে বিজেপি জয় পেয়েছিল। সামনেই ২৬ সালের বিধানসভা ভোট। এবার আরও বেশি লড়াই হবে জোড়া ফুল ও পদ্মের। একথা এক বাক্যে মেনে নিতেই হয়।
শান্তনু ঠাকুর শুরু থেকে মন্ত্রী থাকলে বিজেপির প্রতি মতুয়াদের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির দিকেই আরও বেশি করে ঝুঁকবে। এ কথা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০২৬ বিধানসভা বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলায় ভালো ফল করতেই হবে। সেখানে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে রাখতে মরিয়া বিজেপি।
ঠাকুরনগরের ঠাকুর বাড়ির প্রভাব গোটা দক্ষিণবঙ্গের মতুয়াদের উপর অত্যন্ত বেশি। সেই ঘরের ছেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। বাংলার মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে তার প্রভাব পরা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। সেই চিন্তা করেই নরেন্দ্র মোদী আস্তিন থেকে শুরুতেই তাস বের করলেন? একথাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications