মৃত্যুর ২২ ঘণ্টা পরেও বাড়িতেই পড়ে থাকল বৃদ্ধ বাবার মৃতদেহ! কী ঘটেছে
মৃত্যুর ২২ ঘণ্টা পরেও বাড়িতেই পড়ে থাকল বৃদ্ধ বাবার মৃতের দেহ! কী ঘটেছে
ছেলে বউয়ের গাফিলতিতেই মৃত্যু বাবার। মৃত্যুর ২২ ঘণ্টা পরেও বাড়িতেই পড়ে থাকল বৃদ্ধ বাবার মৃতদেহ। করোনা সন্দেহে বৃদ্ধের দিকে ফিরেও তাকাল না ছেলে বউ।

কী ঘটেছে
এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বসিরহাটের ট্যাঁটরার বাসিন্দারা।
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন হৃদ ও সুগারের সমস্যা নিয়ে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন পেশায় মুদিখানা দোকানের কর্মচারী বছর ৬৫ র কিশোর সাহা। তারওপর গত এক সপ্তাহের বেশি জ্বর সেই সঙ্গে কাশি ছিল তাঁর। কিন্তু বাবার অসুস্থতার কথা পুরোপুরি লুকিয়ে যায় ছেলে-বউ।

এরপর কী হয়?
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী থেকে শুরু করে সরকারি স্বাস্থ্য দফতর সবার কাছেই অসুস্থতার কথা অস্বীকার করে তারা। এই অবস্থায় পরিবারের গাফিলতিতেই ঐ বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি প্রতিবেশীদের।

স্থানীয়জের দাবি
স্থানীয়রা আরও জানান, ২২ ঘণ্টা আগে যে বাবা মারা গিয়েছে সে খবরও জানতো ছেলে বউ। পরের ঘটনা জানাজানি হতেই ঘটনার কথা স্বীকার করেন বসিরহাটের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধার ছেলে শুভজিৎ সাহা ও বউয়ের রিনা সাহা।

গাফিলতি!
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর পরিমল মজুমদার, কিছু কর্মী সমর্থক নিয়ে পিপিই কিট পরে বৃদ্ধের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেন।
পরিমল বাবু জানান, এই ব্যক্তি সাত দিন জ্বর থাকার পর বাড়িতে মারা যান, সম্পূর্ণ পরিবারের গাফিলতিতেই কোনরকম চিকিৎসা হয়নি।

পরবর্তী পর্যায়ে যা হয়েছে..
এমনকি করোনা সন্দেহে তার বাড়িতে কোন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব কোন সমাজসেবী, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, গ্রামের কোন মানুষ তার বাড়িতে দেখতেও যায়নি। এমনকি শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার সময় তার ছেলে শুভজিৎকে বারবার বলা সত্ত্বেও সে বাবার দেহ সৎকার করতে অস্বীকার করে। আমরা কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই আমার ওয়ার্ডের কিছু ছেলেদের নিয়ে আমরা মৃতদেহ সৎকার করি।
মৃতের ছেলে স্থানীয় সমাজকর্মীদের নিয়ে বসিরহাট শ্মশানে মরদেহ সৎকার করা হয়।

সন্দেহ রয়েছে
ঘটনায় আরও একবার মানবিকতার প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে, ছেলে ও বৌ ভূমিকা নিয়েও। বাবার দেহ সরকার তো দূরের কথা, করোনা সন্দেহে চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়নি, এমনকি মারা যাবার পরেও শ্মশানে যেতে অস্বীকার করেন গুণধর ছেলে।












Click it and Unblock the Notifications