দীপাবলীর রোশনাইয়ের মাঝেও অন্ধকারে বালুরঘাটের মৃৎশিল্পীরা
দীপাবলী প্রায় চলে এসেছে। দীপাবলী মানেই আলোর রোশনাই। হাতে গোনা আর মাত্র ৫ দিন। তারপরই সারা দেশ সহ আপামর বাঙালির ঘর আলোর রোশনাইতে ঝলমলে করে উঠবে।
দীপাবলী প্রায় চলে এসেছে। দীপাবলী মানেই আলোর রোশনাই। হাতে গোনা আর মাত্র ৫ দিন। তারপরই সারা দেশ সহ আপামর বাঙালির ঘর আলোর রোশনাইতে ঝলমলে করে উঠবে। অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে আলো দিয়ে সেজে উঠবে চারদিক। কিন্তু যাঁদের মাটির প্রদীপে সারা দেশ এতদিন ঝলমল করত, সেই মৃৎশিল্পীদের ঘরেই এখন অন্ধকার। আর তার জন্য দায়ি বৈদ্যুতিক মোমবাতি, টুনি লাইট।

একটা সময় ছিল যখন দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ ব্যবহৃত হত। মাটির প্রদীপে সরষের তেল দিয়ে বাড়ির উঠোন থেকে দেওয়ালে জ্বালিয়ে দেওয়া হত। সেই সময় প্রদীপের চাহিদাও ছিল তুঙ্গে। মৃৎশিল্পীরা সেই সময় নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে প্রদীপ বানাতেন সারা দিন ধরে। তবে বছর কয়েক ধরে প্রদীপের চাহিদা কমে চাহিদা বেড়েছে টুনি লাইটের। হঠাৎই বাজারে ছেয়ে যায় চিনে তৈরি টুনি বাল্বে। ধীরে ধীরে বাজার দখল করতে থাকে চিনা সামগ্রী। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমানে এলইডি আলো বাজার দখল করতে শুরু করে। সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়0 মাটির প্রদীপ থেকে। শুধুমাত্র নিয়ম পালনের জন্য কিছু প্রদীপ কেনেন কিছু সাধারণ মানুষ। তবে তা না নেওয়ার সমানই।
হাজার চেষ্টা করেও মৃত প্রায় মাটির প্রদীপের চাহিদা আগের জায়গায় ফেরানো সম্ভব হয়নি। বাজারে চাহিদা কম থাকলেও মূলত বিক্রির আশা নিয়ে এবারও বালুরঘাটের মৃৎশিল্পীরা তৈরি করছেন মাটির প্রদীপ। এক মৃৎশিল্পীর কথায় ছোট বেলা থেকেই তারা মাটির প্রদীপ বানাচ্ছেন। তবে আগে থেকে বিক্রি কমেছে অনেকটাই। চিনের টুনিতে বাজার ভরে যাওয়াতে মাটির প্রদীপের চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে প্রতিবছরের মতো এবছরও বিক্রির আশায় তৈরি করছেন মাটির প্রদীপ। ওই মৃৎশিল্পীর কথায় নতুন প্রজন্মের ছেলেরা আর এই কাজ করতে চাইছেন না। টুনির ঝলমলে আলোর রোশনাইতে এবারও মাটির প্রদীপের টিমটিমে আলো মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে বলেই মনে করছেন বালুরঘাটের মৃৎশিল্পীরা।












Click it and Unblock the Notifications