মদের ভাটি, জুয়ার ঠেক বন্ধ করলেই ডাকাতি বাড়বে, বললেন মন্ত্রীমশাই

সোজা উত্তর। মদের ভাটি, সাট্টা-জুয়ার ঠেক বন্ধ করে দিলেই বাড়ে!
রসিকতা নয়, খোদ মন্ত্রীমশাই এমনটাই মনে করেন। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এমন মন্তব্যে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে।
শনিবার রাতে হাবরার হাটথুবায় চাল ব্যবসায়ী দীপক দত্তের বাড়িতে ডাকাত পড়েছিল। তখন দীপকবাবু বাড়িতে ছিলেন না। ডাকাতরা তাঁর স্ত্রী দেবযানী দত্তের ওপর চড়াও হয়। আলমারির চাবি চায়। কিন্তু তিনি তা দিতে না চাওয়ায় ডাকাতরা মেরে ওই মহিলার মাথা ফাটিয়ে দেয়। তার পর আলমারি খুলে নগদ দেড় লক্ষ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেয়। নগদ-জিনিসপত্র সব মিলিয়ে চার লক্ষ টাকার ডাকাতি হয়েছে। জখম দেবযানীদেবীকে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই খবর পেয়ে রবিবার দীপক দত্তের বাড়িতে আসেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সব দেখেশুনে গম্ভীর মুখে মন্তব্য করেন, "বামফ্রন্টের আমলে প্রচুর মদের ভাটি, সাট্টা-জুয়ার ঠেক তৈরি হয়েছিল। সমস্যা হল, এই ঠেকগুলো ভাঙলে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়বে।" বেফাঁস বলে ফেলেছেন বুঝতে পেরে পরে বলেন, "আগামীদিন এ ধরনের দৌরাত্ম্য আমরা রুখে দেব। পুলিশকে বলব সতর্ক থাকতে।" একই সঙ্গে তিনি বলেন, জখম দেবযানী দত্তের চিকিৎসার দায়িত্ব তিনি নিজে বহন করবেন।
সোমবার অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে আরও এক দফা সাফাই দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। তিনি বলেছেন, "হাবরা নয়, দশ বছর আগে গাইঘাটার প্রসঙ্গে ওই কথা বলেছিলাম। দেখা গিয়েছিল, গাইঘাটায় মদের ভাটি, জুয়ার ঠেক চলত। পুলিশ কড়াকড়ি শুরু করতেই ওখানে ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে গেল। কারণ রুজি-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছি। অপরাধীদের সমর্থন করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।"
সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অমিতাভ নন্দী ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, "সব অপরাধীই এখন তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রয়ে রয়েছে। উনি এমন মন্তব্য করবেন, এটাই স্বাভাবিক।" সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য বলেছেন, "মন্ত্রীমশাই সোজা কথায় করে খাওয়ার কথা বলতে চেয়েছেন। চোলাই বেচে, জুয়ার ঠেক চালিয়ে যারা করে খাচ্ছিল, তারা যে ডাকাতি করেও করে খাবে, এটাই ওঁর মত। এ হল নতুন ধরনের শিল্প।" স্থানীয় বিজেপি নেতা শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, "বহুদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে এখানে জুয়ার কারবার চলছে। জ্যোতিপ্রিয়বাবু তাই অপরাধীদের আড়াল করে কথা বলবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।" কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, "তিন বছরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। তাই অসামাজিক পদ্ধতিতে রোজগারের পরামর্শ দিচ্ছে।"












Click it and Unblock the Notifications