সর্বোচ্চ ১০০ কিমি বেগে বইবে ঝড়! বাঁধা হল একের পর এক লঞ্চ, বেড়ি পড়ানো হচ্ছে প্লেনের চাকাতেও
শেষ মুহূর্তে গতিপথ বদলে গেল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের (cyclone yaas)। এদিন আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হবে ওড়িশায়। তারপর তা পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার বেশ কিছু অংশ ছুঁয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।
শেষ মুহূর্তে গতিপথ বদলে গেল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের (cyclone yaas)। এদিন আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হবে ওড়িশায়। তারপর তা পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার বেশ কিছু অংশ ছুঁয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইয়াস এই রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরই সব থেকে বেশি আঘাত হানতে চলেছে। তবে ঝড়ের প্রভাব কলকাতা-হাওড়াতে ভয়ঙ্কর না হলে ভালোই পড়বে বলে আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের।

৯০ থেকে ১০০ হতে পারে ঝড়ের গতিবেগ
কলকাতা এবং হাওড়াতে ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিমি হতে পারে বলে খবর। এই অবস্থায় ভালোই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানালেন কাল থেকে ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার নজরদারি চলবে। ইতিমধ্যে উপকূল এলাকা থেকে ১০ লক্ষ মানুষকে সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি জানিয়েছেন রাজ্যের ২০ জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে ৫১টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

লোহার চেনের সাহায্যে বেঁধে রাখা লঞ্চগুলি
ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াশ' এর সতর্কতা হিসেবে হাওড়া জেটিঘাটেও নেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। লঞ্চগুলিকে রশির সাহায্যে এবং লোহার চেনের সাহায্যে বেঁধে রাখা হয়েছে। কর্মীদের যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপদ মোকাবিলার কাজে। এর আগেও আয়লা, বুলবুল, আমফান প্রমুখ ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা যেভাবে করা হয়েছিল সেইভাবেই আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ এর মোকাবিলা করা হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজে কর্মীরা প্রস্তুত থাকছেন। লাইফ জ্যাকেট রাখা হয়েছে। সরকারি যা নির্দেশ আসবে এবং দফতরের আধিকারিকরা যা নির্দেশ দেবেন সেই অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ এর মোকাবিলায় কাজে নামা হবে।

রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ থেকে ১২ জন কর্মী আছেন
জেটিঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে লঞ্চ কর্মী প্রবীর কুমার হাইত বলেন, এটি আমাদের চতুর্থ অভিজ্ঞতা। এর আগে আয়লা, বুলবুল, আম্ফান হয়ে গিয়েছে। এবার ধেয়ে আসছে ইয়াস। আমরা পুরনো এবং নতুন দড়ি দিয়ে ভালোভাবে লঞ্চগুলোকে বেঁধে রেখেছি। এক একটা লঞ্চের সাতজন করে কর্মী আছেন। এদিন সব কর্মী উপস্থিত থাকবেন। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ থেকে ১২ জন কর্মী থাকেন। তাঁরা সকলেই উপস্থিত থাকবেন। এদিন ব্যবস্থা থাকবে লাইভ বোট, লাইভ জ্যাকেটের। অফিসের সকল কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। প্রশাসনের নির্দেশমতো কাজ হবে।

বেঁধে রাখা হয়েছে ট্রেনের চাকাও
১০০ কিমি বেগে ঝড় বইবে। প্রবল এই হাওয়াতে লাইন ধরে এগিয়ে যেতে পারে ট্রেন গুলি। আর সে কারণে বেঁধে রাখা হয়েছে। লাইনের সঙ্গে ট্রেনের চাকা বেঁধে রাখা হয়েছে। যাতে না এগিয়ে যায়। বেঁধে রাখা হচ্ছে বিমানের চাকাও। যেগুলি আপাতত উড়বে না সেগুলিকে বেঁধে রাখা হচ্ছে।

কোন জেলাতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি
শেষ মুহূর্তে গতিপথ বদলে গেল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের (cyclone yaas)। এদিন আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হবে ওড়িশায়। তারপর তা পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার বেশ কিছু অংশ ছুঁয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইয়াস এই রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরই সব থেকে বেশি আঘাত হানতে চলেছে।আবহাওয়া দফতরের তরফে এর আগে পূর্বাভাস হিসেবে বলা হয়েছিল ল্যান্ডফলের পরে তা পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে আঘাত হানতে পারে। এদিন আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে ল্যান্ডফলের পরে পশ্চিমবঙ্গের যেসব জেলাগুলি সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রভাব পড়বে। তবে এদিন জানানো হয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ওড়িশার জগৎসিনপুর. কেন্দ্রপাড়া, বালাসোর এবং ভদ্রক জেলা।












Click it and Unblock the Notifications