ঘূর্ণিঝড় মোখা কোন অভিমুখে ধেয়ে আসবে, ল্যান্ডফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আইএমডির পূর্বাভাসে
ঘূর্ণিঝড় মোখার অভিমুখ ও ল্যান্ডফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিল আইএমডি। আইএমডি পূর্বাভাসে জানিয়েছে ৬ মে ঘূর্ণাবর্ত তৈরির পর তা শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপ ও পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হলে তা উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে চলেছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। ওই অংশে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। আইএমডি অনুসারে ৬ মে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। তা ৮ মে নিম্নচাপে পরিণত হবে। কিন্তু এরপর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে এই সময়ে সমুদ্রের পরিবেশ নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার অনুকূল। ইতিমধ্যে গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম, ইউএস ওয়েদার ফোরকাস্ট মডেল ও ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তারপর আইএমডির এই বিবৃতিতে অনেকটাই স্পষ্ট মে-মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নামকরণের পদ্ধতি অনুযায়ী এই ঝড়ের নাম হবে মোখা। ইয়েমেন এই নাম দিয়েছে। আইএমডির মহানির্দেশক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, এটি একটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। আমরা এদিকে নজর রাখছি। সেইমতো আপডেটগুলি নিয়মিত দেওয়া হবে।

সম্প্রতি পর পর তিন বছরে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় এই মে মাসেই আছড়ে পড়েছে। ২০২০ সালে আম্ফান, ২০২১ সালে অশনি ও ২০২২ সালে ইয়াস আছড়ে পড়ে। ওই অঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মে মাসে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। তবে আইএমডি এখনও ঘূর্ণিঝড় মোখার গতিবিধি নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেয়নি।
তবে আবহবিদদের বেশিরভাগই ধারণা, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপকূলে এর প্রভাব উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে ওড়িশা সরকার। পূর্বাভাস অনুসারে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী সপ্তাহে মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে দেয়ে আসতে পারে।
আবহবিদরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে ধাবিত হয়ে ধীরে ধীরে ভারতের উপকূলরেখার কাছাকাছি আসবে ঘূর্ণিঝড় মোখা। বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ঘূর্ণাবর্তা তৈরি হয়ে ৯ মে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।
আইএমডির পূর্বাভাস দিয়েছে, ঝড়টি ১১ মে পর্যন্ত পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট পূর্বাভাস দিয়েছে ১১ মে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার আইএমডির পক্ষ থেকে টুইট করে দেওয়া হয় আপডেট।

আইএমডি জানিয়েছে, এই নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সিস্টেমটি নিম্নচাপে পরিণত হলে এ ব্যাপারে বিশদে জানা যাবে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্তটি তৈরি হলে, তা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে ভারতীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে পারে।
জিএফএস পূর্বাভাসে ১২ মে ঘূর্ণিঝড় মোখা মায়ানমারের আরাকানা প্রদেশে উপকূলে আঘাত করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়ছিল। এর ফলে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঝড়ের প্রভাব পড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকছে না। কিন্তু কিছু বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা জানায় তা ভারত-বাংলাদেশের উপকূলের দিকে আসার সম্ভাবনাই বেশি।
এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে আম্ফানের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছিল। এবার আইএমডি প্রাথমিকভাবে পূর্বাভাস দিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোখা তৈরি হলে তা ভারতীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। উল্লেখ্য, আম্ফানের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক পূর্বাভাস বলা হয়েছিল ঝড়টি মায়ানমার বা বাংলাদেশের দিকে যাবে। কিন্তু পরে তা বাংলার উপকূলে আসে।












Click it and Unblock the Notifications