সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আলোচনায় বসলেন সিভি আনন্দ বোস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কী হল সেই বৈঠকে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে বৈঠক হল। এক ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাত প্রায়শই লক্ষ্য করা গিয়েছে। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে এদিন তাঁরা দুজনে মুখোমুখি হয়েছিলেন।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য- রাজভবন সংঘাত চলছেই৷ সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে। দুই পক্ষই নিজের বক্তব্যে অটল রয়েছে। এদিনে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নেই এই মুহূর্তে। শীর্ষ আদালত দুই পক্ষের প্রতিই নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সমস্যার সমাধানে দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সোমবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে টেলিফোন করেন। এদিন তিনি সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিলেন। রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে আজই বিকেলের পর সময় দেন।
নির্দিষ্ট সময়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে এসে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা চলে। আলোচনায় কোনও দিকই কি উঠে এল? সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে? অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমস্যা, স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে কি সমাধানসূত্র মিলল? এই প্রশ্ন উঠেছে।
একঘণ্টা মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো আলোচনা করার জন্য এখানে এসেছিলাম। এক ঘণ্টা ধরে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় আজকের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এর বেশি কিছু আর বলতে পারব না। সব কিছু বাইরে বলা যায় না।"
অন্য কোনও বিষয়েই মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিন রাজ্যের ভোটের ফল নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়ে আর কিছু কথা না বলেই তিনি গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। সোমবারের বৈঠক সম্পর্কে রাজ্যপালের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজভবনও এই বিষয়ে কোনও বার্তা খবর লেখা পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল উপহার দিয়েছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর আসার কথা স্থির হতেই রাজভবন থেকে কলকাতার বিখ্যাত মিষ্টির দোকানে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকেই ডালা আসে৷ সেখানে মিষ্টি সাজানো ছিল। ওই উপহার রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।
রাজ্যপাল- মুখ্যমন্ত্রী সংঘাত এই একবছরে একাধিক বার দেখা গিয়েছে। উপাচার্য নিয়োগ প্রসঙ্গে রাজ্যপালও কড়া মনোভাব রেখেছেন সব সময়। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও লাগামহীনভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন সাম্প্রতিক অতীতে।












Click it and Unblock the Notifications