বাধ্য হয়ে কাটমানির কয়েক লক্ষ টাকা ফেরত দিলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা
কাট মানির টাকা ফেরত দিলেন বীরভূম জেলার এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।
কাটমানির টাকা বাধ্য হয়ে ফেরত দিলেন বীরভূম জেলার এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। মঙ্গলবার সকালে সিউড়ি দুই নম্বর ব্লকের কোমা এলাকায় চাতরা গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ত্রিলোচন মুখার্জি গ্রামবাসীদের চাপের মুখে পড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা ফেরত দেন। একশ দিনের প্রকল্পের কাজ করার পরে উপভোক্তাদের টাকা এতদিন ওই নেতা জোর করে নিজের কাছে রেখে দিত। এবার গ্রামবাসীদের চাপের মুখে পড়ে তিনি এই টাকা তাদের দিলেন।

কাটমানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজ্যের নানা জায়গায় টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান হচ্ছে। আর এই প্রথম রাজ্যের কোন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এই টাকা ফেরত দিলেন।
ত্রিলোচন মুখার্জি বা এলাকার কোন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এই টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেছেন। তবে এই এলাকার বিজেপি নেতা সোমনাথ মাল বলেন, " এতদিন সব টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নিজের কাছে রেখে দিত। গ্রামবাসী তাদের কাজের টাকা চাইতে গেলে তিনি তার ইচ্ছা মত সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিতেন। এদিন চাপের মুখে পড়ে তিনি এই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন "
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন যে তাদের দলের কেউ দুর্নীতির সাথে যুক্ত নন। যদিও সোমবার রাজ্য পুলিশ জানায় যে কারোর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।
আর এই প্রথম রাজ্যের কোন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা টাকা ফেরত দিলেন।
জানা গিয়েছে, এই চাতরা গ্রামে একশ দিনের প্রকল্পে একটি নর্দমা সংস্কারের জন্য মাস কয়েক আগে টাকা আসে ও কাজ হয়। কিন্তু ত্রিলোচন মুখার্জি গ্রামবাসীদের টাকা পুরোটাই ব্যাঙ্ক থেকে তুলিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।
গ্রামের বাসিন্দা যাদব মন্ডল, আরতি মালরা জানান, আগেও এই নেতা তাদের কাজের টাকা নিজের কাছে রেখে দিতেন। টাকা চাইতে গেলে ধমকি দিয়ে তার ইচ্ছা মত ২০০ বা ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিতেন। " এই প্রথম আমরা এত টাকা পেলাম। এই টাকাটা তিনি নিজের কাছে রেখে দেন। আমাদের দিতে চাননি। আমরা এক সাথে টাকা ফেরত চেয়ে চাপ দিতে তিনি এখন এই পরিস্থিতিতে টাকা ফেরত দিলেন।"
গত কয়েক বছরে এই এলাকায় বিজেপি প্রভাব বাড়িয়েছে তাই এখন রাজ্য জুড়ে চলা কাট মানির টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভের জেরে টাকা দিতে বাধ্য হলেন এই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা।
জেলা শাসক মৌমিতা বসু গোদারা বলেছেন যে এই ধরনের কোনো অভিযোগ এলে তারা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।












Click it and Unblock the Notifications