সিপিএম সরতে চাইছে ‘দিদিভাই-মোদীভাই’ তত্ত্ব থেকে! এবার প্রচার পরিকল্পনার কোন নীতি
বামেরা এবার শুধু কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই ক্ষান্ত থাকেনি, সঙ্গী করেছিল আব্বাসের আইএসএফকেও। কিন্তু তা করেও বিধানসভায় অস্তিত্ব টেকাতে তাঁরা ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতার কারণ কী?
বামেরা এবার শুধু কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই ক্ষান্ত থাকেনি, সঙ্গী করেছিল আব্বাসের আইএসএফকেও। কিন্তু তা করেও বিধানসভায় অস্তিত্ব টেকাতে তাঁরা ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতার কারণ কী? তবে কি হারের জন্য নির্দিষ্ট কোনও নীতিই দায়ী? বুধবার সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক তা নিয়েই সরগরম হবে।

তৃণমূল ও বিজেপিকে একাসনে রেখে আক্রমণে বুমেরাং
সিপিএম তথা বামফ্রন্ট এবার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তারা কাকে প্রধান শত্রু হিসেবে বাছবে। একুশের বিধানসভায় প্রচার চালাতে গিয়ে এই বিষয়টিতেই খেই হারিয়ে ফেলেছে বামেরা। তারা তৃণমূল ও বিজেপিকে একাসনে রেখে আক্রমণ শানিয়েছে। তা করতে গিয়ে নিজেরাই হারিয়ে গিয়েছে। মানুষকে বোজাতেই পারেনি তাঁরা কার বিরোধিতা করছে।

বামেরা প্রচারে নিশানা করছিল বিজেমূলকে
বামেরা এবার প্রচারে তুলে ধরতে চেয়েছিল, তৃণমূল আর বিজেপি ভিন্ন কিছু নয়। উভয়েই এক। তাই তাঁরা প্রচারে নিশানা করছিল বিজেমূলকে। তা করতে গিয়ে মানুষ বামেদের উপর ভরসা হারিয়েছেন। মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে বিজেপিকে আটকানো সিপিএমের প্রধান লক্ষ্য নয়। তাই তারা তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছে।

ভোটের ফলের পর বোধোদয় সিপিএমে
সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের আগে নেতৃত্ব মনে করছে ভুল ছিল পরিকল্পনায়। বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা ভাবে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ত। ভোটের ফলের পর সিপিএম মনে করছে, এবার তাঁদের প্রচার পরিকল্পনা বদলের সময় এসেছে। সবার আগে বুঝতে হবে মানুষ কী চায়। মানুষের কাছে গ্রগণযোগ্যতা বাড়ানোই আসল। আমরা সেই কাজেই ব্যর্থ হয়েছি।

তৃণমূল ও বিজেপি থেকে সমদূরত্ব নীতি বিসর্জন!
সিপিএম রাজ্য কমিটি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে, তৃণমূল ও বিজেপি থেকে সমদূরত্ব নীতি এবার বিসর্জন দিতে হবে। কেননা এই নীতি মানুষ গ্রহণ করেননি। বুধবার সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হবে। সেই আলোচনা থেকে বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোন নীতি নিয়ে তাঁরা চলবে, তা স্থির হতে পারে।

সিপিএম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে বৈঠকে
সিপিএম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করার পর তা বামফ্রন্টের বৈঠকেও আলোচনা হবে। মোট কথা, সিপিএম তথা বামেরা যে আর মোদীভাই-দিদিভাই তত্ত্বে আটকে থাকবে না, তা স্পষ্ট। কিন্তু এরপর বামেরা কোন নীতি নিয়ে চলবে, তা ঠিক হবে পরবর্তী বৈঠকে। নতুন পরিকল্পনায় তাঁরা মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে।












Click it and Unblock the Notifications